সার বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার নতুন নীতিমালার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এই নীতিমালায় সার বিক্রি প্রক্রিয়ায় সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ফলে সরাসরি ডিলারভিত্তিক সরবরাহ চালুর প্রস্তাব উঠেছে। তবে এ সিদ্ধান্তের কারণে বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
নজরদারি বৃদ্ধি বনাম সিন্ডিকেটের আশঙ্কা
সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, নতুন নীতিমালায় সার বিক্রি মনিটরিং সহজ হবে। এর ফলে সার কোথায় যাচ্ছে এবং কত দামে বিক্রি হচ্ছে তা জানা যাবে।
তবে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, এতে দীর্ঘদিনের ৪৪ হাজার বিক্রেতা বাদ পড়বেন। এর ফলে বাজারের নিয়ন্ত্রণ অল্প কিছু ব্যবসায়ীর হাতে চলে যাবে। এর ফলে সিন্ডিকেট তৈরির তীব্র ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
┌─────────────────────────────────────────────────────────┐
│ নতুন নীতিমালায় সার বিক্রি পরিবর্তন │
└──────────────────────────┬──────────────────────────────┘
│
┌───────────────────┴───────────────────┐
▼ ▼
┌──────────────────────┐ ┌──────────────────────┐
│ ইতিবাচক দিক │ │ ঝুঁকির দিক │
├──────────────────────┤ ├──────────────────────┤
│ • সরকারি তদারকি সহজ │ │ • সিন্ডিকেটের আশঙ্কা │
│ • সরাসরি জবাবদিহিতা │ │ • কৃষকের পরিবহন খরচ │
│ • সুনির্দিষ্ট বিক্রয় │ │ • ৪৪ হাজার বিক্রেতার │
│ কেন্দ্র │ │ আর্থিক ক্ষতি │
└──────────────────────┘ └──────────────────────┘
কৃষকের ব্যয় ও সময়ের প্রভাব
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নীতিমালায় সার বিক্রি প্রক্রিয়ায় কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। সঠিক বাস্তবায়ন হলে কৃষক নির্ধারিত দামে সার পাবেন।
তবে খুচরা বিক্রেতা প্রথা তুলে দিলে কৃষকের পরিবহন খরচ বাড়বে। এছাড়া দূরে গিয়ে সার সংগ্রহ করতে সময়ও বেশি লাগবে।
খুচরা বিক্রেতাদের আন্দোলন ও দাবি
সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ‘খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
আন্দোলন শেষে প্রতিনিধি দল কৃষিমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে বৈঠক করে। সংগঠনের সভাপতি মো. ফোরকান জানান, গ্রাম পর্যায়ে কৃষকদের বাকিতে সার দেয়া হতো।
এখন হঠাৎ ব্যবসা বন্ধ হলে লাখো মানুষের জীবিকা সংকটে পড়বে। একই সঙ্গে কৃষকের কাছে থাকা বাকির টাকা আদায় করা কঠিন হবে।
নীতিমালার মূল পরিবর্তনসমূহ
গত ১০ আগস্ট ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণসংক্রান্ত নীতিমালার’ সংশোধিত রূপ প্রকাশ করা হয়। বিসিআইসি ও বিএডিসি-র পৃথক ডিলার কাঠামো এখন একীভূত করা হয়েছে।
-
নতুন বিক্রয় কেন্দ্র: ডিলারের মূল কেন্দ্র ছাড়া আরও দুটি বিক্রয় কেন্দ্র থাকবে।
-
বিক্রয় প্রতিনিধি: মনিটরিং কমিটির অনুমোদনে ডিলাররা প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারবেন।
-
ডিলার সংখ্যা: প্রতি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় সর্বোচ্চ ৩ জন ডিলার থাকবেন।
অনিয়ম রোধ ও বাজার নিয়ন্ত্রণ
আগের নীতিমালায় একাধিক স্তর থাকায় দাম বৃদ্ধি ও মজুদদারি ঠেকানো কঠিন ছিল। কিন্তু ডিলারের মাধ্যমে অনিয়ম রোধ করা সহজ হতে পারে।
কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারে প্রতিযোগিতা না থাকলে অনিয়ম বাড়তে পারে। তাই স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সরকারি নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি।
সরকারের স্পষ্টীকরণ
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, কারো বিক্রি স্থগিত করা হয়নি। ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।
তিনি জানান, সরকার যোগ্য ও শর্ত পূরণকারী বিক্রেতাদেরই নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাখবে। পুরো ব্যবস্থাটিকে কেবল সুনির্দিষ্ট জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে।





















