ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানকে ৩ দিনের আল্টিমেটাম ট্রাম্পের

ইরানকে ৩ দিনের আল্টিমেটাম ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনা ফলপ্রসূ হবে কি না—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা-কল্পনার মাঝেই নতুন করে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানকে মাত্র কয়েক দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানো হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন কড়া হুঁশিয়ারির পর গোটা মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়াতে এবং একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের হাতে আর মাত্র ২ থেকে ৩ দিন সময় রয়েছে। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি ইতিবাচক কোনো অগ্রগতি না দেখা যায়, তবে ইরানকে নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলার মুখোমুখি হতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবারই ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল ওয়াশিংটন। তবে শেষ মুহূর্তে কৌশলগত কারণে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের দাবি— কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শীর্ষ নেতাদের বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত থেকে সাময়িকভাবে সরে এসেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সাথে আলোচনার পর ট্রাম্প মনে করছেন, সংকট সমাধানের জন্য কূটনৈতিক পথ এখনও খোলা রয়েছে।

ট্রাম্পের এই কড়া আল্টিমেটামের পর চুপ করে বসে নেই তেহরানও। মার্কিন হুমকির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, ওয়াশিংটনের যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন দৃঢ়তার সাথে মোকাবিলা করতে ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

পাশাপাশি, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছেন:

“সংলাপে অংশ নেওয়ার অর্থ কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করা নয়। তেহরান সবসময় তার জাতীয় মর্যাদা, দেশের কর্তৃত্ব এবং জনগণের অধিকার রক্ষার মনোভাব বজায় রেখেই যেকোনো আলোচনায় অংশ নেয়।”

সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এই সময়সীমা মূলত ইরানের ওপর মানসিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল। তবে এই কৌশল যেকোনো মুহূর্তে হাতছাড়া হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এর আগে ইরানও নতুন ধরনের শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিল। ফলে, আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ। এই সংলাপ ব্যর্থ হলে অঞ্চলটি আবারও একটি বড় ধরনের যুদ্ধের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরানকে ৩ দিনের আল্টিমেটাম ট্রাম্পের

আপডেট সময় : ০১:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনা ফলপ্রসূ হবে কি না—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা-কল্পনার মাঝেই নতুন করে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানকে মাত্র কয়েক দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানো হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন কড়া হুঁশিয়ারির পর গোটা মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়াতে এবং একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের হাতে আর মাত্র ২ থেকে ৩ দিন সময় রয়েছে। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি ইতিবাচক কোনো অগ্রগতি না দেখা যায়, তবে ইরানকে নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলার মুখোমুখি হতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবারই ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল ওয়াশিংটন। তবে শেষ মুহূর্তে কৌশলগত কারণে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের দাবি— কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শীর্ষ নেতাদের বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত থেকে সাময়িকভাবে সরে এসেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সাথে আলোচনার পর ট্রাম্প মনে করছেন, সংকট সমাধানের জন্য কূটনৈতিক পথ এখনও খোলা রয়েছে।

ট্রাম্পের এই কড়া আল্টিমেটামের পর চুপ করে বসে নেই তেহরানও। মার্কিন হুমকির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, ওয়াশিংটনের যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন দৃঢ়তার সাথে মোকাবিলা করতে ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

পাশাপাশি, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছেন:

“সংলাপে অংশ নেওয়ার অর্থ কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করা নয়। তেহরান সবসময় তার জাতীয় মর্যাদা, দেশের কর্তৃত্ব এবং জনগণের অধিকার রক্ষার মনোভাব বজায় রেখেই যেকোনো আলোচনায় অংশ নেয়।”

সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এই সময়সীমা মূলত ইরানের ওপর মানসিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল। তবে এই কৌশল যেকোনো মুহূর্তে হাতছাড়া হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এর আগে ইরানও নতুন ধরনের শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিল। ফলে, আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ। এই সংলাপ ব্যর্থ হলে অঞ্চলটি আবারও একটি বড় ধরনের যুদ্ধের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।