মুসলিম নবজাগরণের অন্যতম অগ্রদূত রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের (সৈয়দ ফররুখ আহমদ) মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৯ অক্টোবর। তার জন্ম ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে। তার পিতা খান সাহেব সৈয়দ হাতেম আলী ছিলেন পুলিশ ইন্সপেক্টর। ফররুখ আহমদ ১৯৩৭ সালে খুলনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৩৯ সালে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ পাশ করে তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন ও ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স নিয়ে বিএ ভর্তি হন। কিন্তু পরীক্ষা না দিয়েই তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।
ছাত্রাবস্থায় তিনি বামপন্থি রাজনীতিতে ঝুঁকে পড়েন। তবে চল্লিশের দশকে তার রাজনৈতিক বিশ্বাসে পরিবর্তন আসে। কিশোর বয়সেই তিনি লেখালেখির জগতে প্রবেশ করেন। তার কর্মজীবন শুরু হয় কলকাতায়। তিনি ১৯৪৩ সালে আইজি প্রিজন অফিসে, ১৯৪৪ সালে সিভিল সাপ্লাইতে এবং ১৯৪৬ সালে জলপাইগুড়িতে একটি ফার্মে চাকরি করেন। ১৯৪৫ সালে তিনি মাসিক মোহাম্মদীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তবে শেষ পর্যন্ত স্থায়ীভাবে চাকরি করেন ঢাকা বেতারে।
দেশবিভাগের পর ১৯৪৮ সালে ফররুখ আহমদ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে এসে ঢাকা বেতারে যোগ দেন। সেখানেই প্রথমে অনিয়মিত হিসাবে এবং পরে নিয়মিত স্টাফ আর্টিস্ট হিসাবে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
ফররুখ আহমদ ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন। পরে তিনি ‘মুসলিম রেনেসাঁসের কবি’ হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। সনেটের রচয়িতা হিসাবেও তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে তিনি যে কাব্যভাষা সৃষ্টি করেছেন, তা স্বতন্ত্র এবং এ গ্রন্থ তার এক অমর সৃষ্টি।
ফররুখ আহমদের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো-সাত সাগরের মাঝি, সিরাজাম মুনিরা, নৌফেল ও হাতেম, মুহূর্তের কবিতা, হাতেম তায়ী ইত্যাদি। পাখির বাসা, হরফের ছড়া, ছড়ার আসর ইত্যাদি তার শিশুতোষ রচনা। সাহিত্যে বিশেষ অবদানে জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, স্বাধীনতা পুরস্কার, মরণোত্তর একুশে পদকসহ বেশকিছু পুরস্কার পেয়েছেন।
১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।






















