ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে হরিজনদের পূজার বোনাস দিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

টাঙ্গাইলে হরিজনদের পূজার বোনাস দিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

টাঙ্গাইলে হরিজনদের পূজার বোনাস দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্যও। ব্যক্তিগত অর্থায়নে সদর উপজেলার প্রায় তিনশ জনকে তিনি আড়াই হাজার টাকা করে দিয়েছেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিনি এ উদ্যোগ নেন।

নগদ অর্থ তুলে দিলেন প্রতিমন্ত্রী

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠানটি হয়। সেখানে প্রতিমন্ত্রী একে একে সবার হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন।

এ সময় তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সবাই যাতে উৎসবটি সুন্দরভাবে উদযাপন করতে পারেন, সে জন্যই তিনি বোনাস দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।

পূর্বের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, “দুই মাস আগেও আপনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম। তখন বলেছিলাম, আপনাদের যেকোনো সুবিধা-অসুবিধায় আমি পাশে থাকব। গত পূজায় আপনাদের কাছে শাড়ি দিতে গিয়েছিলাম। এবার বোনাস দেওয়ার কথা বলেছিলাম। সেই কথা অনুযায়ী আজ আপনাদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দিচ্ছি।”

শহর পরিচ্ছন্ন রাখার কারিগরদের প্রশংসা

প্রতিদিন ভোরে নগরবাসী কর্মব্যস্ততা শুরু করার আগেই হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ কাজে নামেন। তাঁদের শ্রমেই শহরের পথঘাট পরিচ্ছন্ন থাকে। তবে নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার এই কারিগরেরা অনেক সময় অবহেলিত থেকে যান।

প্রতিমন্ত্রী তাঁদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আপনারাই শহরটাকে পরিষ্কার রাখেন। আমরা প্রতিদিন যে পরিচ্ছন্ন নগরী দেখতে পাই, তার পেছনে আপনাদের নিরলস পরিশ্রম রয়েছে।” পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, তাঁদের বেতনের পরিমাণ খুবই কম।

বেতন বৃদ্ধি ও আবাসনের আশ্বাস

প্রতিমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে যাতে বেতন বাড়ে, সে বিষয়ে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন। এছাড়া হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য আধুনিক আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। তাঁদের পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে বা অন্য কোনো সমস্যায় পড়লেও তিনি পাশে থাকবেন।

কাজের অধিকার নিয়েও তিনি আশ্বাস দেন। তাঁর ভাষ্য, অন্য কেউ যাতে এই কর্মীদের কাজের সুযোগ কেড়ে নিতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাদের ওপর আস্থা রাখবেন। আল্লাহর রহমতে আমরা যা বলি, তা করার চেষ্টা করি। আমরা চাই, সবাই মিলে পরিচ্ছন্ন টাঙ্গাইল ও নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলব।”

মাদক থেকে দূরে থাকার পরামর্শ

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি মাদক থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, মাদক মানুষের জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। ফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পরিবারের ওপরও পড়ে।

অনুষ্ঠানে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন

অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ ও পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সেলিম মিঞা এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া।

জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিকও এসেছিলেন। পাশাপাশি জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় হোড় শুভসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। হরিজন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে দুর্গোৎসব উপলক্ষে শিশু ও মায়েদের মাঝে বস্ত্র ও নগদ অর্থ বিতরণ

টাঙ্গাইলে হরিজনদের পূজার বোনাস দিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

আপডেট সময় : ০১:২১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

টাঙ্গাইলে হরিজনদের পূজার বোনাস দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্যও। ব্যক্তিগত অর্থায়নে সদর উপজেলার প্রায় তিনশ জনকে তিনি আড়াই হাজার টাকা করে দিয়েছেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিনি এ উদ্যোগ নেন।

নগদ অর্থ তুলে দিলেন প্রতিমন্ত্রী

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠানটি হয়। সেখানে প্রতিমন্ত্রী একে একে সবার হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন।

এ সময় তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সবাই যাতে উৎসবটি সুন্দরভাবে উদযাপন করতে পারেন, সে জন্যই তিনি বোনাস দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।

পূর্বের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, “দুই মাস আগেও আপনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম। তখন বলেছিলাম, আপনাদের যেকোনো সুবিধা-অসুবিধায় আমি পাশে থাকব। গত পূজায় আপনাদের কাছে শাড়ি দিতে গিয়েছিলাম। এবার বোনাস দেওয়ার কথা বলেছিলাম। সেই কথা অনুযায়ী আজ আপনাদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দিচ্ছি।”

শহর পরিচ্ছন্ন রাখার কারিগরদের প্রশংসা

প্রতিদিন ভোরে নগরবাসী কর্মব্যস্ততা শুরু করার আগেই হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ কাজে নামেন। তাঁদের শ্রমেই শহরের পথঘাট পরিচ্ছন্ন থাকে। তবে নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার এই কারিগরেরা অনেক সময় অবহেলিত থেকে যান।

প্রতিমন্ত্রী তাঁদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আপনারাই শহরটাকে পরিষ্কার রাখেন। আমরা প্রতিদিন যে পরিচ্ছন্ন নগরী দেখতে পাই, তার পেছনে আপনাদের নিরলস পরিশ্রম রয়েছে।” পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, তাঁদের বেতনের পরিমাণ খুবই কম।

বেতন বৃদ্ধি ও আবাসনের আশ্বাস

প্রতিমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে যাতে বেতন বাড়ে, সে বিষয়ে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন। এছাড়া হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য আধুনিক আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। তাঁদের পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে বা অন্য কোনো সমস্যায় পড়লেও তিনি পাশে থাকবেন।

কাজের অধিকার নিয়েও তিনি আশ্বাস দেন। তাঁর ভাষ্য, অন্য কেউ যাতে এই কর্মীদের কাজের সুযোগ কেড়ে নিতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাদের ওপর আস্থা রাখবেন। আল্লাহর রহমতে আমরা যা বলি, তা করার চেষ্টা করি। আমরা চাই, সবাই মিলে পরিচ্ছন্ন টাঙ্গাইল ও নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলব।”

মাদক থেকে দূরে থাকার পরামর্শ

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি মাদক থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, মাদক মানুষের জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। ফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পরিবারের ওপরও পড়ে।

অনুষ্ঠানে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন

অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ ও পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সেলিম মিঞা এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া।

জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিকও এসেছিলেন। পাশাপাশি জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় হোড় শুভসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। হরিজন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।