ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘কোচ-অধিনায়ককে সাইজ করে দিয়ে ভালো কিছু আশা করেন কীভাবে’

নাগোয়ার করোকি পার্কে তাবুতে ক্রিকেটারেদর ড্রেসিং রুম। কোচিং স্টাফরা পাশেই বসেন। পাকিস্তানের কাছে ব্রোঞ্জ পদক হারানোর পর জ্যোতিদের হেড কোচ সারোয়ার ইমরান হতাশা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রথমে সাংবাদিকদের সামনে আসতে চাননি। এশিয়ান গেমস কাভার করতে আসা বাংলাদেশি সাংবাদিকদের পীড়াপীড়িতে অবশেষে এসে ব্যর্থতার কারণ ও বাস্তবতার করুণ চিত্র তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ এশিয়ান গেমসের গত আসরে পাকিস্তানকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিল। আজ সেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৪৫ রানই তাড়া করতে পারেনি। ৩১ রানে হেরেছে। এমন ব্যর্থতা কেন? উত্তরে কোচ সারোয়ার ইমরান বলেন, ‘আমাদের সমস্যার শুরুটা হয়েছে এশিয়া কাপ থেকে। শ্রীলঙ্কার সাথে ক্লোজ ম্যাচ হেরেছি। হারার পর থেকে আমাদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খবর-টবর এসব নিয়ে। এমনকি ইন্দোনেশিয়া-আরব আমিরাতের মতো দলের সাথে আমরা ১২০-৩০ করতে পারিনি। এটা এখনো ক্যারি করছি আমরা এশিয়ান গেমসে।’

জ্যোতিকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেন নারী উইংয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম বাবু। কোচ সারওয়ার ইমরানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদও না বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনা আসে। যেটাকে এই ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন কোচ, ‘এটা হয়তো টিমের ওপর, প্লেয়ারদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। আমার মনে হয়, এটা একটা কারণ হতে পারে। আমরা কিন্তু পারছি না, কোনোভাবেই ওই লেভেলে যেতে পারছি না। যে কোনো টিম ছয় মারছে সহজেই, আমাদের টিম কিন্তু ছয় মারতেই পারছে না। যে আগে মারতো সেও এখন আগের জায়গাতে নেই।’

সারোয়ার ইমরানের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি দুই বছরের। সেটা এই অক্টোবরে শেষ হচ্ছে। কোচের চুক্তি নবায়ন না হওয়া এবং অধিনায়কের পরিবর্তন সাধারণ প্রক্রিয়ারই অংশ। অধিনায়ক নিজে থেকেই সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সেটা দলের পারফরম্যান্সে কেন প্রভাব ফেলবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে কোচ সারোয়ার ইমরান বলেন, ‘টুর্নামেন্ট চলাকালীন এটা হতে পারে না। আমরা একটা টুর্নামেন্ট খেলছি, হেড কোচ আর ক্যাপ্টেনদের আপনি সাইজ করে দিলেন, তো কীভাবে আপনি (ভালো পারফরম্যান্স) আশা করেন?’

টুর্নামেন্ট চলাকালে বাংলাদেশের ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা নতুন কিছু নয়। বর্তমান বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল নিজেই চট্টগ্রামে সিরিজ চলাকালে অধিনায়কত্ব ছেড়ে অবসরের ঘোষণা দেন। নারী ক্রিকেটে এবার বোর্ড কর্মকর্তা মন্তব্যের পর অধিনায়ক নিজে ঘোষণা দেন। কর্মকর্তার যেমন দূরদর্শিতার অভাব পাশাপাশি খেলোয়াড়ের পেশাদারিত্বেরও সংকট।

বোর্ড কর্মকর্তা ও জ্যোতি নিজে অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী জ্যোতির অধীনে আজই সুপ্তারা শেষ টি-টোয়েন্টি খেললেন। ম্যাচের পর মিক্সড জোনে আসা সুপ্তা এ নিয়ে বলেন,‘ বিষয়টি আমি এখনো নিশ্চিত নই। তাই কিছু বলতে পারছি না। ’

১৪৫ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ৩১ রানে হেরেছে। সুপ্তা এক প্রান্ত আগলে রেখে ৪৬ রান করেছেন। ব্যাটিং উইকেটে বাংলাদেশের এই রান তাড়া না করতে পারার দায় দিলেন টপ অর্ডারের উপরই,‘ এই রান চেজ করার মতোই। টপ অর্ডার ভালো শুরু করতে পারলে কাজটা সহজ হতো।’

টি-টোয়েন্টি মানেই চার-ছক্কার খেলা। সেখানে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা ছক্কাই হাকাতে পারছেন না। বাংলাদেশের হেড কোচ সারোয়ার ইমরান নারী ক্রিকেটের সংকট নিয়ে বলেন,‘ নারী ক্রিকেট একটি জায়গায় আটকে রয়েছে। শ্রীলঙ্কায় নারী স্কুল ক্রিকেট চলছে, শত শত খেলোয়াড় খেলছে। আমাদের কিন্তু ও রকম স্ট্রাকচার নেই। নতুন খেলোয়াড় নেই, আমরা ৩০ জনের বেশি প্লেয়ার বের করতে পারি না যে ডাকব।

