যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে প্রাথমিক ভোট গণনায় রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পেছনে ফেলেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোট গণনা শেষে এল-সাইয়েদের ঝুলিতে পড়েছে ৫৩ শতাংশ ভোট। বিপরীতে রজার্স পেয়েছেন ৪৫ শতাংশ। আর লিবার্টারিয়ান পার্টির প্রার্থী লিডিয়া ক্রিস্টেনসেনের প্রাপ্ত ভোটের হার প্রায় ১ শতাংশ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেট্রয়েট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগানের সিনেট আসনটি ঘিরে লড়াইকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রতি মার্কিন জনগণের সমর্থন যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ নির্বাচনে জাতীয় রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
৪২ বছর বয়সী আবদুল এল-সাইয়েদ মিশিগানের অ্যান আরবার এলাকার বাসিন্দা। তিনি ডেট্রয়েট ও ওয়েন কাউন্টিতে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনী প্রচারে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিক প্রভাব এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেছেন তিনি। একই সঙ্গে শ্রমিক ইউনিয়নকে আরও শক্তিশালী করা এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী।
অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী ৬৩ বছর বয়সী মাইক রজার্স হোয়াইট লেক টাউনশিপের সাবেক কংগ্রেস সদস্য। প্রতিনিধি পরিষদে টানা সাত মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এ ছাড়া কংগ্রেসের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে জ্বালানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও প্রেসক্রিপশন ওষুধের মূল্য কমানো, মিশিগানে উৎপাদনশিল্পের প্রসার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মতাদর্শিক প্রভাবমুক্ত রাখার কথা জানিয়েছেন রজার্স।
২০১৫ সাল থেকে মিশিগানের এই সিনেট আসনের প্রতিনিধিত্ব করে আসা ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচন না করার ঘোষণা দেওয়ায় আসনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।
এ নির্বাচনে জয় পেলে নতুন ইতিহাস গড়বেন আবদুল এল-সাইয়েদ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম এবং ১৯৬৯ সালের পর দায়িত্ব নেওয়া প্রথম ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক হওয়ার সুযোগ পাবেন। তাঁর সম্ভাব্য জয় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল ধারার রাজনীতিকদের অবস্থানও আরও জোরালো করতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মিশিগানের মতো অঙ্গরাজ্যে প্রগতিশীল প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন দলটির এই অংশের নেতারা।
নিজের ধর্মীয় পরিচয় ও আরবি নাম নির্বাচনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে—এমন বিশ্লেষণের সঙ্গে একমত নন এল-সাইয়েদ। ভোটের আগের দিন ডেট্রয়েটের ম্যাজেস্টিক থিয়েটারে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘তারা যখন বলে আমি জিততে পারব না, তখন তারা আসলে আমাকে নিয়ে কথা বলছে না, আপনাদের নিয়ে কথা বলছে।’ মিশিগানের মানুষের উদারতা, মুক্তচিন্তা, আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের মানসিকতার ওপরও আস্থা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, মাইক রজার্স নির্বাচনে জয়ী হলে গত পাঁচ দশকে মিশিগান থেকে নির্বাচিত দ্বিতীয় রিপাবলিকান সিনেটর হবেন। এর আগে ১৯৯৪ সালে রিপাবলিকান প্রার্থী স্পেন্সার আব্রাহাম অঙ্গরাজ্যটি থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডেবি স্ট্যাবেনোর কাছে পরাজিত হন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সিনেট নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন রজার্স। তবে সে নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এলিসা স্লটকিনের কাছে প্রায় ১৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারতে হয় তাঁকে।
এবারের নির্বাচনের আগে রচেস্টার হিলসে রিপাবলিকান প্রার্থীদের এক সমাবেশে রজার্স বলেন, ‘এই লড়াই বামপন্থা বা ডানপন্থার চেয়েও বড়। এটি নির্ধারণ করবে আমেরিকায় আমরা কারা এবং আমাদের সন্তানদের জন্য আমেরিকাকে কেমন দেখতে চাই।’

























