দেশে চলমান গ্যাস সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর। আগামী মাসে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্পিনিং রিজার্ভ নিয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে। মূলত গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি সংকটের কারণেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।
স্পিনিং রিজার্ভ কি এবং এটি কেন জরুরি?
স্পিনিং রিজার্ভ হলো এমন এক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সক্ষমতা, যা আপৎকালে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত থাকে। রূপপুর কেন্দ্রটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে এই রিজার্ভ তাৎক্ষণিকভাবে গ্রিডের ঘাটতি পূরণ করবে। ফলে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় বা গ্রিড ধসের ঝুঁকি কমে যাবে।
রাশিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসটিসি-ইউপিএস গ্রিডের নিরাপত্তার জন্য গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোকে স্পিনিং রিজার্ভ হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। তবে দেশে সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থাকলেও গ্যাস সংকটে অর্ধেক সক্ষমতাই অলস বসে থাকে।
+-------------------------------------------------------+
| স্পিনিং রিজার্ভের প্রয়োজনীয়তা |
+-------------------------------------------------------+
| ১. রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র হঠাৎ বন্ধের ক্ষতি ঠেকানো |
| ২. জাতীয় গ্রিডের সাময়িক ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা |
| ৩. বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় বা গ্রিড ধস রোধ করা |
+-------------------------------------------------------+
প্রথম ইউনিটের সক্ষমতা ও গ্যাসের অভাব
বিপিডিবি ও পিজিসিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো স্পিনিং রিজার্ভ বর্তমানে রয়েছে। কিন্তু প্রথম ইউনিটের পূর্ণ সক্ষমতা (১,২০০ মেগাওয়াট) চালুর মতো পর্যাপ্ত রিজার্ভ নেই।
বুয়েটের বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, রূপপুরের প্রথম ইউনিট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে ৮ হাজার মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের জ্বালানি নিশ্চিত রাখা প্রয়োজন। এতে অন্তত অতিরিক্ত আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রিজার্ভ রাখতে প্রচুর গ্যাসের দরকার হবে, যা সরবরাহ করা বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ।
+------------------------------------+------------------------------------+
| তথ্য সূচক | পরিমাণ / বিবরণ |
+------------------------------------+------------------------------------+
| প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ | ৩০০ মেগাওয়াট |
| প্রথম ইউনিটের মোট উৎপাদন ক্ষমতা | ১,২০০ মেগাওয়াট |
| আবশ্যক ব্যাকআপ সক্ষমতা | ১,৯০৭ মেগাওয়াট (প্রাথমিক ও দ্বিতীয়) |
| প্রয়োজনীয় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র | ৮,০০০ মেগাওয়াট |
+------------------------------------+------------------------------------+
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ও সার্বিক পরিস্থিতি
বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, সঞ্চালন লাইন এখন প্রস্তুত। তবে প্রাথমিক ৩০০ মেগাওয়াটের জন্য কোনো সমস্যা হবে না বলে তিনি আশা করছেন।
পাওয়ার গ্রিডের কর্মকর্তারা ঘোড়াশাল, আশুগঞ্জ, হরিপুর ও মেঘনাঘাটের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহের তাগিদ দিয়েছেন। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আব্দুল হাসিব চৌধুরী বলেন, সঠিক স্পিনিং রিজার্ভ ছাড়া এই কেন্দ্র নিরাপদ রাখা অসম্ভব।
রাশিয়ার সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হলে বাংলাদেশ ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হবে। তাই এটি সচল করতে দ্রুত জ্বালানি সংকট সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।




















