ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলতি সেপ্টেম্বরেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ধাপে ধাপে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। ইসি কমিশনার বলেন, চলতি মাসেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানানো সম্ভব হবে। এ নিয়ে কমিশনের প্রস্তুতির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আচরণবিধি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানান আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবর্তিত বেশ কিছু বিধান স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার জানান, আচরণবিধির গেজেট নোটিফিকেশন আগামী দু-এক দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হতে পারে।

নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে নভেম্বর ও ডিসেম্বরের শিক্ষা কার্যক্রমকে বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এ দুই মাসে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা, বৃত্তি পরীক্ষা, টেস্ট ও প্রি-টেস্ট পরীক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা থাকে।

এ ছাড়া ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয় এবং ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশ শিক্ষক। ফলে পরীক্ষা ও নির্বাচন যাতে একই সময়ে না পড়ে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কমিশন।

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, পরীক্ষার সময়গুলো এড়িয়ে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে। তবে ভোটের নির্দিষ্ট দিন-তারিখ এখনই জানানো সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে ইসি। এর অংশ হিসেবে সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার।

পাশাপাশি বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ড্রোন ব্যবহারের কথাও জানান তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনের মাধ্যমে কোনো এলাকায় পরিস্থিতির অবনতি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো সম্ভব হবে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে ভুল তথ্য ও মিসইনফরমেশন ছড়ানো ঠেকাতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সব মিলিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ধাপ শুরু করে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চলতি সেপ্টেম্বরেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল

আপডেট সময় : ১১:১০:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ধাপে ধাপে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। ইসি কমিশনার বলেন, চলতি মাসেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানানো সম্ভব হবে। এ নিয়ে কমিশনের প্রস্তুতির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আচরণবিধি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানান আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবর্তিত বেশ কিছু বিধান স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার জানান, আচরণবিধির গেজেট নোটিফিকেশন আগামী দু-এক দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হতে পারে।

নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে নভেম্বর ও ডিসেম্বরের শিক্ষা কার্যক্রমকে বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এ দুই মাসে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা, বৃত্তি পরীক্ষা, টেস্ট ও প্রি-টেস্ট পরীক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা থাকে।

এ ছাড়া ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয় এবং ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশ শিক্ষক। ফলে পরীক্ষা ও নির্বাচন যাতে একই সময়ে না পড়ে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কমিশন।

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, পরীক্ষার সময়গুলো এড়িয়ে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে। তবে ভোটের নির্দিষ্ট দিন-তারিখ এখনই জানানো সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে ইসি। এর অংশ হিসেবে সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার।

পাশাপাশি বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ড্রোন ব্যবহারের কথাও জানান তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনের মাধ্যমে কোনো এলাকায় পরিস্থিতির অবনতি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো সম্ভব হবে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে ভুল তথ্য ও মিসইনফরমেশন ছড়ানো ঠেকাতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সব মিলিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ধাপ শুরু করে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।