ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২ কোটি শিশুর শিক্ষা ঝুঁকিতে, পড়তে পারে না অর্ধেক শিক্ষার্থী

২ কোটি শিশুর শিক্ষা ঝুঁকিতে, পড়তে পারে না অর্ধেক শিক্ষার্থী

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা আকারে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ। তবে এর গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে। দেশের প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ২ কোটি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮ জন। অথচ এদের একটি বড় অংশ শ্রেণী উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না।

বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ৫১ শতাংশই বয়স উপযোগী বাংলা-ইংরেজি লেখা পড়তে ও বুঝতে অক্ষম। পাশাপাশি গাণিতিক দক্ষতাতেও তারা পিছিয়ে। ফলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা একটি বড় ধরনের শিখন সংকটের মুখে পড়েছে।

বিশালতা ও ভঙ্গুরতার দ্বৈত চিত্র

শহর থেকে চর, হাওর, পাহাড় ও উপকূল—দেশের প্রতিটি প্রান্তে প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে গেছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় সাফল্য। তবে এই বিস্তৃতির পাশাপাশি নানা প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত দুর্বলতাও রয়ে গেছে।

চলতি বছর প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই দশকে সর্বজনীন সুযোগ সৃষ্টি ও জেন্ডার সমতায় অগ্রগতি হয়েছে ঠিকই। কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা নিশ্চিতে বড় ঘাটতি থেকে গেছে।

বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিসংখ্যান ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৬০৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ৬৫ হাজার ৫৬৭টি বিদ্যালয়ে পড়ছে ১ কোটি ৬ লাখ ১৭ হাজার ৯৬২ জন শিক্ষার্থী, যা মোট শিক্ষার্থীর ৫২ দশমিক ৬০ শতাংশ। উল্লেখ্য, এ পরিসংখ্যানে কওমি ধারার শিক্ষার্থীরা অন্তর্ভুক্ত নয়।

ঘাটতির পেছনে যেসব কারণ

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শিখন ঘাটতির পেছনে একাধিক কাঠামোগত সমস্যা কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্বল পাঠদান পদ্ধতি, স্কুল নেতৃত্বের অভাব, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, জলবায়ুজনিত বিঘ্ন এবং শিক্ষা খাতে কম বরাদ্দ।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন বলেন, করোনাকালে প্রায় দুই বছর বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বড় ধরনের শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। তিনি জানান, এ ঘাটতি পূরণে নেয়া পরিকল্পনাগুলো তেমন কার্যকর হয়নি। এছাড়া শিক্ষকদের পেশাগত অসন্তোষের কারণে মেধাবীরা এ পেশায় আসতে আগ্রহী হচ্ছেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষক নিজেদের ডিজিটাল দক্ষ দাবি করলেও বাস্তবে মাত্র এক-চতুর্থাংশ শ্রেণীকক্ষে তা প্রয়োগ করতে পারছেন। আট বিভাগের ১৬টি উপজেলার ১৩ হাজারের বেশি শিক্ষকের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্যতা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে প্রধান শিক্ষকের মোট পদ ৬৫ হাজার ৫৫৩টি। এর মধ্যে ২৭ হাজার ৭৩৪টি পদই শূন্য রয়েছে, যা সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সামলাচ্ছেন। গত ১৩ আগস্ট এক মতবিনিময় সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

পিইডিপি-৫ প্রকল্প ও ব্যয়ের পরিকল্পনা

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৫) প্রস্তাব বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায়। ৪১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকার এ প্রকল্পে সরকারি ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা, বাকি ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা আসবে এডিবি, বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোর মতো দাতা সংস্থা থেকে।

প্রকল্পের আওতায় থাকছে ইউনিফর্ম-ব্যাগ-জুতা প্রদান, শিক্ষকদের ট্যাব ও প্রশিক্ষণ, ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রম, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ১৫ হাজার ৬৪১টি শ্রেণীকক্ষ নির্মাণ, ১ হাজার ৫০০টি ওয়াশ ব্লক এবং ফাউন্ডেশন লিটারেসি অ্যান্ড নিউমেরাসি কার্যক্রম।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম মনে করেন, ওয়ান টিচার-ওয়ান ট্যাব বা নতুন কারিকুলাম চালু করলেই শিক্ষার মান বাড়বে না। বরং মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা ক্যাডার গঠনের পুরনো দাবিও নতুন করে তুলে ধরেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, করোনার ধাক্কা থেকে শিক্ষা ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এর সঙ্গে ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

এক দশকে দক্ষতার হারই কমেছে

জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে তৃতীয় শ্রেণীর ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলায় ও ৩৯ শতাংশ গণিতে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন করেছিল। ২০১১ সালে এ হার ছিল যথাক্রমে ৬৭ ও ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ, বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও এক যুগে দক্ষতা অর্জনের হার কমেছে।

উল্লেখ্য, পিইডিপি-৩ ও পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় ২০১১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ উদ্যোগ

এমন প্রেক্ষাপটে সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ পদ্ধতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ছবি-ভিডিও-গানের মাধ্যমে আকর্ষণীয়ভাবে পাঠদানের জন্য ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে সারা দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণী থেকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতির দুটি নতুন পাঠ্যপুস্তক যুক্ত করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

