দেশের মসলার বাজারদরে বেশ পরিবর্তন এসেছে। ফলে ক্রেতাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কমেছে জিরার দাম। কিন্তু উল্টো চিত্রে হঠাৎ করেই এলাচের দর বেড়ে গিয়েছে।
কমেছে জিরার দাম
সম্প্রতি পাইকারি ও খুচরা বাজারে জিরার দর উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে জিরার দাম কমেছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। ভারতীয় বাজারে দাম কমার কারণে দেশের বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে ভারতীয় জিরা বিক্রি হচ্ছে ৪৬০ থেকে ৪৬৫ টাকায়। তবে তুরস্ক ও আফগানিস্তানের জিরা কিছুটা বেশি দামে লেনদেন হচ্ছে। এই মানের জিরা প্রতি কেজি ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
সাতক্ষীরার মসলা বাজারেও জিরার দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বাড়ায় আগস্টে দাম ৫০০ টাকার নিচে নেমে আসে। অথচ দুই বছর আগে প্রতি কেজি জিরার দাম ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে এলাচ
জিরার দাম কমলেও বাজারে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে এলাচের ক্ষেত্রে। মূলত দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর পণ্যটির দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। এক মাসের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে কেজিতে এলাচের দাম বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত।
বর্তমানে খাতুনগঞ্জে ভারতীয় এলএনজি এলাচ ৪ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে গুয়াতেমালা থেকে আসা এলাচের দাম পৌঁছেছে ৪ হাজার ২৫০ টাকায়। ব্যবসায়ীদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও আমদানি কমে যাওয়ায় বাজার অস্থিতিশীল হয়েছে।
অন্যান্য মসলার দর পরিস্থিতি
এলাচের পাশাপাশি বাজারে লবঙ্গ ও দারুচিনির দামও নতুন করে বেড়েছে। বর্তমানে লবঙ্গ প্রতি কেজি ১ হাজার ৩৩০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি চীনা দারুচিনি ৩৫০ টাকা এবং ভিয়েতনামি দারুচিনি ৪২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে গোলমরিচের দাম কেজিতে ১ হাজার টাকার মধ্যে অপরিবর্তিত রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষার কারণে এতদিন মসলার সার্বিক চাহিদা কিছুটা কম ছিল। তবে বর্ষা শেষের দিকে আসায় এখন চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। এর ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে জিরার দাম আরও কমতে পারে বলে আশা করছেন তারা।



















