ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আনসার-ভিডিপিকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আনসার-ভিডিপিকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার সাথে জনস্বার্থকে সবার ওপরে রেখে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বুধবার (২০ মে) উদযাপিত হতে যাওয়া এই জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি বাহিনীর সকল স্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলা এবং যানজট নিরসনে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।

একই সাথে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই বাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যুব ও নারীদের বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং নতুন আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এই বাহিনী নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জোর দিয়ে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত যেকোনো সংস্থার কার্যকারিতা মূলত নির্ভর করে তার নিজস্ব শৃঙ্খলাবোধ ও পেশাদারিত্বের ওপর।

ঐতিহাসিক এই মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া বাহিনীর ৬৭০ জন বীর সদস্যসহ বিভিন্ন সময়ে দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী সকল সদস্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

বাহিনীর ইতিহাস স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুদূরপ্রসারী চিন্তা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে আনসার বাহিনীর পুনর্গঠন সম্পন্ন হয়েছিল। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে ‘আনসার-ভিডিপি আইন, ১৯৯৫’ প্রণয়ন করা হয়।

এই আইনের মাধ্যমেই ‘ব্যাটালিয়ন আনসার’ গঠিত হয় এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা দল একটি শক্ত আইনি ও সাংগঠনিক ভিত্তি লাভ করে। সেই দূরদর্শী উদ্যোগের ফলেই আজ আনসার-ভিডিপি গ্রাম-বাংলার অতন্দ্র প্রহরীতে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি দেশে অনুষ্ঠিত অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন করেছে। নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন ও অন্যান্য বাহিনীর সাথে আনসার-ভিডিপি সদস্যরাও অত্যন্ত সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যার জন্য তিনি বাহিনীর সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের যাত্রায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি বিশ্বস্ত সহযাত্রী হিসেবে সব সময় পাশে থাকবে।

পরিশেষে, ‘শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন, নিরাপত্তায় সর্বত্র আমরা’—এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত বাহিনীর সকল সদস্য জননিরাপত্তার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে তাদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ধরে রাখবে বলে রাষ্ট্রপতি বিশ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য ও বাহিনীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।

জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আনসার-ভিডিপিকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আপডেট সময় : ১০:৩৩:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার সাথে জনস্বার্থকে সবার ওপরে রেখে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বুধবার (২০ মে) উদযাপিত হতে যাওয়া এই জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি বাহিনীর সকল স্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলা এবং যানজট নিরসনে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।

একই সাথে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই বাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যুব ও নারীদের বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং নতুন আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এই বাহিনী নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জোর দিয়ে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত যেকোনো সংস্থার কার্যকারিতা মূলত নির্ভর করে তার নিজস্ব শৃঙ্খলাবোধ ও পেশাদারিত্বের ওপর।

ঐতিহাসিক এই মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া বাহিনীর ৬৭০ জন বীর সদস্যসহ বিভিন্ন সময়ে দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী সকল সদস্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

বাহিনীর ইতিহাস স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুদূরপ্রসারী চিন্তা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে আনসার বাহিনীর পুনর্গঠন সম্পন্ন হয়েছিল। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে ‘আনসার-ভিডিপি আইন, ১৯৯৫’ প্রণয়ন করা হয়।

এই আইনের মাধ্যমেই ‘ব্যাটালিয়ন আনসার’ গঠিত হয় এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা দল একটি শক্ত আইনি ও সাংগঠনিক ভিত্তি লাভ করে। সেই দূরদর্শী উদ্যোগের ফলেই আজ আনসার-ভিডিপি গ্রাম-বাংলার অতন্দ্র প্রহরীতে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি দেশে অনুষ্ঠিত অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন করেছে। নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন ও অন্যান্য বাহিনীর সাথে আনসার-ভিডিপি সদস্যরাও অত্যন্ত সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যার জন্য তিনি বাহিনীর সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের যাত্রায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি বিশ্বস্ত সহযাত্রী হিসেবে সব সময় পাশে থাকবে।

পরিশেষে, ‘শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন, নিরাপত্তায় সর্বত্র আমরা’—এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত বাহিনীর সকল সদস্য জননিরাপত্তার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে তাদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ধরে রাখবে বলে রাষ্ট্রপতি বিশ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য ও বাহিনীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।