ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অর্থনৈতিক সক্ষমতা ছাড়া রাষ্ট্র শক্তিশালী হয় না: প্রধানমন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলেই রাষ্ট্র সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এমনটাই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, মানুষকে অভাবে রেখে বা তাদের কণ্ঠরোধ করে কোনো রাষ্ট্র টেকসই শক্তি অর্জন করতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু রাজনৈতিক অধিকার দিলেই চলবে না। মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতাও নিশ্চিত করতে হবে। এই লক্ষ্যে দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎসাহ দিতে সরকার সব ধরনের নীতি সহায়তা দেবে বলে তিনি জানান।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়। সেখানে বন্ধ থাকা তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দেওয়ার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই অনুষ্ঠানেই প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি

অনুষ্ঠানে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার তাদের প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দেবে। উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ালে একদিকে মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে, অন্যদিকে সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নতি ঘটবে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি দেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে সবাই এখনকার চেয়ে ভালো থাকবে। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।”

দেশীয় বিনিয়োগেও গুরুত্ব

বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় বিনিয়োগের ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ অবশ্যই আসবে এবং সরকার তা চায়। তবে দেশের নিজস্ব বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদেরও একইভাবে উৎসাহিত করতে হবে। তাদের ব্যবসা-বিনিয়োগের জন্য যতটুকু নীতি সহায়তা প্রয়োজন, সরকার তা নিশ্চিত করবে।

সরকারের নীতির মূল উদ্দেশ্য সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সুযোগ তৈরি করা, এমনটাই জানান প্রধানমন্ত্রী। সবার সহযোগিতায় একটি সুন্দর ও শক্তিশালী দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পাটকলের দায়িত্ব নেওয়া প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ

তিনটি পাটকলের দায়িত্ব নেওয়া দুই ব্যবসায়ী গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। নতুন বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠানগুলো সফল হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং হ্যামকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এটিএম মোস্তফা। এছাড়া বিজেএমসি ও লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হালাল অর্থনীতি: বাণিজ্যমন্ত্রীর নতুন দিকনির্দেশনা

অর্থনৈতিক সক্ষমতা ছাড়া রাষ্ট্র শক্তিশালী হয় না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:৩৭:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলেই রাষ্ট্র সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এমনটাই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, মানুষকে অভাবে রেখে বা তাদের কণ্ঠরোধ করে কোনো রাষ্ট্র টেকসই শক্তি অর্জন করতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু রাজনৈতিক অধিকার দিলেই চলবে না। মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতাও নিশ্চিত করতে হবে। এই লক্ষ্যে দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎসাহ দিতে সরকার সব ধরনের নীতি সহায়তা দেবে বলে তিনি জানান।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়। সেখানে বন্ধ থাকা তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দেওয়ার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই অনুষ্ঠানেই প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি

অনুষ্ঠানে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার তাদের প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দেবে। উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ালে একদিকে মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে, অন্যদিকে সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নতি ঘটবে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি দেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে সবাই এখনকার চেয়ে ভালো থাকবে। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।”

দেশীয় বিনিয়োগেও গুরুত্ব

বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় বিনিয়োগের ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ অবশ্যই আসবে এবং সরকার তা চায়। তবে দেশের নিজস্ব বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদেরও একইভাবে উৎসাহিত করতে হবে। তাদের ব্যবসা-বিনিয়োগের জন্য যতটুকু নীতি সহায়তা প্রয়োজন, সরকার তা নিশ্চিত করবে।

সরকারের নীতির মূল উদ্দেশ্য সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সুযোগ তৈরি করা, এমনটাই জানান প্রধানমন্ত্রী। সবার সহযোগিতায় একটি সুন্দর ও শক্তিশালী দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পাটকলের দায়িত্ব নেওয়া প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ

তিনটি পাটকলের দায়িত্ব নেওয়া দুই ব্যবসায়ী গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। নতুন বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠানগুলো সফল হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং হ্যামকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এটিএম মোস্তফা। এছাড়া বিজেএমসি ও লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।