ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলোচনায় সেই ধর্মীয় ফতোয়া, পরমাণু অস্ত্র নিয়ে কী ভাবছে ইরান?



ফটোকার্ড ডাউনলোড

পরমাণু অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রাখা নীতি পুনর্বিবেচনা করছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এ বিষয়ে পরিবর্তনের প্রশ্নটি এখন ‘বাস্তব বিষয়’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে সম্প্রতি করা এক জরিপেও বেশিরভাগ মানুষ পরমাণু ইস্যুতে নেওয়া নীতি পরিবর্তনের কথা বলছে।

গত সোমবার (২ নভেম্বর) এক বক্তব্যে বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হুমকির কারণে ইরানের পরমাণু নীতি পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, ২০০৩ সালে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি পরমাণু অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে একটি ধর্মীয় ফতোয়া জারি করেছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরাইলি হামলায় তিনি নিহত হন।

বাঘাই বলেন, পরমাণু অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যে ফতোয়া জারি করেছিলেন, অন্য পক্ষ সেই ব্যক্তিকেই হত্যা করেছে।

তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সব সময় শান্তিপূর্ণ ছিল এবং এখনো আছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, ইরান এখনো পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) সদস্য এবং চুক্তির বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এদিকে ইরানের পরমাণু নীতি পরিবর্তনের দাবি দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের মধ্যেও জোরালো হচ্ছে। গত সপ্তাহে তেহরানের অন্তর্বর্তীকালীন জুমার নামাজের ইমাম মোহাম্মদ জাভাদ হাজ আলী আকবারি পরমাণু অস্ত্র অর্জনের পথে এগোনোর আহ্বান জানান। তিনি একে ‘জাতীয় দাবি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তার দাবি, জনমত জরিপে ৭০ শতাংশ ইরানি এই নীতি পরিবর্তনের পক্ষে। তবে জরিপের কোনো সূত্র তিনি উল্লেখ করেননি।

আইনপ্রণেতা আহমদ নাদেরিও দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পরমাণু পরীক্ষা চালানো এবং পারমাণবিক বোমা তৈরির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। তার ধারণা, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান তার বাবা আলী খামেনির চেয়ে ভিন্ন হতে পারে।

তার মতে, পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় নীতিও পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

তবে পরমাণু নীতি পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। আবার যুদ্ধ শুরু হলে আগের নীতি ধরে রাখা উচিত কি না, সে প্রশ্নও উঠছে।

অন্যদিকে, ইরানের ভেতরেই পরমাণু অস্ত্র তৈরির দাবির বিরোধিতা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাদের বাস্তানি মনে করেন, এ ধরনের দাবি আবেগনির্ভর এবং তা ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ সংঘাতের অজুহাত তৈরি করতে পারে।

তার মতে, পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিবর্তে এনপিটি চুক্তির প্রতি অঙ্গীকার, যাচাইযোগ্য নিশ্চয়তা এবং আঞ্চলিক পরমাণু সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া উচিত।

আরেক বিশ্লেষক কিওমার্স আশতারিয়ানের মতে, পরমাণু অস্ত্র তৈরি করলে তা মূলত অন্য পক্ষের পরমাণু হামলা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর ফলে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে এবং চীন ও রাশিয়ার বিরোধিতার মুখেও পড়তে পারে দেশটি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে ইরান নিজেদের সাত দফা প্রস্তাব বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। বাঘাইয়ের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হবে না। একই শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া বা এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছ থেকে একটি চিঠি পাওয়ার কথাও নিশ্চিত করেছেন রেজায়ি। তবে এখনো এর জবাব দেননি তিনি।

এদিকে মার্কিন সম্প্রচারক টাকার কার্লসন সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক দিনের মধ্যে ইরানে পরমাণু হামলা চালাতে পারে।

তার দাবি, সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন পরমাণু স্থাপনা। তবে কার্লসনের এই দাবির পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

আলোচনায় সেই ধর্মীয় ফতোয়া, পরমাণু অস্ত্র নিয়ে কী ভাবছে ইরান?

