ঢাকা ১২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বলিউডে প্রথম ১০০ কোটির সিনেমা উপহার, এরপর ১৮০টি ছবি ফ্লপ এই বাঙালি অভিনেতার

চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় সাধারণত একটি নিয়ম প্রচলিত রয়েছে—বক্স অফিসে ছবি সফল হওয়া বা না হওয়ার ওপরই নির্ভর করে কোনো অভিনেতার ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ। টানা ব্যর্থতা যেকোনো তারকার ক্যারিয়ারের চাকা ধীর করে দেয়। কিন্তু এই নিয়মের সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এক উদাহরণ তৈরি করেছেন বলিউড কিংবদন্তি মিঠুন চক্রবর্তী। 

প্রায় পাঁচ দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি জাতীয় পুরস্কার জিতেছেন, সেকালের ভারতের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবির নায়ক হয়েছেন এবং একই সঙ্গে মূল অভিনেতা হিসেবে রেকর্ডসংখ্যক ১৮০টি ফ্লপ ছবির লজ্জাজনক রেকর্ডেরও মালিক হয়েছেন।

১৯৭৬ সালে মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ ছবি দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করেন মিঠুন চক্রবর্তী। এই প্রথম ছবির জন্যই তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন, যা তাকে প্রথম ছবির জন্য এই সম্মান পাওয়া বিরল অভিনেতাদের কাতারে দাঁড় করায়।

আশির দশকের শুরুতে ‘শৌকিন’ ও ‘অশান্তি’ ছবির মাধ্যমে সাফল্য পেতে শুরু করেন তিনি এবং ১৯৮২ সালে ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ তাকে গোটা উপমহাদেশের মানুষের কাছে পরিচিত এক নামে পরিণত করে।

তবে আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে তিনি মানের চেয়ে সংখ্যার ওপর বেশি জোর দিতে শুরু করেন। বছরে ৮ থেকে ১২টি ছবি করতে শুরু করায় সেগুলোর বেশিরভাগই বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে।

নব্বইয়ের দশকে নতুন প্রজন্মের তারকারা যখন বলিউডের দখল নেন, তখন মিঠুন কম বাজেটের অ্যাকশন ছবির দিকে ঝুঁকেন, যেগুলো এক মাসেরও কম সময়ে শুটিং শেষ করে মুক্তি দেওয়া যেত। এই দশকে তিনি প্রায় একশটি ছবিতে অভিনয় করেন, যার সিংহভাগই ফ্লপ হয়। নায়ক হিসেবে তার সর্বশেষ একক হিট ছবি ছিল ১৯৯৫ সালের ‘রাবণ রাজ’, যা প্রায় ৩০ বছর আগের কথা।

পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে মিঠুন আড়াইশোর বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে অবাক করার মতো বিষয় হলো, তার অভিনীত প্রায় ১৮০টি ছবিই বক্স অফিসে ফ্লপ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৪৫টি ছবিকে ‘ডিজাস্টার ফ্লপ’ বা চরম ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তুলনা করলে দেখা যায়, অন্য তারকাদের ফ্লপ ছবির সংখ্যা ৫০-এর নিচে, আর মিঠুনের অর্ধেকের সমান ফ্লপও রয়েছে কেবল ধর্মেন্দ্র ও জিতেন্দ্রর ঝুলিতে।

আশির দশকে মিঠুনের ক্যারিয়ার আকাশচুম্বী হয়েছিল, যার মূলে ছিল ‘ডিস্কো ড্যান্সার’। ১৯৮৫ সালে ছবিটি রাশিয়ায় মুক্তি পাওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি রুপি আয় করে। এটিই ছিল প্রথম ভারতীয় ছবি যা এই মাইলফলক স্পর্শ করে এবং ‘শোলে’-কে পেছনে ফেলে ভারতের সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী ছবির খেতাব অর্জন করে। ১৯৯৪ সালে ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’ ছবিটি এর চেয়ে বেশি আয় করার আগ পর্যন্ত এই রেকর্ড তার দখলেই ছিল। এটিই ছিল মিঠুনের ক্যারিয়ারের স্বর্ণযুগ।

পরবর্তীতে ২০০০-এর দশকে এসে তিনি প্রধান চরিত্রের পাশাপাশি পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন এবং বড় বাজেটের বেশ কিছু ছবিতে কাজ করেন।

এই পর্বে তার সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০২২ সালে, ৭২ বছর বয়সে। বিবেক অগ্নিহোত্রীর ছবি ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’-এ অভিনয় করেন তিনি, যা বিশ্বব্যাপী ৩৫০ কোটি রুপি আয় করে ব্লকবাস্টার হিট হয়। এটিই বর্তমানে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি আয় করা ছবি।

