ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রিতে মাঠে বসে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন ১৪ হাজার দর্শক, কীভাবে?

ফ্রিতে মাঠে বসে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন ১৪ হাজার দর্শক, কীভাবে?

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগে যখন টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে, তখন মেক্সিকোর ১৪ হাজার দর্শক একেবারে বিনামূল্যে উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে তারা নিজেদের ঐতিহাসিক অধিকার ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

আগামী ১২ জুন বিশ্ব ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী ভেন্যু মেক্সিকো সিটি তথা আজটেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। এই স্টেডিয়াম প্রথম ভেন্যু হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ আয়োজনের ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। এই ভেন্যুতেই উদ্বোধনী ম্যাচে ১৪ হাজার দর্শক ফ্রিতে খেলা উপভোগ করতে যাচ্ছেন।

গল্পের শুরু প্রায় ৬০ বছর আগে। ১৯৬০-এর দশকে স্টেডিয়ামটি নির্মাণের সময় অর্থসংকটে পড়ে কর্তৃপক্ষ। তখন ৬০০টি বক্স ও প্রায় ৮ হাজার গ্যালারি আসন আগাম বিক্রি করা হয়। ক্রেতাদের দেওয়া হয় বিশেষ সুবিধা—২০৬৫ সাল পর্যন্ত স্টেডিয়ামে আয়োজিত যে কোনো ইভেন্ট তারা অতিরিক্ত টিকিট ছাড়াই দেখতে পারবেন।

ফলে বিশ্বকাপ, আন্তর্জাতিক ম্যাচ, কনসার্ট কিংবা অন্য যেকোনো আয়োজন—সব ক্ষেত্রেই এই আসনগুলোর মালিকদের প্রবেশাধিকার বহাল থাকে। বর্তমানে এই সুবিধাভোগীদের মোট আসনসংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। এর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপেও ফিফা এই আসনগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিল। কিন্তু সফল হয়নি। ফলে সেই বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ ম্যাচও তারা বিনামূল্যে দেখেছিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে আবারও বিরোধ তৈরি হয়। ফিফা ও স্টেডিয়াম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান চেয়েছিল ওই ১৪ হাজার আসন নিজেদের টিকিট বিক্রির আওতায় আনতে। এর বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়ে মামলা করে আসন মালিকদের সংগঠন। শেষ পর্যন্ত আদালত তাদের পক্ষেই রায় দেয়।

সংগঠনের মহাসচিব রবার্তো রুয়ানো ওর্তেগা বলেছেন, “আমাদের অধিকার আদালত স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে আমাদের কোনো অর্থ দিতে হবে না।” মেক্সিকান গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসনগুলো ফিফার জন্য বিক্রি করতে না পারায় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছে।

তবে বিরোধ পুরোপুরি শেষ হয়নি। বিশ্বকাপের এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত ওই দর্শকদের ইলেকট্রনিক টিকিট হাতে পৌঁছায়নি। এ নিয়ে রুয়ানো সতর্ক করে বলেছেন, “যদি আমাদের প্রবেশ করতে না দেওয়া হয়, আমরা আবার আদালতের শরণাপন্ন হব। প্রয়োজন হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে বলপ্রয়োগের ব্যবস্থাও চাইব।”

সব নাটকীয়তার মধ্যেও তাদের বিশ্বাস, উদ্বোধনী ম্যাচে ১৪ হাজার আসনের মালিকরা শেষ পর্যন্ত স্টেডিয়ামে প্রবেশ করবেন এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের উদ্বোধনী ম্যাচটি বিনামূল্যে উপভোগ করবেন।

আগামী ১২ জুন বিশ্ব ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী ভেন্যু আজটেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। এই স্টেডিয়ামই প্রথম ভেন্যু হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ আয়োজনের ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে।

ফ্রিতে মাঠে বসে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন ১৪ হাজার দর্শক, কীভাবে?

আপডেট সময় : ০৬:৫২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগে যখন টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে, তখন মেক্সিকোর ১৪ হাজার দর্শক একেবারে বিনামূল্যে উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে তারা নিজেদের ঐতিহাসিক অধিকার ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

আগামী ১২ জুন বিশ্ব ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী ভেন্যু মেক্সিকো সিটি তথা আজটেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। এই স্টেডিয়াম প্রথম ভেন্যু হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ আয়োজনের ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। এই ভেন্যুতেই উদ্বোধনী ম্যাচে ১৪ হাজার দর্শক ফ্রিতে খেলা উপভোগ করতে যাচ্ছেন।

গল্পের শুরু প্রায় ৬০ বছর আগে। ১৯৬০-এর দশকে স্টেডিয়ামটি নির্মাণের সময় অর্থসংকটে পড়ে কর্তৃপক্ষ। তখন ৬০০টি বক্স ও প্রায় ৮ হাজার গ্যালারি আসন আগাম বিক্রি করা হয়। ক্রেতাদের দেওয়া হয় বিশেষ সুবিধা—২০৬৫ সাল পর্যন্ত স্টেডিয়ামে আয়োজিত যে কোনো ইভেন্ট তারা অতিরিক্ত টিকিট ছাড়াই দেখতে পারবেন।

ফলে বিশ্বকাপ, আন্তর্জাতিক ম্যাচ, কনসার্ট কিংবা অন্য যেকোনো আয়োজন—সব ক্ষেত্রেই এই আসনগুলোর মালিকদের প্রবেশাধিকার বহাল থাকে। বর্তমানে এই সুবিধাভোগীদের মোট আসনসংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। এর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপেও ফিফা এই আসনগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিল। কিন্তু সফল হয়নি। ফলে সেই বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ ম্যাচও তারা বিনামূল্যে দেখেছিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে আবারও বিরোধ তৈরি হয়। ফিফা ও স্টেডিয়াম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান চেয়েছিল ওই ১৪ হাজার আসন নিজেদের টিকিট বিক্রির আওতায় আনতে। এর বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়ে মামলা করে আসন মালিকদের সংগঠন। শেষ পর্যন্ত আদালত তাদের পক্ষেই রায় দেয়।

সংগঠনের মহাসচিব রবার্তো রুয়ানো ওর্তেগা বলেছেন, “আমাদের অধিকার আদালত স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে আমাদের কোনো অর্থ দিতে হবে না।” মেক্সিকান গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসনগুলো ফিফার জন্য বিক্রি করতে না পারায় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছে।

তবে বিরোধ পুরোপুরি শেষ হয়নি। বিশ্বকাপের এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত ওই দর্শকদের ইলেকট্রনিক টিকিট হাতে পৌঁছায়নি। এ নিয়ে রুয়ানো সতর্ক করে বলেছেন, “যদি আমাদের প্রবেশ করতে না দেওয়া হয়, আমরা আবার আদালতের শরণাপন্ন হব। প্রয়োজন হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে বলপ্রয়োগের ব্যবস্থাও চাইব।”

সব নাটকীয়তার মধ্যেও তাদের বিশ্বাস, উদ্বোধনী ম্যাচে ১৪ হাজার আসনের মালিকরা শেষ পর্যন্ত স্টেডিয়ামে প্রবেশ করবেন এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের উদ্বোধনী ম্যাচটি বিনামূল্যে উপভোগ করবেন।

আগামী ১২ জুন বিশ্ব ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী ভেন্যু আজটেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। এই স্টেডিয়ামই প্রথম ভেন্যু হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ আয়োজনের ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে।