ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন শুল্ক হুমকির জবাবে রুশ তেল ক্রয় অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত ভারতের

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১০০ শতাংশ শুল্কের হুমকির মুখে পড়ার পরও রাশিয়া থেকে জ্বালনি তেল কেনা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নয়াদিল্লি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করতে প্রস্তুত নয়।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে আরও বলা হয়েছে যে ওয়াশিংটন যদি এ শুল্ক কার্যকর করতে পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাাশি বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারেও গুরুতর প্রভাব ফেলবে।

“ভারত এর আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও ফোরামে বহুবার বলেছে এবং আজ আবারও বলছে যে নয়াদিল্লি ভারতের ১৪০ কোটি নাগরিকের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আপস করতে প্রস্তুত নয়। আমরা বরাবর সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি ক্রয় করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”

“নিজেদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে ভারত সবসময় দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ভারত মনে করে, নতুন আইন বাস্তবায়ন হলে তা শুধু ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই নয়, বরং পুরো বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদে ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ নামে একটি বিল পাস হয়েছে। বিলটি পাসের ফলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১০০ শতাংশ রপ্তানি শুল্কের মুখে পড়েছে ভারতসহ ১০টি দেশ।

বাকি দেশগুলো হলো— চীন, হাঙ্গেরি, আজারবাইজান, তুরস্ক, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান এবং কিরগিজস্তান।

‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ বিলের মূল প্রস্তাবক বা প্রণেতা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্য লিন্ডসে গ্রাহাম, যিনি একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক।

প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেট— উভয়কক্ষে পাস হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের শাসনবিধি অনুযায়ী বিলটি এখন প্রেসিডেন্টের দপ্তরে যাবে। সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেখানে স্বাক্ষর করা মাত্র আইনে পরিণত হবে ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ বিল।

সূত্র : ফার্স্টপোস্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন শুল্ক হুমকির জবাবে রুশ তেল ক্রয় অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত ভারতের

আপডেট সময় : ০৬:০৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১০০ শতাংশ শুল্কের হুমকির মুখে পড়ার পরও রাশিয়া থেকে জ্বালনি তেল কেনা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নয়াদিল্লি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করতে প্রস্তুত নয়।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে আরও বলা হয়েছে যে ওয়াশিংটন যদি এ শুল্ক কার্যকর করতে পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাাশি বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারেও গুরুতর প্রভাব ফেলবে।

“ভারত এর আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও ফোরামে বহুবার বলেছে এবং আজ আবারও বলছে যে নয়াদিল্লি ভারতের ১৪০ কোটি নাগরিকের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আপস করতে প্রস্তুত নয়। আমরা বরাবর সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি ক্রয় করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”

“নিজেদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে ভারত সবসময় দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ভারত মনে করে, নতুন আইন বাস্তবায়ন হলে তা শুধু ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই নয়, বরং পুরো বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদে ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ নামে একটি বিল পাস হয়েছে। বিলটি পাসের ফলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১০০ শতাংশ রপ্তানি শুল্কের মুখে পড়েছে ভারতসহ ১০টি দেশ।

বাকি দেশগুলো হলো— চীন, হাঙ্গেরি, আজারবাইজান, তুরস্ক, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান এবং কিরগিজস্তান।

‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ বিলের মূল প্রস্তাবক বা প্রণেতা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্য লিন্ডসে গ্রাহাম, যিনি একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক।

প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেট— উভয়কক্ষে পাস হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের শাসনবিধি অনুযায়ী বিলটি এখন প্রেসিডেন্টের দপ্তরে যাবে। সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেখানে স্বাক্ষর করা মাত্র আইনে পরিণত হবে ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ বিল।

সূত্র : ফার্স্টপোস্ট