বিশ্বকাপের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন নেইমার। ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলস্কোরারের সেই সিদ্ধান্ত বদলাচ্ছে না, তা এবার নিশ্চিত করলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
শুধু বিদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেই থামেননি অভিজ্ঞ এই কোচ, নেইমারের প্রশংসাও করেছেন উচ্ছ্বসিতভাবে। তার মতে, অসাধারণ এই প্রতিভার কোনো বিকল্প ব্রাজিল দলে নেই।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এরপরই জাতীয় দলের জার্সিতে আর না খেলার সিদ্ধান্ত জানান নেইমার।
৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। চারটি বিশ্বকাপে—২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬—ব্রাজিলের হয়ে গোল করা খেলোয়াড়দের একজন তিনি।
হাঁটুর চোটের কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপে নেইমারের অংশ নেয়া নিয়েই ছিল সংশয়। শেষ পর্যন্ত মাত্র দুটি ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। বিশ্বকাপের পর জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে নেইমার আরো ইঙ্গিত দেন, তার ক্লাব ক্যারিয়ারও হয়তো খুব বেশি দীর্ঘ হবে না।
সিএনএন এস্পোর্তেসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, ‘তার (নেইমার) মানের কারণেই বিশ্বকাপে থাকা তার প্রাপ্য ছিল। নেইমার ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেছে, সে জাতীয় দলে ফিরতে চায় না। নেইমারের বিকল্প পাওয়া সম্ভব নয়, কারণ সে এক অসাধারণ ও অনন্য প্রতিভা। তাই তার বিকল্প হবে না।’
নেইমারের অধ্যায় শেষ হওয়ার পর এখন নতুন প্রজন্মের দিকে তাকাচ্ছেন আনচেলত্তি। আসন্ন আন্তর্জাতিক বিরতিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ভারতের বিপক্ষেও মাঠে নামবে ব্রাজিল।
এসব ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলে নেই কাজেমিরো, ফাবিনিয়ো ও আলিসনের মতো অভিজ্ঞ কয়েকজন খেলোয়াড়। বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়া জোয়াও পেদ্রো ফিরেছেন দলে। তবে সামনের দিনগুলোতে তরুণদেরই বেশি সুযোগ দেয়ার পরিকল্পনা আনচেলত্তির।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের ধাপে ধাপে এগোতে হবে। এখন আমাদের সেই তরুণ খেলোয়াড়দের দিকে মনোযোগ দিতে হবে, যারা হতে পারে ভবিষ্যৎ, অর্থাৎ ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে জন্ম নেয়া খেলোয়াড়রা। আমাদের ২০০৮ সালে জন্ম নেয়া মানসম্পন্ন কিছু তরুণ খেলোয়াড় আছে, যারা এখনো খেলছে না, কিন্তু খেলার সামর্থ্য রাখে।’
তিনি আরো বলেন, ‘তাদের বয়সের কথা মাথায় রেখে ও সেটিকে সম্মান জানিয়ে এখনই তাদের দিকে নজর দেয়ার সময়। এটা সত্যি যে, একজন খেলোয়াড় ৩৬ বা ৩৭ বছর বয়সেও খুব ভালো খেলতে পারে। এখন তরুণ খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দেয়ার সময়।’
নেইমারের মতো একজনকে হারানোর পর তার সরাসরি বিকল্প খোঁজার বদলে নতুন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার পথেই হাঁটতে চাইছেন আনচেলত্তি। ব্রাজিলের পরবর্তী অধ্যায়ে তাই তরুণদের ওপরই এখন সবচেয়ে বেশি ভরসা এই ইতালিয়ান কোচের।























