ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ

বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ

পাওনা বকেয়া বেতন ও ভাতার দাবিতে সাভারে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বন্ধ হয়ে যাওয়া চারটি কারখানার শ্রমিকরা। আজ সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের কারণে ব্যস্ততম এই মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে অফিসগামী যাত্রী ও দূরপাল্লার সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরবর্তীতে পুলিশ এসে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, এর আগে গত সোমবারও তারা একই দাবিতে ডিইপিজেডের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছিলেন। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আসন্ন ঈদের আগে যদি তাদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা না হয়, তবে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা হলেন ডিইপিজেডের অভ্যন্তরে অবস্থিত ‘এক্টর স্পোটিং লিঃ’, ‘সাউথ চায়না লিঃ’, ‘গোল্ডটেক্স গার্মেন্টস লিঃ’ এবং ‘গোল্ডটেক্স টেক্সটাইল লিঃ’ নামের চারটি বন্ধ কারখানার কর্মী।

শ্রমিকদের অভিযোগ:

  • হংকংয়ের মালিকানাধীন এই ৪টি প্রতিষ্ঠান অনিবার্য কারণ দেখিয়ে হুট করে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

  • এর ফলে প্রায় ২ হাজার ৮০০ শ্রমিক সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়েছেন।

  • নিয়ম অনুযায়ী কারখানা বন্ধের ১৫ দিনের মধ্যে শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও, বিগত ৮ মাস ধরে তারা তাদের বকেয়া বেতন ও ভাতা পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম জানান, তারা বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো বিক্রি করে শ্রমিকদের সমস্ত বকেয়া টাকা পরিশোধ করার পক্ষে। কারখানার মালামালের তালিকা (ইনভেন্টরি) ও মূল্য নির্ধারণের (ভ্যালুয়েশন) জন্য রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ইতিমধ্যেই ম্যাজিস্ট্রেট ও কাস্টমসের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

তিনি শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে বলেন:

“আমরা শ্রমিকদের সাথে একাধিকবার বৈঠক করেছি এবং তাদের বিচলিত না হতে অনুরোধ জানিয়েছি। যেকোনো উপায়ে শ্রমিকরা তাদের সব বকেয়া পাওনা হাতে পাবেন।”

নির্বাহী পরিচালক আরও উল্লেখ করেন, উক্ত ৪টি কারখানার মালিকপক্ষ উচ্চ আদালতে একটি রিট করায় কারখানাগুলো বিক্রির প্রক্রিয়াটি বর্তমানে আটকে আছে। তবে তারা আশা করছেন, খুব দ্রুতই আদালতের মাধ্যমে এই আইনি জটিলতার নিষ্পত্তি হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়া মাত্রই শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধে আর কোনো বাধা থাকবে না। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি সবাইকে কিছুটা ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০২:২৪:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

পাওনা বকেয়া বেতন ও ভাতার দাবিতে সাভারে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বন্ধ হয়ে যাওয়া চারটি কারখানার শ্রমিকরা। আজ সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের কারণে ব্যস্ততম এই মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে অফিসগামী যাত্রী ও দূরপাল্লার সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরবর্তীতে পুলিশ এসে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, এর আগে গত সোমবারও তারা একই দাবিতে ডিইপিজেডের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছিলেন। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আসন্ন ঈদের আগে যদি তাদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা না হয়, তবে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা হলেন ডিইপিজেডের অভ্যন্তরে অবস্থিত ‘এক্টর স্পোটিং লিঃ’, ‘সাউথ চায়না লিঃ’, ‘গোল্ডটেক্স গার্মেন্টস লিঃ’ এবং ‘গোল্ডটেক্স টেক্সটাইল লিঃ’ নামের চারটি বন্ধ কারখানার কর্মী।

শ্রমিকদের অভিযোগ:

  • হংকংয়ের মালিকানাধীন এই ৪টি প্রতিষ্ঠান অনিবার্য কারণ দেখিয়ে হুট করে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

  • এর ফলে প্রায় ২ হাজার ৮০০ শ্রমিক সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়েছেন।

  • নিয়ম অনুযায়ী কারখানা বন্ধের ১৫ দিনের মধ্যে শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও, বিগত ৮ মাস ধরে তারা তাদের বকেয়া বেতন ও ভাতা পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম জানান, তারা বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো বিক্রি করে শ্রমিকদের সমস্ত বকেয়া টাকা পরিশোধ করার পক্ষে। কারখানার মালামালের তালিকা (ইনভেন্টরি) ও মূল্য নির্ধারণের (ভ্যালুয়েশন) জন্য রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ইতিমধ্যেই ম্যাজিস্ট্রেট ও কাস্টমসের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

তিনি শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে বলেন:

“আমরা শ্রমিকদের সাথে একাধিকবার বৈঠক করেছি এবং তাদের বিচলিত না হতে অনুরোধ জানিয়েছি। যেকোনো উপায়ে শ্রমিকরা তাদের সব বকেয়া পাওনা হাতে পাবেন।”

নির্বাহী পরিচালক আরও উল্লেখ করেন, উক্ত ৪টি কারখানার মালিকপক্ষ উচ্চ আদালতে একটি রিট করায় কারখানাগুলো বিক্রির প্রক্রিয়াটি বর্তমানে আটকে আছে। তবে তারা আশা করছেন, খুব দ্রুতই আদালতের মাধ্যমে এই আইনি জটিলতার নিষ্পত্তি হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়া মাত্রই শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধে আর কোনো বাধা থাকবে না। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি সবাইকে কিছুটা ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।