২ কোটি শিশুর শিক্ষা ঝুঁকিতে, পড়তে পারে না অর্ধেক শিক্ষার্থী

২ কোটি শিশুর শিক্ষা ঝুঁকিতে, পড়তে পারে না অর্ধেক শিক্ষার্থী

আপডেট সময় : ১২:১২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা আকারে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ। তবে এর গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে। দেশের প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ২ কোটি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮ জন। অথচ এদের একটি বড় অংশ শ্রেণী উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না।

বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ৫১ শতাংশই বয়স উপযোগী বাংলা-ইংরেজি লেখা পড়তে ও বুঝতে অক্ষম। পাশাপাশি গাণিতিক দক্ষতাতেও তারা পিছিয়ে। ফলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা একটি বড় ধরনের শিখন সংকটের মুখে পড়েছে।

বিশালতা ও ভঙ্গুরতার দ্বৈত চিত্র

শহর থেকে চর, হাওর, পাহাড় ও উপকূল—দেশের প্রতিটি প্রান্তে প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে গেছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় সাফল্য। তবে এই বিস্তৃতির পাশাপাশি নানা প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত দুর্বলতাও রয়ে গেছে।

চলতি বছর প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই দশকে সর্বজনীন সুযোগ সৃষ্টি ও জেন্ডার সমতায় অগ্রগতি হয়েছে ঠিকই। কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা নিশ্চিতে বড় ঘাটতি থেকে গেছে।

বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিসংখ্যান ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৬০৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ৬৫ হাজার ৫৬৭টি বিদ্যালয়ে পড়ছে ১ কোটি ৬ লাখ ১৭ হাজার ৯৬২ জন শিক্ষার্থী, যা মোট শিক্ষার্থীর ৫২ দশমিক ৬০ শতাংশ। উল্লেখ্য, এ পরিসংখ্যানে কওমি ধারার শিক্ষার্থীরা অন্তর্ভুক্ত নয়।

ঘাটতির পেছনে যেসব কারণ

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শিখন ঘাটতির পেছনে একাধিক কাঠামোগত সমস্যা কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্বল পাঠদান পদ্ধতি, স্কুল নেতৃত্বের অভাব, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, জলবায়ুজনিত বিঘ্ন এবং শিক্ষা খাতে কম বরাদ্দ।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন বলেন, করোনাকালে প্রায় দুই বছর বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বড় ধরনের শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। তিনি জানান, এ ঘাটতি পূরণে নেয়া পরিকল্পনাগুলো তেমন কার্যকর হয়নি। এছাড়া শিক্ষকদের পেশাগত অসন্তোষের কারণে মেধাবীরা এ পেশায় আসতে আগ্রহী হচ্ছেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষক নিজেদের ডিজিটাল দক্ষ দাবি করলেও বাস্তবে মাত্র এক-চতুর্থাংশ শ্রেণীকক্ষে তা প্রয়োগ করতে পারছেন। আট বিভাগের ১৬টি উপজেলার ১৩ হাজারের বেশি শিক্ষকের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্যতা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে প্রধান শিক্ষকের মোট পদ ৬৫ হাজার ৫৫৩টি। এর মধ্যে ২৭ হাজার ৭৩৪টি পদই শূন্য রয়েছে, যা সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সামলাচ্ছেন। গত ১৩ আগস্ট এক মতবিনিময় সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

পিইডিপি-৫ প্রকল্প ও ব্যয়ের পরিকল্পনা

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৫) প্রস্তাব বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায়। ৪১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকার এ প্রকল্পে সরকারি ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা, বাকি ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা আসবে এডিবি, বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোর মতো দাতা সংস্থা থেকে।

প্রকল্পের আওতায় থাকছে ইউনিফর্ম-ব্যাগ-জুতা প্রদান, শিক্ষকদের ট্যাব ও প্রশিক্ষণ, ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রম, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ১৫ হাজার ৬৪১টি শ্রেণীকক্ষ নির্মাণ, ১ হাজার ৫০০টি ওয়াশ ব্লক এবং ফাউন্ডেশন লিটারেসি অ্যান্ড নিউমেরাসি কার্যক্রম।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম মনে করেন, ওয়ান টিচার-ওয়ান ট্যাব বা নতুন কারিকুলাম চালু করলেই শিক্ষার মান বাড়বে না। বরং মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা ক্যাডার গঠনের পুরনো দাবিও নতুন করে তুলে ধরেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, করোনার ধাক্কা থেকে শিক্ষা ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এর সঙ্গে ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

এক দশকে দক্ষতার হারই কমেছে

জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে তৃতীয় শ্রেণীর ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলায় ও ৩৯ শতাংশ গণিতে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন করেছিল। ২০১১ সালে এ হার ছিল যথাক্রমে ৬৭ ও ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ, বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও এক যুগে দক্ষতা অর্জনের হার কমেছে।

উল্লেখ্য, পিইডিপি-৩ ও পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় ২০১১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ উদ্যোগ

এমন প্রেক্ষাপটে সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ পদ্ধতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ছবি-ভিডিও-গানের মাধ্যমে আকর্ষণীয়ভাবে পাঠদানের জন্য ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে সারা দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণী থেকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতির দুটি নতুন পাঠ্যপুস্তক যুক্ত করা হচ্ছে।