মাঝমাঠে জাভি, আর আক্রমণভাগে লিওনেল মেসি—একসঙ্গে মাঠ দাপিয়ে বেড়াতেন তারা দুজন। ২০১৫ সালে জাভি আল সাদে যোগ দেন, দুজনের পথ দুদিকে চলে যায়। কিন্তু স্প্যানিশ মিডফিল্ডার বার্সায় কোচ হওয়ায় তাদের সম্পর্ক গুরু-শিষ্যের রূপ নিতে পারতো। জাভি সেই চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু প্রেসিডেন্ট হোয়ান লাপোর্তার কারণে পারেননি।
মেসি ২০২১ সালে অশ্রুসিক্ত হয়ে বার্সা ছাড়ার তিন মাস পর ক্লাবটির প্রধান কোচের দায়িত্ব পান জাভি। ২০২৪ সালে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন লাপোর্তা। তার স্থলাভিষিক্ত হন হান্সি ফ্লিক। এই সময়ের মধ্যে মেসিকে ফেরানোর জন্য কোমর বেঁধে নেমেছিলেন ২০১০ সালের বিশ্বকাপ জয়ী তারকা।
জাভি বললেন, ‘মেসি আমার খুব কাছের একজন বন্ধু এবং আমরা সবসময়ই যোগাযোগ রাখতাম। বার্সেলোনায় ফেরার জন্য সে ভীষণ আগ্রহী ছিল। আর আমিও শতভাগ এর পক্ষে ছিলাম। পুরো চার মাস আমরা যোগাযোগের মধ্যে ছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত সভাপতি লাপোর্তা সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি মেসিকে পুনরায় সাইন করাতে চান না। তিনি চান না মেসি বার্সেলোনায় ফিরুক। এটাই আসল সত্য।’
২০২২ সালে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জেতার পর মেসিকে ফেরানোর ব্যাপারে চেষ্টা চালান জাভি, ‘মেসি নিজেও অনেক আশা নিয়ে ছিল, আমি এবং পুরো কোচিং স্টাফও অনেক প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই সভাপতি সবকিছু বাতিল করে দেন। হ্যাঁ, বাস্তবতা এতটাই নিষ্ঠুর ছিল। আর্জেন্টিনা দলকে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জেতানোর ঠিক পরের ঘটনা এটি। এটি বাস্তবায়িত হলে একটি স্বপ্নের অধ্যায় হতে পারত, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়নি। এটি সত্যিই অত্যন্ত আফসোসের।’
গত মাসে আর্জেন্টিনাকে বিদায় বলেছেন মেসি। এনিয়ে কোনো আভাস জাভি কি পেয়েছিলেন? তার উত্তর, ‘হ্যাঁ, আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হয়। আমার মনে হয় সে বিষয়টি খুব সহজভাবে গ্রহণ করেছে এবং এ নিয়ে শান্তিতেই আছে। সে অনুভব করে যে এই অধ্যায়টির সমাপ্তি টানার সময় এসেছে। চার বছর পরের বিশ্বকাপটি তার জন্য সত্যিই অনেক দূরের এবং অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তখন তার বয়স হবে ৪৩ বছর। সময় হলে সরে দাঁড়ানোই শ্রেয়; সে তো ইতোমধ্যে সবই জিতে নিয়েছে—কোপা আমেরিকা, বিশ্বকাপ, সব জায়গাতেই নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা হয়ে গেছে।’






















