১৯৭২ সালের সংবিধান অক্ষুণ্ণ রেখেই জুলাই সনদের প্রস্তাবিত সংস্কারসমূহ বাস্তবায়ন করতে হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। জাতীয় এই দলিলকে ভিত্তি ধরে সরকার সংস্কার কার্যক্রমে সামনে এগোতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় আইনমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
সংবিধান সংস্কারে মৌলিক কাঠামো তত্ত্ব
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, যেকোনো সংবিধান সংস্কার বা সংশোধন প্রক্রিয়াকে অবশ্যই মৌলিক কাঠামো তত্ত্বের (Basic Structure Doctrine) পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭৩ সালের ঐতিহাসিক কেশবানন্দ ভারতী মামলায় প্রথম এই তত্ত্বের সিদ্ধান্ত দিয়েছিল।
পরবর্তীতে বাংলাদেশের সংবিধানেও সাংবিধানিক মামলার রায়ে, বিশেষ করে সংবিধানের ৮ম সংশোধনী বাতিলের রায়ে, এই তত্ত্বটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়। তাই বর্তমান আইনি কাঠামো বজায় রেখেই সব পরিবর্তন আনতে হবে।
বিদ্যমান সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া
আইনমন্ত্রী বলেন, যারা ১৯৭২ সালের সংবিধান সম্পূর্ণ বাতিল করে নতুন সংবিধান রচনার কথা বলছেন, তাদের অবস্থান ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু বিদ্যমান সংবিধান যতক্ষণ বহাল আছে, ততক্ষণ সংশোধনের মাধ্যমেই সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে।
জুলাই সনদে মোট ৩০টি রাজনৈতিক দল সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় একত্রিত হয়ে স্বাক্ষর করেছে। এই সনদে ৬টি অনুচ্ছেদ ও ৭টি ঘোষণাপত্র রয়েছে। সনদের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের ‘ক’ ও ‘খ’ অংশে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই বিভিন্ন সংস্কার বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এর স্পষ্ট অর্থ হলো, ১৯৭২ সালের সংবিধানকে মূল ভিত্তি হিসেবে রেখেই সব সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সংসদীয় সংস্কার কমিটির বর্তমান অবস্থা
সংবিধান সংস্কারের উদ্দেশ্যে সংসদে একটি কমিটি গঠনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রথম অধিবেশনে ১৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী বিএনপি থেকে সাতজন এবং অন্যান্য সমমনা দলগুলো থেকে পাঁচজন সদস্য রাখার কথা ছিল। তবে বিরোধী দলের কাছ থেকে প্রস্তাবিত পাঁচজনের নাম এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে বর্তমানে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বাকি সদস্যদের নামের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক সংস্কার ও গোলটেবিল আলোচনা
সরকার কোনো ধরনের খুন বা গুমের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরতে চায় না বলে পুনর্ব্যক্ত করেন আইনমন্ত্রী। সংস্কারের কাজে কোনো দুর্বলতা থাকলে বাস্তবতা মেনে নিয়ে যুক্তিসংগত পরামর্শ বিবেচনা করা হবে।
জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় এই গোলটেবিল আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। এছাড়া গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।






















