কৃষি উৎপাদনে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে দেশজুড়ে কৃষকরা সময়মতো প্রয়োজনীয় সার পাবেন। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সম্প্রতি মোট ১১ লাখ টন সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিদ্ধান্তের আওতায় সরকারিভাবে ১ লাখ ৫৫ হাজার টন সার আসবে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে আসবে ৯ লাখ ২০ হাজার টন সার।
এমওপি ও ডিএপি সার ক্রয়
বিএডিসি ও রাশিয়ার জেএসসির চুক্তির আওতায় ৩৫ হাজার টন এমওপি সার কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৯ লাখ টাকা। প্রতি টন সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮৩.৮০ ডলার।
এছাড়া ১৪টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাশিয়া, কানাডা ও বেলারুশ থেকে আরও ২ লাখ ২০ হাজার টন এমওপি সার আসবে। এতে সরকারের মোট খরচ হবে ৮ কোটি ৭৭ লাখ ৭৩ হাজার ৪০০ ডলার। এক্ষেত্রে প্রতি টন সারের দাম পড়বে ৩৯৮.৯৭ ডলার।
অন্যদিকে মরক্কোর ‘ওসিপি নিউট্রিক্রপস’ থেকে বিএডিসির মাধ্যমে ৮০ হাজার টন ডিএপি সার কেনা হবে। দুই পৃথক লটে এই সার দেশে পৌঁছাবে। উপরন্তু ১৯টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও ৫ লাখ টন ডিএপি সার আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। মরক্কো, রাশিয়া, জর্ডান, সৌদি আরব, মিসর ও তিউনিসিয়া থেকে এই সার আসবে।
টিএসপি ও ইউরিয়া সার আমদানি
বেসরকারি ১০টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২ লাখ টন টিএসপি সার কেনা হবে। লেবানন, বুলগেরিয়া, মরক্কো, মিসর ও তিউনিসিয়া থেকে এই সার সংগ্রহ করা হবে। ফলে প্রতি টনে ৭৫৬ ডলার হিসাবে মোট খরচ হবে ১৫ কোটি ১২ লাখ ডলার।
পাশাপাশি শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে সৌদি আরবের ‘সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস’ থেকে ৪০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনা হবে। পঞ্চম লটের এই সার কিনতে ব্যয় হবে ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ন্যায্য মূল্যে দ্রুত সার সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

























