বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সহযোগিতা ও যৌথ উদ্যোগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়া। এ খাতে প্রকল্পের অর্থায়ন, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহী দেশটি। পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদন ও প্রযুক্তি উন্নয়নেও দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার রাজধানীর ওয়েস্টিন ঢাকার গ্র্যান্ড বলরুমে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও জ্বালানি রূপান্তর’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব বিষয় উঠে আসে। অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এবিসিসিআই) আয়োজিত এ সেমিনারে সহযোগিতা করে অস্ট্রেলিয়ান ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশন (অস্ট্রেড), রিনিউয়েবল এনার্জি কাউন্সিল ও স্মার্ট এনার্জি কাউন্সিল।
সেমিনারে সরকারি সংস্থা, বেসরকারি খাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কূটনৈতিক মিশন ও উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিনিধিসহ প্রায় ১৫০ জন অংশ নেন। অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা বাণিজ্য প্রতিনিধিদলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ছিলেন। তাঁদের অনেকের জন্য এটি ছিল বাংলাদেশে প্রথম সফর।
এবিসিসিআইয়ের সভাপতি এম মকসুদ বলেন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর উচ্চদক্ষতাসম্পন্ন কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করে। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা প্রচলিত বাণিজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও বিনিয়োগে সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শিল্প ও বাণিজ্যিক ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের অবকাঠামো উন্নয়নে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে বলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎপ্রাপ্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও টেকসই উপায়ে ক্রমবর্ধমান জ্বালানির চাহিদা পূরণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি জানান, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আসে। এ কারণে খাতটিতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।
অস্ট্রেডের জ্যেষ্ঠ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশনার জোডি ম্যাকে বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি রূপান্তর আন্তর্জাতিক ব্যবসার জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। বাংলাদেশের বাজার সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদার খোঁজা এবং বাণিজ্যিক সুযোগ যাচাই করতেই অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধিদলের এ সফর। সৌরবিদ্যুৎ ও বায়োমাসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।
সেমিনারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে অর্থায়ন, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণোদনা, বিনিয়োগের সুযোগ এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব ড. মোহাম্মদ সোলাইমান, রিনিউয়েবল এনার্জি কাউন্সিলের জন গ্রিমসসহ বিভিন্ন আর্থিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
























