দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এক বিশেষ বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পিয়ংইয়ং তাদের পূর্ব উপকূলীয় শহর ওনসান এলাকা থেকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। মিসাইলগুলো প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সাগরে গিয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও টোকিওর সাথে যৌথভাবে কাজ করছে সিউল।
জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছে সিউল
উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পরপরই তৎপর হয়ে ওঠে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশাসন। দেশটির প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কার্যালয় দ্রুত একটি জরুরি নিরাপত্তা সভার আয়োজন করে। সেখানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ফলে তারা দ্রুত উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার সুযোগ পান।
মার্কিন প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা বার্তা
এদিকে মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড এক বিবৃতিতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তারা জানায়, এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ তাদের বা মিত্রদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করেনি। কিন্তু তারা মিত্রদের সুরক্ষায় নিজেদের দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখবে। সুতরাং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
যৌথ নৌ মহড়া ও পিয়ংইয়ংয়ের পাল্টা জবাব
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান পাঁচ দিনব্যাপী একটি যৌথ নৌ মহড়া সম্পন্ন করে। কিন্তু মহড়া শেষ হওয়ার ঠিক একদিন পরেই এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করল পিয়ংইয়ং। তাছাড়া এর আগে শুরু হওয়া ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়ার তীব্র সমালোচনা করেছিল উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা এই ধরণের যৌথ সামরিক পদক্ষেপকে স্পষ্ট হুমকি হিসেবে দেখে। এর ফলে তারা যেকোনো সময় কড়া জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
পূর্ববর্তী ঘটনা এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েন
ইতিপূর্বে গত ২০ আগস্টেও উত্তর কোরিয়া সাগরে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। তবে সেই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেন। উপরন্তু তিনি মিত্রদের সাথে যৌথ ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার পরিসর অনেকটাই কমিয়ে আনেন। কিন্তু উত্তর কোরিয়া এই ধরণের সামরিক পদক্ষেপকে নিজেদের বিরুদ্ধে আক্রমণের প্রস্তুতি হিসেবেই বিবেচনা করে। এর ধারাবাহিকতায় তারা প্রায়ই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করে।
























