‘দয়া করে একটা গোল করুন’– টটেনহ্যাম বনাম এভারটন ম্যাচের শেষদিকে টিভি ক্যামেরায় বেশ কিছুক্ষণ দেখাচ্ছিল এই প্ল্যাকার্ড। টটেনহ্যামের দুই সমর্থকের হাতে থাকা ওই প্ল্যাকার্ড তারা নিজেরই লিখে এনেছিল। মজার ছলে ওই লেখার সঙ্গে আঠা দিয়ে লাগানো ছিল ক্লাবটির লোগো। দুই নারী ভক্তকে প্ল্যাকার্ড হাতে যতটা প্রফুল্ল দেখাচ্ছিল, তারচেয়ে বহু গুণ বেশি ছিল স্টেডিয়ামে ছড়িয়ে থাকা হতাশার চিত্র।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে দুটি করে ড্র ও হার। এমনকি তাদের নামের পাশে নেই কোনো গোল। অথচ নতুন খেলোয়াড় কিনতে ৩২৯ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছিল টটেনহ্যাম। দলটির জন্য এমন পরিস্থিতিতে পড়া বেশ বিরল ঘটনা। এর আগে কখনোই নিজেদের ইতিহাসে প্রথম চার ম্যাচে গোল না করার নজির ছিল না টটেনহ্যামের।
এবারের দলবদলে টটেনহ্যামের স্কোয়াড নতুন করে সাজানো হয়েছে, নতুন ম্যানেজার রবার্তো ডি জারবিও দায়িত্ব নিয়েছেন। তবুও টটেনহ্যাম আবারও সেই পিছিয়ে পড়া দলের কাতারে। যে চিত্র তাদের গত দুই মৌসুমেও ছিল। টানা ১৭তম স্থানে থেকে প্রিমিয়ার লিগের মৌসুম শেষ করেছিল হটস্পার। ম্যাচের শেষ দিকে এভারটনের বিপক্ষে একটি পয়েন্ট নিয়েই হয়তো সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের। আর এভারটনই এবারের দলবদলের জানালা শেষ করেছে প্রিমিয়ার লিগের একমাত্র দল হিসেবে, যাদের খেলোয়াড় কেনাবেচায় নিট মুনাফা হয়েছে।
ম্যাচ শেষে আবারও নিজের দলের সমর্থনে আবেগঘন মন্তব্য করেছেন কোচ ডি জারবি, ‘সমর্থকরা ইতিমধ্যে বুঝতে পারে আমি অজুহাত দিচ্ছি কি না। গত মৌসুমে যখন এসেছিলাম, তখন পরিস্থিতি এমনই ছিল।’ ওই কথা বলার সময় কপালের মাঝামাঝি উচ্চতার দিকে দেখান তিনি। এরপর বলেন, ‘আমি সব সময়…ইতিবাচক নই, বরং বাস্তববাদী ছিলাম। ফলাফলের জন্য আমি দুঃখিত, কারণ তাৎক্ষণিকভাবে উন্নতির দেখা মিলছে না। আমরা দল হিসেবে খেলেছি। গোল করতে পারিনি। জিততেও না পারলেও দলগতভাবে খেলেছি।’
চলতি মাসে ঘরের মাঠে টটেনহ্যামের আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি, শনিবার অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে। সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার আগে গোলখরা কাটানোর সেটাই শেষ সুযোগ। এভারটনের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের বেশ কিছুটা সময় পার হওয়ার পর টটেনহ্যাম প্রথম কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে পারে। মাতেউস ফার্নান্দেসের দুর্বল শটটি এভারটন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের নিয়ন্ত্রণে নিতে কোনো অসুবিধা হয়নি। এরপর টটেনহ্যাম সমর্থকরা ব্যঙ্গাত্মক উল্লাস করতে থাকেন।
টটেনহ্যামের মূল সমস্যা কোথায়– সেটি বোঝাতে ইতালিয়ান শব্দ ‘sbloccare’ ব্যবহার করেন ডি জারবি। শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো ‘আনলক’ বা ‘বন্ধনমুক্ত করা’। এই কোচের মতে, দলটির শুধু বাঁধন খুলে দিলেই গোল আসতে শুরু করবে। এরপর রসিকতা করে ডি জারবি জানান, ইতালিতে থাকলে এই ম্যাচ এবং নটিংহ্যাম ফরেস্ট ম্যাচে টানা দুই ক্লিনশিট রাখার জন্য তার প্রশংসা করা হতো।



























