ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামালপুর শহরের জন্য ২০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনার দাবি

জামালপুর শহরের জন্য ২০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনার দাবি

জামালপুর প্রতিনিধি: দেড় শতাধিক বছরের প্রাচীন জামালপুর শহর বর্তমানে নানা নাগৰি সেবার সংকটে বিপর্যস্ত। অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ ও অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর কারণে নাগরিক জীবন কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই জামালপুর শহরের মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ২০২৬ থেকে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি মাস্টার প্ল্যানের জোর দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার বিকেলে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘জামালপুর নাগরিক কল্যাণ পরিষদ’ এই সভার আয়োজন করে। ফলে স্থানীয় নাগরিকেরা তাঁদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরার সুযোগ পান।

পানির সংকট ও বর্জ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা

১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভাটি ১৯৯৩ সালে ‘এ’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। বর্তমানে প্রায় ৫৩ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ১ লাখ ৫৯ হাজার মানুষ বাস করেন। কিন্তু জনসংখ্যা বাড়লেও সেবার মান মোটেও বাড়েনি।

এর ফলে পৌর এলাকার মাত্র ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার পাইপলাইনের পানি পায়। পাশাপাশি পৌরসভা থেকে দিনে গড়ে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা পানি সরবরাহ করা হয়। ফলে শহরের অধিকাংশ মানুষ পানীয় জলের তীব্র সংকটে ভুগছেন।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, পৌরসভায় কোনো পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার নেই। তাছাড়া পরিবেশবান্ধব উপায়ে ময়লা ফেলার নির্ধারিত জায়গাও অপর্যাপ্ত। এর ফলে অপরিশোধিত বর্জ্য প্রতিনিয়ত পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে পড়ছে। এতে নদীর পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ছে।

নতুন প্রতিষ্ঠান ও জনসংখ্যার বাড়তি চাপ

গত এক দশকে জামালপুরে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এছাড়া ৪৩৬ একরের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নগরায়ণের চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৪০ সালের মধ্যে শহরের জনসংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

তবে আফসোসের বিষয় হলো, চার দশক আগের পরিকল্পনা দিয়েই বর্তমান নগর পরিচালিত হচ্ছে। তাই বর্তমান বাস্তবতা মোকাবিলায় জামালপুর শহরের মহাপরিকল্পনা অবিলম্বে তৈরি করা প্রয়োজন।

নাগরিক প্রস্তাব ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান

সংকট দূর করতে সভায় ২০২৬-২০৪৫ মেয়াদি একটি প্রস্তাবিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে যানজট নিরসনে রিং রোড এবং পরিবেশ রক্ষায় সবুজ বলয় তৈরি। পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্রের তীরে ওয়াকওয়ে ও ডিজিটাল পৌরসেবা চালুর সুপারিশ করা হয়।

বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে নগর সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। তবে আইনগত ও অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করলে সুফল মিলবে। এজন্য বিশেষজ্ঞ ও নাগরিকদের মতামতের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট অর্থায়ন নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তাঁরা।

অধ্যাপক মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে সভায় স্থানীয় শিক্ষক, আইনজীবী ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. জাকির ইমতিয়াজ এবং পরিচালনায় ছিলেন আবদুল্লাহ আল মাহমুদ রুহানি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানের অধিনায়কত্ব হারানো নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন রশিদ

জামালপুর শহরের জন্য ২০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনার দাবি

আপডেট সময় : ১১:১৮:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামালপুর প্রতিনিধি: দেড় শতাধিক বছরের প্রাচীন জামালপুর শহর বর্তমানে নানা নাগৰি সেবার সংকটে বিপর্যস্ত। অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ ও অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর কারণে নাগরিক জীবন কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই জামালপুর শহরের মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ২০২৬ থেকে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি মাস্টার প্ল্যানের জোর দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার বিকেলে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘জামালপুর নাগরিক কল্যাণ পরিষদ’ এই সভার আয়োজন করে। ফলে স্থানীয় নাগরিকেরা তাঁদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরার সুযোগ পান।

পানির সংকট ও বর্জ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা

১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভাটি ১৯৯৩ সালে ‘এ’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। বর্তমানে প্রায় ৫৩ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ১ লাখ ৫৯ হাজার মানুষ বাস করেন। কিন্তু জনসংখ্যা বাড়লেও সেবার মান মোটেও বাড়েনি।

এর ফলে পৌর এলাকার মাত্র ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার পাইপলাইনের পানি পায়। পাশাপাশি পৌরসভা থেকে দিনে গড়ে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা পানি সরবরাহ করা হয়। ফলে শহরের অধিকাংশ মানুষ পানীয় জলের তীব্র সংকটে ভুগছেন।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, পৌরসভায় কোনো পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার নেই। তাছাড়া পরিবেশবান্ধব উপায়ে ময়লা ফেলার নির্ধারিত জায়গাও অপর্যাপ্ত। এর ফলে অপরিশোধিত বর্জ্য প্রতিনিয়ত পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে পড়ছে। এতে নদীর পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ছে।

নতুন প্রতিষ্ঠান ও জনসংখ্যার বাড়তি চাপ

গত এক দশকে জামালপুরে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এছাড়া ৪৩৬ একরের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নগরায়ণের চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৪০ সালের মধ্যে শহরের জনসংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

তবে আফসোসের বিষয় হলো, চার দশক আগের পরিকল্পনা দিয়েই বর্তমান নগর পরিচালিত হচ্ছে। তাই বর্তমান বাস্তবতা মোকাবিলায় জামালপুর শহরের মহাপরিকল্পনা অবিলম্বে তৈরি করা প্রয়োজন।

নাগরিক প্রস্তাব ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান

সংকট দূর করতে সভায় ২০২৬-২০৪৫ মেয়াদি একটি প্রস্তাবিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে যানজট নিরসনে রিং রোড এবং পরিবেশ রক্ষায় সবুজ বলয় তৈরি। পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্রের তীরে ওয়াকওয়ে ও ডিজিটাল পৌরসেবা চালুর সুপারিশ করা হয়।

বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে নগর সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। তবে আইনগত ও অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করলে সুফল মিলবে। এজন্য বিশেষজ্ঞ ও নাগরিকদের মতামতের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট অর্থায়ন নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তাঁরা।

অধ্যাপক মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে সভায় স্থানীয় শিক্ষক, আইনজীবী ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. জাকির ইমতিয়াজ এবং পরিচালনায় ছিলেন আবদুল্লাহ আল মাহমুদ রুহানি।