ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্দরে মূর্তিমান আতঙ্ক দিপু গ্রেফতার: উদ্ধার বিদেশি পিস্তল ও গুলি

নারায়ণগঞ্জের বন্দর ও মদনপুর এলাকার সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. দিপুকে (৩২) গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১। বুধবার (১০ মার্চ, ২০২৬) দিবাগত রাতে বন্দরের পূর্ব চাঁনপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব-১১-এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিপুর নিজ বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃত দিপু ওই এলাকার মৃত আবু কালামের ছেলে। তল্লাশিকালে তার হেফাজত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াও একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাকু এবং বেশ কিছু লোহার পাইপ জব্দ করা হয়। র‍্যাব জানিয়েছে, দিপুর বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৮টি মামলা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্যবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করত দিপুর বাহিনী। এছাড়া এলাকার ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ বা মাসিক চাঁদা দিতে বাধ্য করা হতো। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া বা শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়।

অভিযোগ রয়েছে, দিপু ও তার বাহিনী সাধারণ মানুষের পৈতৃক জমি ও ভিটেমাটি জোরপূর্বক দখল করে আসছিল। অনেক ক্ষেত্রে পেশিশক্তি ব্যবহার করে বা ভয় দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে জমি লিখে নিতে বাধ্য করত সে। এছাড়া তার ছত্রছায়ায় মদনপুর ও বন্দর এলাকায় গড়ে উঠেছিল ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলের বিশাল এক মাদক নেটওয়ার্ক।

বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় যেকোনো নতুন স্থাপনা বা বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে দিপুর বাহিনীকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হতো। আধিপত্য ধরে রাখতে সে সর্বদা সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করত। তার এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ইতিপূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

র‍্যাব-১১ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত দিপুকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে র‍্যাবের নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

র‍্যাব-১১, ৪২ বোতল বিদেশী মদ ও একটি গাড়ীসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

বন্দরে মূর্তিমান আতঙ্ক দিপু গ্রেফতার: উদ্ধার বিদেশি পিস্তল ও গুলি

আপডেট সময় : ০৩:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের বন্দর ও মদনপুর এলাকার সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. দিপুকে (৩২) গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১। বুধবার (১০ মার্চ, ২০২৬) দিবাগত রাতে বন্দরের পূর্ব চাঁনপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব-১১-এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিপুর নিজ বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃত দিপু ওই এলাকার মৃত আবু কালামের ছেলে। তল্লাশিকালে তার হেফাজত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াও একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাকু এবং বেশ কিছু লোহার পাইপ জব্দ করা হয়। র‍্যাব জানিয়েছে, দিপুর বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৮টি মামলা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্যবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করত দিপুর বাহিনী। এছাড়া এলাকার ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ বা মাসিক চাঁদা দিতে বাধ্য করা হতো। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া বা শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়।

অভিযোগ রয়েছে, দিপু ও তার বাহিনী সাধারণ মানুষের পৈতৃক জমি ও ভিটেমাটি জোরপূর্বক দখল করে আসছিল। অনেক ক্ষেত্রে পেশিশক্তি ব্যবহার করে বা ভয় দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে জমি লিখে নিতে বাধ্য করত সে। এছাড়া তার ছত্রছায়ায় মদনপুর ও বন্দর এলাকায় গড়ে উঠেছিল ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলের বিশাল এক মাদক নেটওয়ার্ক।

বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় যেকোনো নতুন স্থাপনা বা বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে দিপুর বাহিনীকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হতো। আধিপত্য ধরে রাখতে সে সর্বদা সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করত। তার এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ইতিপূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

র‍্যাব-১১ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত দিপুকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে র‍্যাবের নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।