ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান আগামী জিলহজ মাসের শেষ ও মহররম মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তেহরান মিউনিসিপ্যালিটির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিষয়ক উপ-প্রধান মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলিজাদেহ।
বুধবার বার্তাসংস্থা গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
তিনি জানান, দাফন ও জানাজার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে। রাজধানী তেহরানে এক থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা মাথায় রেখে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিন দিনের একটি জনতার শোক মিছিল আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তাভাকোলিজাদেহ বলেন, আনুষ্ঠানিক বিদায় অনুষ্ঠানের পর তেহরান, কোম এবং মাশহাদ শহরে পৃথকভাবে জানাজার আয়োজন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে তাকে দাফন করা হবে।
তিনি আরও জানান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শোকার্ত প্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা মাশহাদে অনুষ্ঠিত দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। বিভিন্ন প্রদেশ থেকেও অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করা হচ্ছে।
এর আগে তেহরানের ইসলামি প্রচার সমন্বয় পরিষদের প্রধান মহসেন মাহমুদ বলেন, খামেনির জানাজা অনুষ্ঠান হবে একটি বৈশ্বিক আয়োজন, যা ইসলামি বিশ্ব ও ইরানের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ইরাকসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন ও প্রস্তুতির আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার শুরুর দিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিজের কার্যালয়ে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি। একই ঘটনায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহে তেহরানে তাদের জন্য একটি পৃথক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৬ বছরেরও বেশি সময় এই পদে ছিলেন।
























