আহমেদাবাদ আহমেদাবাদের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় ব্যবধানে হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ভারত। প্রোটিয়াদের দেওয়া ১৮৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মাত্র ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় সূর্যকুমার যাদবের দল। ৭৬ রানের এই বিশাল পরাজয়ে ভারত শুধু ম্যাচই হারেনি, বরং ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে তাদের দীর্ঘদিনের বেশ কিছু গৌরবময় রেকর্ড।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে রানের ব্যবধানে এটিই ভারতের সবচেয়ে বড় পরাজয়। এর আগে ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৯ রানে হার ছিল তাদের সর্বোচ্চ ব্যবধানের হার। এই প্রথম বিশ্বমঞ্চে ৫০ বা তার বেশি রানের ব্যবধানে হারের তেতো স্বাদ পেল টিম ইন্ডিয়া। এছাড়া আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এটি ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানের হার।
দক্ষিণ আফ্রিকার এই জয় ভারতের দুটি অবিশ্বাস্য অজেয় যাত্রায় যতি টেনেছে:
-
বিশ্বকাপে টানা জয়: ২০২২ সালের সেমিফাইনালে হারের পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা ১২টি ম্যাচে জয়লাভ করেছিল ভারত, যা যেকোনো দলের জন্য দীর্ঘতম রেকর্ড।
-
আইসিসি টুর্নামেন্টে আধিপত্য: আইসিসির সীমিত ওভারের টুর্নামেন্টগুলোতে (ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি) টানা ১৭টি জয়ের পর হারের মুখ দেখল তারা। কাকতালীয়ভাবে, ভারতের সর্বশেষ হারটিও ছিল এই আহমেদাবাদে, ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে।
চলতি বিশ্বকাপে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের চরম ব্যর্থতা ফুটে উঠেছে রান তাড়া করতে গিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে ঈশান কিষানসহ তিন ব্যাটসম্যান কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন।
-
এবারের আসরে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা মোট ১১ বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন, যা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী সকল দলের মধ্যে সর্বোচ্চ।
-
এর আগে এক আসরে ভারতের সর্বোচ্চ ৬ বার শূন্য রানে আউটের রেকর্ড ছিল (২০২৪ সালে)। এবার তারা নবাগত দল ইতালিকেও (৮টি ডাক)
২০১২ সাল থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রান তাড়া করতে নেমে ভারত ছিল অপ্রতিরোধ্য। ২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি বাদে দীর্ঘ সময় তারা অপরাজিত ছিল। তবে রবিবারের এই হারের পর লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের জয়-পরাজয়ের পরিসংখ্যান দাঁড়িয়েছে ১৪-৭। এই ফরম্যাটে একমাত্র অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড (২২ জয়, ১০ হার) ভারতের চেয়ে ভালো।
প্রায় সাড়ে তিন বছর পর কোনো বহুজাতিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে পরাজয়ের স্বাদ পেল ভারত। ২০২২ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে টানা ২২টি ম্যাচে অপরাজিত ছিল দলটি। দীর্ঘ এই সফল পথচলা আহমেদাবাদে এসে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং তোপে থমকে গেল।





