আপডেট সময় : ০১:৪০:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬


ফটোকার্ড ডাউনলোড

পরমাণু অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রাখা নীতি পুনর্বিবেচনা করছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এ বিষয়ে পরিবর্তনের প্রশ্নটি এখন ‘বাস্তব বিষয়’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে সম্প্রতি করা এক জরিপেও বেশিরভাগ মানুষ পরমাণু ইস্যুতে নেওয়া নীতি পরিবর্তনের কথা বলছে।

গত সোমবার (২ নভেম্বর) এক বক্তব্যে বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হুমকির কারণে ইরানের পরমাণু নীতি পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, ২০০৩ সালে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি পরমাণু অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে একটি ধর্মীয় ফতোয়া জারি করেছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরাইলি হামলায় তিনি নিহত হন।

বাঘাই বলেন, পরমাণু অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যে ফতোয়া জারি করেছিলেন, অন্য পক্ষ সেই ব্যক্তিকেই হত্যা করেছে।

তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সব সময় শান্তিপূর্ণ ছিল এবং এখনো আছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, ইরান এখনো পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) সদস্য এবং চুক্তির বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এদিকে ইরানের পরমাণু নীতি পরিবর্তনের দাবি দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের মধ্যেও জোরালো হচ্ছে। গত সপ্তাহে তেহরানের অন্তর্বর্তীকালীন জুমার নামাজের ইমাম মোহাম্মদ জাভাদ হাজ আলী আকবারি পরমাণু অস্ত্র অর্জনের পথে এগোনোর আহ্বান জানান। তিনি একে ‘জাতীয় দাবি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তার দাবি, জনমত জরিপে ৭০ শতাংশ ইরানি এই নীতি পরিবর্তনের পক্ষে। তবে জরিপের কোনো সূত্র তিনি উল্লেখ করেননি।

আইনপ্রণেতা আহমদ নাদেরিও দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পরমাণু পরীক্ষা চালানো এবং পারমাণবিক বোমা তৈরির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। তার ধারণা, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান তার বাবা আলী খামেনির চেয়ে ভিন্ন হতে পারে।

তার মতে, পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় নীতিও পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

তবে পরমাণু নীতি পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। আবার যুদ্ধ শুরু হলে আগের নীতি ধরে রাখা উচিত কি না, সে প্রশ্নও উঠছে।

অন্যদিকে, ইরানের ভেতরেই পরমাণু অস্ত্র তৈরির দাবির বিরোধিতা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাদের বাস্তানি মনে করেন, এ ধরনের দাবি আবেগনির্ভর এবং তা ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ সংঘাতের অজুহাত তৈরি করতে পারে।

তার মতে, পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিবর্তে এনপিটি চুক্তির প্রতি অঙ্গীকার, যাচাইযোগ্য নিশ্চয়তা এবং আঞ্চলিক পরমাণু সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া উচিত।

আরেক বিশ্লেষক কিওমার্স আশতারিয়ানের মতে, পরমাণু অস্ত্র তৈরি করলে তা মূলত অন্য পক্ষের পরমাণু হামলা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর ফলে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে এবং চীন ও রাশিয়ার বিরোধিতার মুখেও পড়তে পারে দেশটি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে ইরান নিজেদের সাত দফা প্রস্তাব বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। বাঘাইয়ের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হবে না। একই শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া বা এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছ থেকে একটি চিঠি পাওয়ার কথাও নিশ্চিত করেছেন রেজায়ি। তবে এখনো এর জবাব দেননি তিনি।

এদিকে মার্কিন সম্প্রচারক টাকার কার্লসন সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক দিনের মধ্যে ইরানে পরমাণু হামলা চালাতে পারে।

তার দাবি, সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন পরমাণু স্থাপনা। তবে কার্লসনের এই দাবির পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।