হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে, যেখানে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মজুদ আবারও দ্রুত কমতে শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া দাম
গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের অক্টোবরের সরবরাহ চুক্তির দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলার ছাড়িয়ে যায়। গত ২৪ জুলাইয়ের পর এটিই ছিল ব্রেন্টের সর্বোচ্চ দাম।
একই সময়ে মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে বিশ্ববাজারের তেল ব্যবসায়ীরা এখন বৈশ্বিক মজুদের পরিমাণের দিকে কড়া নজর রাখছেন। কারণ সরবরাহ ধাক্কা সামলাতে মজুদ তেলের ব্যবহারই বড় ভরসা।
কমেছে প্রধান দেশের মজুদ
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যানুযায়ী, গত শুক্রবার বিশ্বে অপরিশোধিত তেলের মোট মজুদ ছিল ৩৪৫ কোটি ব্যারেল। এর মধ্যে দেশের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত—উভয় ধরনের মজুদই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সময়ের তুলনায় এই তেলের বড় অংশ কমেছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মজুদ ৬ শতাংশ কমেছে। দেশভিত্তিক হিসাবে জাপানে ১৮ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ শতাংশ এবং চীনে ৫ শতাংশ মজুদ কমেছে। এছাড়া চীন সম্প্রতি তেলজাত পণ্যের ব্যবহার ও রফতানি দুটোই কমিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় সংঘাত
জুলাইয়ের শেষের দিকে অবশ্য আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মজুদ কিছুটা বাড়তে শুরু করেছিল। কারণ সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর ইতিবাচক প্রভাবে হরমুজ প্রণালিতে সাময়িকভাবে জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছিল।
তবে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইরান আবার প্রণালিটি বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বজুড়ে তেল রফতানির গতি হঠাৎ ধীর হয়ে পড়ে।
জাপানের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কেন কোয়ামা জানান, সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে গিয়ে দেশগুলো মজুদ থেকে তেল খরচ করছে। ফলে তেলের মজুদ দ্রুত কমে আসছে। তার মতে, হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি হ্রাস
বর্তমান সংকটে বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র কতখানি কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে বড় সংশয় দেখা দিয়েছে। দেশের জ্বালানি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের তেল রফতানি দৈনিক ৩০.৫ লাখ ব্যারেলে নেমে আসে। যা গত নয় মাসের মধ্যে দেশটির সর্বনিম্ন রফতানি।



