জনপ্রিয় সংবাদ

কার্ড লেনদেনে নতুন রেকর্ড: পাঁচ বছরে বৃদ্ধি ১০৮%

বলিউডে প্রথম ১০০ কোটির সিনেমা উপহার, এরপর ১৮০টি ছবি ফ্লপ এই বাঙালি অভিনেতার

আপডেট সময় : ১১:৪৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় সাধারণত একটি নিয়ম প্রচলিত রয়েছে—বক্স অফিসে ছবি সফল হওয়া বা না হওয়ার ওপরই নির্ভর করে কোনো অভিনেতার ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ। টানা ব্যর্থতা যেকোনো তারকার ক্যারিয়ারের চাকা ধীর করে দেয়। কিন্তু এই নিয়মের সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এক উদাহরণ তৈরি করেছেন বলিউড কিংবদন্তি মিঠুন চক্রবর্তী। 

প্রায় পাঁচ দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি জাতীয় পুরস্কার জিতেছেন, সেকালের ভারতের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবির নায়ক হয়েছেন এবং একই সঙ্গে মূল অভিনেতা হিসেবে রেকর্ডসংখ্যক ১৮০টি ফ্লপ ছবির লজ্জাজনক রেকর্ডেরও মালিক হয়েছেন।

১৯৭৬ সালে মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ ছবি দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করেন মিঠুন চক্রবর্তী। এই প্রথম ছবির জন্যই তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন, যা তাকে প্রথম ছবির জন্য এই সম্মান পাওয়া বিরল অভিনেতাদের কাতারে দাঁড় করায়।

আশির দশকের শুরুতে ‘শৌকিন’ ও ‘অশান্তি’ ছবির মাধ্যমে সাফল্য পেতে শুরু করেন তিনি এবং ১৯৮২ সালে ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ তাকে গোটা উপমহাদেশের মানুষের কাছে পরিচিত এক নামে পরিণত করে।

তবে আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে তিনি মানের চেয়ে সংখ্যার ওপর বেশি জোর দিতে শুরু করেন। বছরে ৮ থেকে ১২টি ছবি করতে শুরু করায় সেগুলোর বেশিরভাগই বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে।

নব্বইয়ের দশকে নতুন প্রজন্মের তারকারা যখন বলিউডের দখল নেন, তখন মিঠুন কম বাজেটের অ্যাকশন ছবির দিকে ঝুঁকেন, যেগুলো এক মাসেরও কম সময়ে শুটিং শেষ করে মুক্তি দেওয়া যেত। এই দশকে তিনি প্রায় একশটি ছবিতে অভিনয় করেন, যার সিংহভাগই ফ্লপ হয়। নায়ক হিসেবে তার সর্বশেষ একক হিট ছবি ছিল ১৯৯৫ সালের ‘রাবণ রাজ’, যা প্রায় ৩০ বছর আগের কথা।

পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে মিঠুন আড়াইশোর বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে অবাক করার মতো বিষয় হলো, তার অভিনীত প্রায় ১৮০টি ছবিই বক্স অফিসে ফ্লপ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৪৫টি ছবিকে ‘ডিজাস্টার ফ্লপ’ বা চরম ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তুলনা করলে দেখা যায়, অন্য তারকাদের ফ্লপ ছবির সংখ্যা ৫০-এর নিচে, আর মিঠুনের অর্ধেকের সমান ফ্লপও রয়েছে কেবল ধর্মেন্দ্র ও জিতেন্দ্রর ঝুলিতে।

আশির দশকে মিঠুনের ক্যারিয়ার আকাশচুম্বী হয়েছিল, যার মূলে ছিল ‘ডিস্কো ড্যান্সার’। ১৯৮৫ সালে ছবিটি রাশিয়ায় মুক্তি পাওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি রুপি আয় করে। এটিই ছিল প্রথম ভারতীয় ছবি যা এই মাইলফলক স্পর্শ করে এবং ‘শোলে’-কে পেছনে ফেলে ভারতের সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী ছবির খেতাব অর্জন করে। ১৯৯৪ সালে ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’ ছবিটি এর চেয়ে বেশি আয় করার আগ পর্যন্ত এই রেকর্ড তার দখলেই ছিল। এটিই ছিল মিঠুনের ক্যারিয়ারের স্বর্ণযুগ।

পরবর্তীতে ২০০০-এর দশকে এসে তিনি প্রধান চরিত্রের পাশাপাশি পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন এবং বড় বাজেটের বেশ কিছু ছবিতে কাজ করেন।

এই পর্বে তার সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০২২ সালে, ৭২ বছর বয়সে। বিবেক অগ্নিহোত্রীর ছবি ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’-এ অভিনয় করেন তিনি, যা বিশ্বব্যাপী ৩৫০ কোটি রুপি আয় করে ব্লকবাস্টার হিট হয়। এটিই বর্তমানে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি আয় করা ছবি।