যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং নৌ অবরোধের কারণে ইরানে তীব্র ওষুধ সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে দেশটিতে জরুরি ও জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন ওষুধের সরবরাহ প্রায় বন্ধের পথে। এতে ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
৮০০টি চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র ঘাটতি
ইরানি ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র হাদি আহমাদি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ৮০০টি চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধের মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে।
এর মধ্যে ৯০টি জীবন রক্ষাকারী জরুরি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ঘাটতি থাকা ওষুধের মধ্যে ৪০০টি ওষুধ পূর্বে ইরানেই তৈরি হতো।
হু হু করে বাড়ছে ওষুধের দাম
ওষুধের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে বাজারে দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ জানায়, মৃগীরোগের ওষুধ গ্যাবাাপেন্টিনের দাম গত বছরের তুলনায় ২২০ শতাংশ বেড়েছে।
পাশাপাশি প্যারাসিটামলের দাম ৩৭৫ শতাংশ এবং অ্যামোক্সিসিলিন ২৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ফ্লুওক্সেটিনের দাম ১০০ শতাংশ এবং ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিনের দাম ছয গুণ বেড়েছে।
ধ্বংস হয়েছে ক্যানসারের ওষুধ কারখানা
চলমান যুদ্ধের প্রভাবে গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৪টি ইরানি ফার্মাসিউটিক্যালস কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব হামলায় ৫০ জন শিল্পকর্মী হতাহত হয়েছেন।
ইতোমধ্যে বিমান হামলায় দেশটির ক্যানসার ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রধান প্রতিষ্ঠান ‘তৌফিক দারু’ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা মরিয়ম ফারাহানি জানান, তাদের ২৬ বছরের সংরক্ষিত তথ্য ও উৎপাদন লাইন ধ্বংস হয়েছে। এটি পুনরায় চালু করতে কয়েক বছর সময় এবং কোটি কোটি ডলার লাগবে।
জনস্বাস্থ্যের ওপর চরম হুমকি
বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরানের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের প্রধান মেহেদি পীরসালেহি দাবি করেন, সংকট থাকলেও ওষুধ খাত ভেঙে পড়বে না।
তবে চিকিৎসকরা ভিন্ন সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তারা জানান, রোটাভাইরাস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিনের আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি ওষুধ খাতে সরকারের বিপুল পরিমাণ বকেয়া ঋণ জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে।
























