মিয়ানমার থেকে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতির নয় বছর পার হয়েছে। তবে এখনো মিয়ানমারে নিরাপদ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি হয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং ১৫টি দেশ যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
বাংলাদেশে অবস্থিত ব্রিটিশ হাইকমিশন তাদের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে এ সংক্রান্ত একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে ইইউ সহ কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিয়েছে। এছাড়া ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, কসোভো, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডও এই যুক্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে।
রাখাইনে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও মানবিক সংকট
বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে রাখাইনে সংঘাত মারাত্মকভাবে বাড়ছে। ফলে সেখানে মানবিক সংকটও অনেক তীব্র হচ্ছে।
মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালাচ্ছে। এছাড়া তারা ত্রাণ প্রদান ও বাণিজ্যে বাধা তৈরি করছে। এসব কারণে সেখানকার পরিস্থিতির দিন দিন আরও অবনতি ঘটছে।
শরণার্থীদের ধৈর্য ও বাংলাদেশের ভূমিকা
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত অবস্থায় বসবাস করছেন। দীর্ঘদিনের এই সংকটের মধ্যেও তাদের ধৈর্য ও সাহসের প্রশংসা করা হয়েছে।
একইসঙ্গে দীর্ঘ এক দশক ধরে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। তবে এই অস্থিতিশীলতার কারণে এখনও বহু রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রপথে পাড়ি জমিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন।
টেকসই সমাধানের প্রয়োজনীয়তা
সহিংসতার মূল কারণ চিহ্নিত করে মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। পাশাপাশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরি করতে হবে।
সফল প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও দক্ষতার উন্নয়ন ঘটানো প্রয়োজন। এতে তারা ভবিষ্যতে নিজেদের ঘরবাড়ি ও জীবিকা পুনর্গঠন করতে সক্ষম হবেন।
আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ
প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ সহায়তা পাবে। স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পাশে থাকবে।
সংকট মোকাবেলায় সহায়তা পদ্ধতির আরও উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে রোহিঙ্গাদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ন্যায্যতা ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের দায়িত্ব
সংকটটি দশম বছরে প্রবেশ করায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে বিষয়টি ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাজ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়া সংক্রান্ত মিয়ানমারের সম্মতির কথা জানিয়েছিলেন। তবে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এই বিষয়ে ইতিমধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।





















