ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন ডলার ও ট্রেজারি বন্ডের প্রভাবে স্বর্ণের দামে পতন

মার্কিন ডলার ও বন্ডের সুদের ঊর্ধ্বগতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে পতন

বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার দীর্ঘ ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর দরপতনের মুখে পড়েছে বিশ্ব স্বর্ণের বাজার। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম দৃশ্যমান পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। মূলত ডলার ও বন্ডের প্রভাবে স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী হলেও চলতি মাসে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার নতুন করে নাও বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় বড় ধরনের পতন থেকে রক্ষা পেয়েছে স্বর্ণ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিট নাগাদ আন্তর্জাতিক স্পট স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ কমেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দর কমে ৪ হাজার ১২৭ দশমিক ৮৭ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দামেও স্থবিরতা দেখা যায় এবং এটি প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৫ দশমিক ৩০ ডলারে বেচাকেনা হচ্ছিল।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলার বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠলে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারী দেশ ও ক্রেতাদের জন্য ডলারে নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা বেশ ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ ও ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ২৪ বছরের মধ্যে রেকর্ড উঁচুতে পৌঁছানোয় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের চেয়ে বন্ডের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। তবে ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডা জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল ভিত্তি এখনো বেশ শক্তিশালী। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও উত্তেজনা স্বর্ণের বাজারে পরবর্তীতে যেকোনো সময় বড় ধরনের নতুন উত্থান ঘটাতে পারে।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেপ্টেম্বরের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে কমে যাওয়ায় ফেডের সুদের হার অক্টোবরে অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। তবে সিএমই ফেডওয়াচ টুলের হিসাব অনুসারে, ব্যবসায়ীরা মনে করছেন আগামী ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা এখনো প্রায় ৮৭ শতাংশ। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পতন দেখা গেছে; স্পট রুপার দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০.৬৪ ডলার এবং প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও একই হারে কমে ১,৭০৯.৭৫ ডলারে নেমে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনে চার শর্ত বাধ্যতামূলক করল সরকার

মার্কিন ডলার ও ট্রেজারি বন্ডের প্রভাবে স্বর্ণের দামে পতন

আপডেট সময় : ০৫:০৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

মার্কিন ডলার ও বন্ডের সুদের ঊর্ধ্বগতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে পতন

বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার দীর্ঘ ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর দরপতনের মুখে পড়েছে বিশ্ব স্বর্ণের বাজার। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম দৃশ্যমান পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। মূলত ডলার ও বন্ডের প্রভাবে স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী হলেও চলতি মাসে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার নতুন করে নাও বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় বড় ধরনের পতন থেকে রক্ষা পেয়েছে স্বর্ণ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিট নাগাদ আন্তর্জাতিক স্পট স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ কমেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দর কমে ৪ হাজার ১২৭ দশমিক ৮৭ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দামেও স্থবিরতা দেখা যায় এবং এটি প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৫ দশমিক ৩০ ডলারে বেচাকেনা হচ্ছিল।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলার বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠলে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারী দেশ ও ক্রেতাদের জন্য ডলারে নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা বেশ ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ ও ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ২৪ বছরের মধ্যে রেকর্ড উঁচুতে পৌঁছানোয় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের চেয়ে বন্ডের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। তবে ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডা জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল ভিত্তি এখনো বেশ শক্তিশালী। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও উত্তেজনা স্বর্ণের বাজারে পরবর্তীতে যেকোনো সময় বড় ধরনের নতুন উত্থান ঘটাতে পারে।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেপ্টেম্বরের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে কমে যাওয়ায় ফেডের সুদের হার অক্টোবরে অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। তবে সিএমই ফেডওয়াচ টুলের হিসাব অনুসারে, ব্যবসায়ীরা মনে করছেন আগামী ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা এখনো প্রায় ৮৭ শতাংশ। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পতন দেখা গেছে; স্পট রুপার দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০.৬৪ ডলার এবং প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও একই হারে কমে ১,৭০৯.৭৫ ডলারে নেমে এসেছে।