ঢাকা ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে উত্তপ্ত নিত্যপণ্যের বাজার

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে উত্তপ্ত নিত্যপণ্যের বাজার

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। এক দিনের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে পাম তেলের দাম বেড়েছে ৫ টাকা। চায়না রসুনের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। পাশাপাশি প্রায় সব ধরনের সবজির দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। বেড়েছে মাছ ও ডিমের দামও। এতে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাজারে খোলা সয়াবিন তেল ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২১০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। পাম তেলের দামও লিটারে ৫ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকা থেকে ১৯৫ টাকা হয়েছে।

রসুনের দামেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। চায়না রসুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা হয়েছে। দেশি রসুনও ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া বুটের দাম ১০৮ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকা এবং ছোলার দাম ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা হয়েছে। চালের দামও বেড়েছে। পায়জাম ও ২৮ চালের বস্তায় ১০০ টাকা করে দাম বেড়েছে।

লালবাগে বাজার করতে আসা মুনিয়া বলেন, নতুন সরকার আসলে হয়তো বাজারের দাম কিছুটা কমবে ভাবছিলাম। কিন্তু এখন দেখি উল্টো আরও বাড়ছে।

মিরপুরের মুদি দোকানি বেলাল বলেন, পাইজাম চাল আগে ১ হাজার ৩০০ টাকা আর ২৮ চাল ১ হাজার ৪০০ টাকা করে কিনতাম। আজকে দেখলাম দুটোর দামই বস্তায় ১০০ টাকা করে বেড়েছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে আমাদেরও তো বেশি দামে বিক্রি করতে হবে।’

বাজারে এক দিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। শিম ২৪০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪৫ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, বরবটি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা এবং ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ধুন্দল ও করলার দাম ৭৫ থেকে বেড়ে ৮৫ টাকা এবং পটল ৭০ থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা হয়েছে। ঢ্যাঁড়স ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা, টমেটো ৯০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ৮৫ টাকা এবং গোল বেগুন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া মিষ্টি কুমড়া ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ২০০ থেকে বেড়ে ২০৫ টাকা কেজি হয়েছে। লাউয়ের দাম প্রতি পিস ৬০–৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৫–৭৫ টাকা, জালি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ থেকে বেড়ে ৪৫ টাকা হয়েছে।

সবজি বিক্রেতা মালেক বলেন,পাইকারি বাজার থেকে যে দামে কিনে আনি, তার সঙ্গে কিছু লাভ রেখে সেই দামেই বিক্রি করি। পাইকারিতে দাম বাড়লে আমাদেরও বাড়াতে হয়।

বাজারে ডিমের দাম ডজনপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে মুরগির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকা, সোনালি ৩১০-৩২০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০-৩০০ টাকা এবং লেয়ার ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

গরুর মাংসের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। গতকালের তুলনায় বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০-২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০-৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, দেশি কই ৭০০-৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং পোয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০-৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০-৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে উত্তপ্ত নিত্যপণ্যের বাজার

আপডেট সময় : ১০:১৬:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। এক দিনের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে পাম তেলের দাম বেড়েছে ৫ টাকা। চায়না রসুনের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। পাশাপাশি প্রায় সব ধরনের সবজির দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। বেড়েছে মাছ ও ডিমের দামও। এতে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাজারে খোলা সয়াবিন তেল ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২১০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। পাম তেলের দামও লিটারে ৫ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকা থেকে ১৯৫ টাকা হয়েছে।

রসুনের দামেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। চায়না রসুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা হয়েছে। দেশি রসুনও ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া বুটের দাম ১০৮ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকা এবং ছোলার দাম ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা হয়েছে। চালের দামও বেড়েছে। পায়জাম ও ২৮ চালের বস্তায় ১০০ টাকা করে দাম বেড়েছে।

লালবাগে বাজার করতে আসা মুনিয়া বলেন, নতুন সরকার আসলে হয়তো বাজারের দাম কিছুটা কমবে ভাবছিলাম। কিন্তু এখন দেখি উল্টো আরও বাড়ছে।

মিরপুরের মুদি দোকানি বেলাল বলেন, পাইজাম চাল আগে ১ হাজার ৩০০ টাকা আর ২৮ চাল ১ হাজার ৪০০ টাকা করে কিনতাম। আজকে দেখলাম দুটোর দামই বস্তায় ১০০ টাকা করে বেড়েছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে আমাদেরও তো বেশি দামে বিক্রি করতে হবে।’

বাজারে এক দিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। শিম ২৪০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪৫ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, বরবটি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা এবং ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ধুন্দল ও করলার দাম ৭৫ থেকে বেড়ে ৮৫ টাকা এবং পটল ৭০ থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা হয়েছে। ঢ্যাঁড়স ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা, টমেটো ৯০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ৮৫ টাকা এবং গোল বেগুন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া মিষ্টি কুমড়া ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ২০০ থেকে বেড়ে ২০৫ টাকা কেজি হয়েছে। লাউয়ের দাম প্রতি পিস ৬০–৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৫–৭৫ টাকা, জালি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ থেকে বেড়ে ৪৫ টাকা হয়েছে।

সবজি বিক্রেতা মালেক বলেন,পাইকারি বাজার থেকে যে দামে কিনে আনি, তার সঙ্গে কিছু লাভ রেখে সেই দামেই বিক্রি করি। পাইকারিতে দাম বাড়লে আমাদেরও বাড়াতে হয়।

বাজারে ডিমের দাম ডজনপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে মুরগির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকা, সোনালি ৩১০-৩২০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০-৩০০ টাকা এবং লেয়ার ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

গরুর মাংসের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। গতকালের তুলনায় বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০-২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০-৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, দেশি কই ৭০০-৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং পোয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০-৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০-৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।