ঢাকা ১২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয়, নির্মিত হবে ১৪টি ভবন

পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয়, নির্মিত হবে ১৪টি ভবন



ফটোকার্ড ডাউনলোড

বাংলাদেশ সচিবালয় রাজধানীর আবদুল গনি রোডের বর্তমান অবস্থান থেকে সরিয়ে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন স্থানে ২০২৯ সালের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সচিবালয় স্থানান্তরের পর বর্তমান স্থাপনায় পুরান ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও অধস্তন আদালত স্থানান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

গত রোববার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরদিনই প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পরিকল্পনা কমিশনকে চিঠি দেয় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মধ্য দিয়ে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, সচিবালয় স্থানান্তরের মূল প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে স্থানান্তরের কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলনের কাজ চলছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আবদুল গনি রোডে বর্তমানে ১৭ দশমিক ৫৭ একর জমির ওপর বাংলাদেশ সচিবালয়ের ১৩টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে আটটি ভবন নির্মিত হয়েছে স্বাধীনতার আগে। পুরোনো ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর ভবন ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে এবং ৫ নম্বর ভবন ১৯৪৭ সালে নির্মাণ করা হয়।

এসব ভবন ভূমিকম্প সহনীয় করে নির্মাণ করা হয়নি। ঢাকা ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এ ধরনের স্থাপনায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ ছাড়া ভবনগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ভাষ্য, বিদ্যমান ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত ওয়াশ-ব্লক নেই। ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব সুবিধা ব্যবহার করায় স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

বর্তমান সচিবালয়ে অফিসের মোট আয়তন প্রায় ১৮ দশমিক ৭৬ লাখ বর্গফুট। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত জায়গার চাহিদা পূরণ এবং সচিবালয় চত্বরের বাইরে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কার্যালয়ের জন্য আরও ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি জায়গা প্রয়োজন।

এ পরিস্থিতিতে একনেক সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে লুই আই কানের মহাপরিকল্পনা অনুসরণ করে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য স্থাপত্য অধিদপ্তর একটি ধারণাগত স্থাপত্য নকশা তৈরি করেছে।

নকশা অনুযায়ী, প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জায়গায় ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। তিনটি বেজমেন্টসহ এসব ভবনের মোট আয়তন হবে প্রায় ৩৩ দশমিক ১৬ লাখ বর্গফুট। পরিকল্পনায় ২০০টি ভূ-উপরিস্থ পার্কিংয়ের পাশাপাশি মোট ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।

নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্সে মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি বহুমুখী হল, একটি ক্যাফেটেরিয়া ও একটি ডাকঘরসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা রাখা হবে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

সচিবালয় স্থানান্তরের পর আবদুল গনি রোডের বর্তমান স্থাপনায় কী করা হবে, সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, সেখানে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, পুরান ঢাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও অধস্তন আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব কার্যালয় বর্তমান সচিবালয় এলাকায় স্থানান্তর করা হতে পারে। এ ছাড়া সেখানে অন্য কোনো সরকারি দপ্তরও স্থাপন করা হতে পারে।

তবে পুরোনো সচিবালয়ের ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয়, নির্মিত হবে ১৪টি ভবন

আপডেট সময় : ১১:১২:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


ফটোকার্ড ডাউনলোড

বাংলাদেশ সচিবালয় রাজধানীর আবদুল গনি রোডের বর্তমান অবস্থান থেকে সরিয়ে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন স্থানে ২০২৯ সালের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সচিবালয় স্থানান্তরের পর বর্তমান স্থাপনায় পুরান ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও অধস্তন আদালত স্থানান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

গত রোববার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরদিনই প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পরিকল্পনা কমিশনকে চিঠি দেয় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মধ্য দিয়ে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, সচিবালয় স্থানান্তরের মূল প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে স্থানান্তরের কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলনের কাজ চলছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আবদুল গনি রোডে বর্তমানে ১৭ দশমিক ৫৭ একর জমির ওপর বাংলাদেশ সচিবালয়ের ১৩টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে আটটি ভবন নির্মিত হয়েছে স্বাধীনতার আগে। পুরোনো ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর ভবন ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে এবং ৫ নম্বর ভবন ১৯৪৭ সালে নির্মাণ করা হয়।

এসব ভবন ভূমিকম্প সহনীয় করে নির্মাণ করা হয়নি। ঢাকা ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এ ধরনের স্থাপনায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ ছাড়া ভবনগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ভাষ্য, বিদ্যমান ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত ওয়াশ-ব্লক নেই। ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব সুবিধা ব্যবহার করায় স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

বর্তমান সচিবালয়ে অফিসের মোট আয়তন প্রায় ১৮ দশমিক ৭৬ লাখ বর্গফুট। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত জায়গার চাহিদা পূরণ এবং সচিবালয় চত্বরের বাইরে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কার্যালয়ের জন্য আরও ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি জায়গা প্রয়োজন।

এ পরিস্থিতিতে একনেক সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে লুই আই কানের মহাপরিকল্পনা অনুসরণ করে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য স্থাপত্য অধিদপ্তর একটি ধারণাগত স্থাপত্য নকশা তৈরি করেছে।

নকশা অনুযায়ী, প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জায়গায় ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। তিনটি বেজমেন্টসহ এসব ভবনের মোট আয়তন হবে প্রায় ৩৩ দশমিক ১৬ লাখ বর্গফুট। পরিকল্পনায় ২০০টি ভূ-উপরিস্থ পার্কিংয়ের পাশাপাশি মোট ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।

নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্সে মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি বহুমুখী হল, একটি ক্যাফেটেরিয়া ও একটি ডাকঘরসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা রাখা হবে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

সচিবালয় স্থানান্তরের পর আবদুল গনি রোডের বর্তমান স্থাপনায় কী করা হবে, সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, সেখানে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, পুরান ঢাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও অধস্তন আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব কার্যালয় বর্তমান সচিবালয় এলাকায় স্থানান্তর করা হতে পারে। এ ছাড়া সেখানে অন্য কোনো সরকারি দপ্তরও স্থাপন করা হতে পারে।

তবে পুরোনো সচিবালয়ের ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।