২০১৪ বিশ্বকাপ মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে স্মরণীয় করে রেখেছিলেন। দলকে এনে দিয়েছিলেন সেরা সাফল্য। সেই চমৎকার অধ্যায় তৈরির এক যুগ পর কলম্বিয়ার জার্সি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন জেমস রদ্রিগেজ।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৫ বছর কাটিয়ে দেওয়ার পর কলম্বিয়ার জাতীয় দল থেকে মঙ্গলবার অবসরের ঘোষণা দিলেন রদ্রিগেজ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি পোস্ট দেন, ‘আজ আমি মন থেকে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে চাই। অনেক বছর, অনেক ম্যাচ এবং আনন্দ আর কঠিন মুহূর্তগুলোর পর আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ করার সময় এসেছে: কলম্বিয়ান জাতীয় দলের সঙ্গে আমার যাত্রা।’
২০১১ সালের অক্টোবরে বলিভিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল রদ্রিগেজের। ওই ম্যাচেই জয়সূচক গোল করেন তিনি। কলম্বিয়ান দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিলেন। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৬ সালে খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপ। ২০২২ সালে কাতারে তারা খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।
২০১৪ বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন রদ্রিগেজ। শেষ ষোলোতে মহাদেশীয় প্রতিদ্বন্দ্বী উরুগুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক ভলিতে করা গোলটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ওই আসর মাতানো তরুণ রদ্রিগেজের দিকে নজর পড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদের, চুক্তিও সেরে ফেলে টুর্নামেন্টের পর।
রদ্রিগেজ বলেছেন, ‘এই জার্সি পরা ছিল একটি স্বপ্ন, পাশাপাশি বিশাল দায়িত্বও ছিল। প্রত্যেকবার যখন আমি মাঠে ঢুকতাম, বুঝতে পারতাম আমি শুধু আমার জন্য খেলছি না। আমার পরিবার, সতীর্থ, হাজারো কলম্বিয়ানের জন্য খেলছিলাম, যারা স্বপ্ন দেখত।’
তিনি আরও বলেন, ‘১০ নম্বর জার্সি পরার সম্মান পেয়েছিলাম আমি এবং অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও পরেছিলাম। সম্মান, দায়িত্ববোধ ও কলম্বিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার তাৎপর্য অনুধাবন করে আমি সবসময় এটি করার চেষ্টা করেছি। ভালো দিন যেমন ছিল, খুব কঠিন দিনও ছিল। কিন্তু এই রঙয়ের গর্ববোধ করা কখনও থামাইনি।’
অবসর ঘোষণার কারণে গত ৭ জুলাই সুইজারল্যান্ডের কাছে টাইব্রেকারে হেরে যাওয়া শেষ ষোলোর ম্যাচটি হয়ে থাকল রদ্রিগেজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ। কলম্বিয়ার জার্সিতে ১৩১ ম্যাচ খেলে ৩১ গোল ও ৪৩ অ্যাসিস্ট ছিল তার। ২০২৪ কোপা আমেরিকায় তার অধিনায়কত্বে ফাইনাল খেলেছিল কলম্বিয়া, কিন্তু আর্জেন্টিনা তাদের হারিয়ে ২৩ বছরে প্রথম শিরোপা জেতে।
সম্প্রতি কলম্বিয়ান দল অ্যাতলেটিকো নাসিওনালের সঙ্গে চুক্তি করেছেন রদ্রিগেজ। ক্লাব ক্যারিয়ার আরেকটু লম্বা করতে চান তিনি, ‘আমি শান্ত হৃদয় নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। কারণ আমি সবকিছু উজার করে দিয়েছি। প্রত্যেকটি মুহূর্তের জন্য ধন্যবাদ, ধন্যবাদ কলম্বিয়া।’



























