ঢাকা ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পুনঃনিয়োগে উত্তাল গুলিশাখালী মাদরাসা

বাগেরহাটে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পুনঃনিয়োগে উত্তাল গুলিশাখালী মাদরাসা

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের গুলিশাখালী ফাজিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে সাবেক অধ্যক্ষের পুনঃনিয়োগের প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

গত রোববার দুপুর ১২টায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একযোগে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এছাড়া বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সাবেক অধ্যক্ষের কুশপুত্তলিকা দাহ করে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

পুনঃনিয়োগ আদেশে অসন্তোষের সূত্রপাত

সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ এ.এ. বারী হাওলাদার গত ২৯ জুলাই অবসরে যান। কিন্তু অবসরে যাওয়ার পরও তিনি স্বপদে বহাল থাকার চেষ্টা করেন।

পরবর্তীতে ২ সেপ্টেম্বর ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে এক বছরের জন্য বিনা বেতনে পুনঃনিয়োগ দেওয়া হয়। আর এই আদেশের পর থেকেই মাদরাসার সার্বিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাবেক এই অধ্যক্ষের সময়ে প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ফলে অবসরের পর তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় তার কক্ষে তালা দেওয়া হয়।

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গাজী মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বিতর্কিত এই শিক্ষককে কেউ মেনে নিতে রাজি নন। এছাড়া তাকে ফের দায়িত্বে আনলে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ বিনষ্ট হতে পারে।

সাবেক অধ্যক্ষের দাবি ও প্রশাসনিক নীরবতা

অন্যদিকে সাবেক অধ্যক্ষ এ.এ. বারী হাওলাদার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আদেশকে পুঁজি করে নিজের অবস্থান বৈধ দাবি করছেন। তিনি বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে দায়িত্ব পালনে বাধা দিচ্ছে।

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় প্রশাসন নীরব থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থবির একাডেমিক কার্যক্রম ও অনিশ্চয়তা

বর্তমানে এই বিরোধের কারণে গুলিশাখালী ফাজিল মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করছেন সচেতন মহল। অন্যথায় এই সংকট আরও বড় সংঘাতের রূপ নিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের পুঁজিবাজার সচেতনতা বাড়াতে লংকাবাংলা ও এক্সিলেন্স বাংলাদেশের চুক্তি

বাগেরহাটে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পুনঃনিয়োগে উত্তাল গুলিশাখালী মাদরাসা

আপডেট সময় : ১০:৪৫:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের গুলিশাখালী ফাজিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে সাবেক অধ্যক্ষের পুনঃনিয়োগের প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

গত রোববার দুপুর ১২টায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একযোগে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এছাড়া বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সাবেক অধ্যক্ষের কুশপুত্তলিকা দাহ করে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

পুনঃনিয়োগ আদেশে অসন্তোষের সূত্রপাত

সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ এ.এ. বারী হাওলাদার গত ২৯ জুলাই অবসরে যান। কিন্তু অবসরে যাওয়ার পরও তিনি স্বপদে বহাল থাকার চেষ্টা করেন।

পরবর্তীতে ২ সেপ্টেম্বর ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে এক বছরের জন্য বিনা বেতনে পুনঃনিয়োগ দেওয়া হয়। আর এই আদেশের পর থেকেই মাদরাসার সার্বিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাবেক এই অধ্যক্ষের সময়ে প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ফলে অবসরের পর তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় তার কক্ষে তালা দেওয়া হয়।

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গাজী মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বিতর্কিত এই শিক্ষককে কেউ মেনে নিতে রাজি নন। এছাড়া তাকে ফের দায়িত্বে আনলে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ বিনষ্ট হতে পারে।

সাবেক অধ্যক্ষের দাবি ও প্রশাসনিক নীরবতা

অন্যদিকে সাবেক অধ্যক্ষ এ.এ. বারী হাওলাদার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আদেশকে পুঁজি করে নিজের অবস্থান বৈধ দাবি করছেন। তিনি বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে দায়িত্ব পালনে বাধা দিচ্ছে।

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় প্রশাসন নীরব থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থবির একাডেমিক কার্যক্রম ও অনিশ্চয়তা

বর্তমানে এই বিরোধের কারণে গুলিশাখালী ফাজিল মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করছেন সচেতন মহল। অন্যথায় এই সংকট আরও বড় সংঘাতের রূপ নিতে পারে।