একই জায়গায় আটকে থাকতে চাই না : মধুমিতা

‘কোচ-অধিনায়ককে সাইজ করে দিয়ে ভালো কিছু আশা করেন কীভাবে’

আপডেট সময় : ১১:৪৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাগোয়ার করোকি পার্কে তাবুতে ক্রিকেটারেদর ড্রেসিং রুম। কোচিং স্টাফরা পাশেই বসেন। পাকিস্তানের কাছে ব্রোঞ্জ পদক হারানোর পর জ্যোতিদের হেড কোচ সারোয়ার ইমরান হতাশা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রথমে সাংবাদিকদের সামনে আসতে চাননি। এশিয়ান গেমস কাভার করতে আসা বাংলাদেশি সাংবাদিকদের পীড়াপীড়িতে অবশেষে এসে ব্যর্থতার কারণ ও বাস্তবতার করুণ চিত্র তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ এশিয়ান গেমসের গত আসরে পাকিস্তানকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিল। আজ সেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৪৫ রানই তাড়া করতে পারেনি। ৩১ রানে হেরেছে। এমন ব্যর্থতা কেন? উত্তরে কোচ সারোয়ার ইমরান বলেন, ‘আমাদের সমস্যার শুরুটা হয়েছে এশিয়া কাপ থেকে। শ্রীলঙ্কার সাথে ক্লোজ ম্যাচ হেরেছি। হারার পর থেকে আমাদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খবর-টবর এসব নিয়ে। এমনকি ইন্দোনেশিয়া-আরব আমিরাতের মতো দলের সাথে আমরা ১২০-৩০ করতে পারিনি। এটা এখনো ক্যারি করছি আমরা এশিয়ান গেমসে।’

জ্যোতিকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেন নারী উইংয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম বাবু। কোচ সারওয়ার ইমরানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদও না বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনা আসে। যেটাকে এই ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন কোচ, ‘এটা হয়তো টিমের ওপর, প্লেয়ারদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। আমার মনে হয়, এটা একটা কারণ হতে পারে। আমরা কিন্তু পারছি না, কোনোভাবেই ওই লেভেলে যেতে পারছি না। যে কোনো টিম ছয় মারছে সহজেই, আমাদের টিম কিন্তু ছয় মারতেই পারছে না। যে আগে মারতো সেও এখন আগের জায়গাতে নেই।’

সারোয়ার ইমরানের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি দুই বছরের। সেটা এই অক্টোবরে শেষ হচ্ছে। কোচের চুক্তি নবায়ন না হওয়া এবং অধিনায়কের পরিবর্তন সাধারণ প্রক্রিয়ারই অংশ। অধিনায়ক নিজে থেকেই সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সেটা দলের পারফরম্যান্সে কেন প্রভাব ফেলবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে কোচ সারোয়ার ইমরান বলেন, ‘টুর্নামেন্ট চলাকালীন এটা হতে পারে না। আমরা একটা টুর্নামেন্ট খেলছি, হেড কোচ আর ক্যাপ্টেনদের আপনি সাইজ করে দিলেন, তো কীভাবে আপনি (ভালো পারফরম্যান্স) আশা করেন?’

টুর্নামেন্ট চলাকালে বাংলাদেশের ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা নতুন কিছু নয়। বর্তমান বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল নিজেই চট্টগ্রামে সিরিজ চলাকালে অধিনায়কত্ব ছেড়ে অবসরের ঘোষণা দেন। নারী ক্রিকেটে এবার বোর্ড কর্মকর্তা মন্তব্যের পর অধিনায়ক নিজে ঘোষণা দেন। কর্মকর্তার যেমন দূরদর্শিতার অভাব পাশাপাশি খেলোয়াড়ের পেশাদারিত্বেরও সংকট।

বোর্ড কর্মকর্তা ও জ্যোতি নিজে অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী জ্যোতির অধীনে আজই সুপ্তারা শেষ টি-টোয়েন্টি খেললেন। ম্যাচের পর মিক্সড জোনে আসা সুপ্তা এ নিয়ে বলেন,‘ বিষয়টি আমি এখনো নিশ্চিত নই। তাই কিছু বলতে পারছি না। ’

১৪৫ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ৩১ রানে হেরেছে। সুপ্তা এক প্রান্ত আগলে রেখে ৪৬ রান করেছেন। ব্যাটিং উইকেটে বাংলাদেশের এই রান তাড়া না করতে পারার দায় দিলেন টপ অর্ডারের উপরই,‘ এই রান চেজ করার মতোই। টপ অর্ডার ভালো শুরু করতে পারলে কাজটা সহজ হতো।’

টি-টোয়েন্টি মানেই চার-ছক্কার খেলা। সেখানে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা ছক্কাই হাকাতে পারছেন না। বাংলাদেশের হেড কোচ সারোয়ার ইমরান নারী ক্রিকেটের সংকট নিয়ে বলেন,‘ নারী ক্রিকেট একটি জায়গায় আটকে রয়েছে। শ্রীলঙ্কায় নারী স্কুল ক্রিকেট চলছে, শত শত খেলোয়াড় খেলছে। আমাদের কিন্তু ও রকম স্ট্রাকচার নেই। নতুন খেলোয়াড় নেই, আমরা ৩০ জনের বেশি প্লেয়ার বের করতে পারি না যে ডাকব।