ঢাকা ১২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে সার সংকট: গুদাম ভেঙে ১০ হাজার কেজি নিলেন কৃষকরা

কুড়িগ্রামে সার সংকট: গুদাম ভেঙে ১০ হাজার কেজি নিলেন কৃষকরা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সার সংকটের অভিযোগে ক্ষুব্ধ কৃষকরা একটি ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে ফেলেন। এ সময় তারা প্রায় ১০ হাজার কেজি ইউরিয়া সার নিয়ে যান। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে মেসার্স শাহ আমানত ট্রেডার্সের গুদামে।

আমন মৌসুমকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডিলার পর্যায়ে সার-সংকটের অভিযোগ উঠছিল বেশ কিছুদিন ধরে। কৃষকদের অভিযোগ, খোলাবাজারে বাড়তি দামে সার মিললেও ডিলার পয়েন্টে তা পাওয়া যাচ্ছিল না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ জমছিল দীর্ঘদিন ধরে।

ঘটনার দিন সকাল থেকেই দুই শতাধিক কৃষক ডিলার পয়েন্টে ভিড় জমান। তবে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও গুদাম না খোলায় ধৈর্য হারান তারা। ফলে ক্ষুব্ধ কৃষকরা নিজেরাই গুদামের দরজা ভেঙে ১৯৭ বস্তা তথা প্রায় ৯ হাজার ৮৫০ কেজি ইউরিয়া সার নিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সার ফেরতে পুলিশি তৎপরতা

পুলিশের উদ্যোগে ইতিমধ্যে ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। তবে বাকি সার উদ্ধারে এখনও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে থানা পুলিশ। ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংকটের আশঙ্কা থেকেই কৃষকরা এমন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

কৃষি কর্মকর্তাদের বক্তব্য

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে শিলখুড়ি ইউনিয়নের জন্য ১ হাজার ৩৬০ বস্তা ইউরিয়াসহ ডিএপি ও টিএসপি সার বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে ডিলার নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী সার উত্তোলন করে সরবরাহও করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী জেলায় পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে এক ইউনিয়নের ঘাটতি অন্য ইউনিয়ন থেকে পূরণ করা হয়। তারপরও এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।

কৃষি সচিবের প্রতিক্রিয়া

কৃষি সচিব মো. সেলিম খান দাবি করেছেন, দেশে সারের কোনো প্রকৃত ঘাটতি নেই। তার মতে, কুড়িগ্রামের ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল এবং সেখানে পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকার কারণেই কৃষকরা তা সংগ্রহ করতে পেরেছেন।

এছাড়া মনিটরিংয়ে গাফিলতির অভিযোগে রাজশাহী, জয়পুরহাট ও মেহেরপুরের তিন কৃষি কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি সার সরবরাহ তদারকিতে মন্ত্রণালয় থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

নতুন ডিলার নীতিমালা নিয়ে অসন্তোষ

কৃষি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন ডিলার নিয়োগ নীতিমালার কারণে অনেক পুরনো ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা তাদের অবস্থান হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। এ কারণে কিছু পক্ষ কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, কৃষকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সরকারের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, নতুন নীতিমালার অধীনে ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে এবং আবেদনের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ আগস্ট।

জাতীয় পর্যায়ে সারের চিত্র

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরে দেশে মোট সারের চাহিদা প্রায় ৬৭ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টন। এর মধ্যে ইউরিয়ার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২৬ লাখ ২২ হাজার টন। আগস্ট মাসে জাতীয় পর্যায়ে সারের বরাদ্দ ছিল প্রায় ৫ লাখ ১৪ হাজার ৪০০ টন, তবে ১২ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী বরাদ্দের চেয়েও বেশি সার ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

২ কোটি শিশুর শিক্ষা ঝুঁকিতে, পড়তে পারে না অর্ধেক শিক্ষার্থী

কুড়িগ্রামে সার সংকট: গুদাম ভেঙে ১০ হাজার কেজি নিলেন কৃষকরা

আপডেট সময় : ১১:১৬:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সার সংকটের অভিযোগে ক্ষুব্ধ কৃষকরা একটি ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে ফেলেন। এ সময় তারা প্রায় ১০ হাজার কেজি ইউরিয়া সার নিয়ে যান। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে মেসার্স শাহ আমানত ট্রেডার্সের গুদামে।

আমন মৌসুমকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডিলার পর্যায়ে সার-সংকটের অভিযোগ উঠছিল বেশ কিছুদিন ধরে। কৃষকদের অভিযোগ, খোলাবাজারে বাড়তি দামে সার মিললেও ডিলার পয়েন্টে তা পাওয়া যাচ্ছিল না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ জমছিল দীর্ঘদিন ধরে।

ঘটনার দিন সকাল থেকেই দুই শতাধিক কৃষক ডিলার পয়েন্টে ভিড় জমান। তবে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও গুদাম না খোলায় ধৈর্য হারান তারা। ফলে ক্ষুব্ধ কৃষকরা নিজেরাই গুদামের দরজা ভেঙে ১৯৭ বস্তা তথা প্রায় ৯ হাজার ৮৫০ কেজি ইউরিয়া সার নিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সার ফেরতে পুলিশি তৎপরতা

পুলিশের উদ্যোগে ইতিমধ্যে ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। তবে বাকি সার উদ্ধারে এখনও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে থানা পুলিশ। ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংকটের আশঙ্কা থেকেই কৃষকরা এমন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

কৃষি কর্মকর্তাদের বক্তব্য

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে শিলখুড়ি ইউনিয়নের জন্য ১ হাজার ৩৬০ বস্তা ইউরিয়াসহ ডিএপি ও টিএসপি সার বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে ডিলার নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী সার উত্তোলন করে সরবরাহও করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী জেলায় পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে এক ইউনিয়নের ঘাটতি অন্য ইউনিয়ন থেকে পূরণ করা হয়। তারপরও এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।

কৃষি সচিবের প্রতিক্রিয়া

কৃষি সচিব মো. সেলিম খান দাবি করেছেন, দেশে সারের কোনো প্রকৃত ঘাটতি নেই। তার মতে, কুড়িগ্রামের ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল এবং সেখানে পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকার কারণেই কৃষকরা তা সংগ্রহ করতে পেরেছেন।

এছাড়া মনিটরিংয়ে গাফিলতির অভিযোগে রাজশাহী, জয়পুরহাট ও মেহেরপুরের তিন কৃষি কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি সার সরবরাহ তদারকিতে মন্ত্রণালয় থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

নতুন ডিলার নীতিমালা নিয়ে অসন্তোষ

কৃষি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন ডিলার নিয়োগ নীতিমালার কারণে অনেক পুরনো ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা তাদের অবস্থান হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। এ কারণে কিছু পক্ষ কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, কৃষকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সরকারের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, নতুন নীতিমালার অধীনে ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে এবং আবেদনের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ আগস্ট।

জাতীয় পর্যায়ে সারের চিত্র

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরে দেশে মোট সারের চাহিদা প্রায় ৬৭ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টন। এর মধ্যে ইউরিয়ার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২৬ লাখ ২২ হাজার টন। আগস্ট মাসে জাতীয় পর্যায়ে সারের বরাদ্দ ছিল প্রায় ৫ লাখ ১৪ হাজার ৪০০ টন, তবে ১২ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী বরাদ্দের চেয়েও বেশি সার ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।