ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কানাডীয় পণ্যে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা: তুঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ

কানাডীয় পণ্যে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা: তুঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ

দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ কানাডার ওপর এবার চরম কঠোর অবস্থান নিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি থেকে দুগ্ধজাত পণ্য, অ্যালকোহল ও মোটরসাইকেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হোয়াইট হাউস। মঙ্গলবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। তবে এর আগেই কানাডা ২০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক বসায়। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ আরও গলতে শুরু করেছে।

কানাডীয় পণ্য বর্জনের নির্দেশ ট্রাম্পের

কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপের পর ট্রাম্প আরও ক্ষিপ্ত হন। তাই তিনি মার্কিন সরকারি চুক্তি থেকে কানাডীয় পণ্য বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে তিনি অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে বলেন।

তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কানাডা মার্কিন পণ্যকে পূর্ণ সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। এর ফলে দুই দেশের বাণিজ্যক কূটনৈতিক আলোচনা এখন থমকে গেছে।

পাল্টা পদক্ষেপ ও অর্থনৈতিক প্রভাব

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দেশকে স্বনির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলেন, কোনো দেশ যেন কানাডাকে জিম্মি করতে না পারে। এর আগে গত ২২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র কানাডীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসায়।

জবাবে কানাডাও মার্কিন ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, পনির ও প্রসাধনীতে উচ্চ শুল্ক ধার্য করে। এসব পণ্যে ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে।

জনগণের ক্ষোভ ও মার্কিন পণ্য বর্জন

সম্প্রতি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য বানানোর মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এর ফলে কানাডার সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। তাই নাগরিকরা মার্কিন ভ্রমণ বাতিল এবং মার্কিন পণ্য বর্জন শুরু করেছেন।

তবে কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ এখনো পুরো বন্ধ হয়ে যায়নি। কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যমন্ত্রীর মুখপাত্র গাব্রিয়েল ব্রুনেট বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক আলোচনা বন্ধ থাকলেও দ্বিপাক্ষিক কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

কানাডীয় পণ্যে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা: তুঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ

আপডেট সময় : ০১:৩৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ কানাডার ওপর এবার চরম কঠোর অবস্থান নিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি থেকে দুগ্ধজাত পণ্য, অ্যালকোহল ও মোটরসাইকেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হোয়াইট হাউস। মঙ্গলবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। তবে এর আগেই কানাডা ২০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক বসায়। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ আরও গলতে শুরু করেছে।

কানাডীয় পণ্য বর্জনের নির্দেশ ট্রাম্পের

কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপের পর ট্রাম্প আরও ক্ষিপ্ত হন। তাই তিনি মার্কিন সরকারি চুক্তি থেকে কানাডীয় পণ্য বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে তিনি অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে বলেন।

তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কানাডা মার্কিন পণ্যকে পূর্ণ সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। এর ফলে দুই দেশের বাণিজ্যক কূটনৈতিক আলোচনা এখন থমকে গেছে।

পাল্টা পদক্ষেপ ও অর্থনৈতিক প্রভাব

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দেশকে স্বনির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলেন, কোনো দেশ যেন কানাডাকে জিম্মি করতে না পারে। এর আগে গত ২২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র কানাডীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসায়।

জবাবে কানাডাও মার্কিন ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, পনির ও প্রসাধনীতে উচ্চ শুল্ক ধার্য করে। এসব পণ্যে ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে।

জনগণের ক্ষোভ ও মার্কিন পণ্য বর্জন

সম্প্রতি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য বানানোর মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এর ফলে কানাডার সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। তাই নাগরিকরা মার্কিন ভ্রমণ বাতিল এবং মার্কিন পণ্য বর্জন শুরু করেছেন।

তবে কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ এখনো পুরো বন্ধ হয়ে যায়নি। কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যমন্ত্রীর মুখপাত্র গাব্রিয়েল ব্রুনেট বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক আলোচনা বন্ধ থাকলেও দ্বিপাক্ষিক কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখছেন।