নিজের সঞ্চয় নিরাপদ রাখা কিংবা ব্যবসায়িক লেনদেন পরিচালনার জন্য ব্যাংক হিসাবের প্রয়োজন হয়। দেশে একজন ব্যক্তি একক বা যৌথ নামে বিভিন্ন ধরনের ব্যাংক হিসাব খুলতে পারেন। তবে হিসাবের ধরন, গ্রাহকের পরিচয় ও ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে।
সাধারণত ব্যাংক হিসাব খুলতে নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করে পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হয়। ব্যক্তিগত সঞ্চয়ী হিসাব থেকে শুরু করে ব্যবসা বা কোম্পানির হিসাব—প্রতিটির জন্য কিছু নির্দিষ্ট কাগজপত্র প্রয়োজন হয়।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন ধরনের ব্যাংক হিসাব খুলতে কী কী কাগজপত্র লাগে।
ব্যক্তিগত নামে একক বা যৌথ ব্যাংক হিসাব খুলতে সাধারণত যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হয়-
১। ব্যাংকের নির্ধারিত আবেদনপত্র।
২। আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
৩। জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা ব্যাংক-গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্রের কপি।
৪। নমুনা স্বাক্ষর।
৫। নমিনির ছবি ও পরিচয়পত্রের তথ্য।
৬। সম্ভাব্য লেনদেনের বিবরণ।
৭। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ই-টিআইএন সনদ ও আয়ের উৎসের প্রমাণ।
ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীকে কর্মকর্তার সামনে স্বাক্ষর দিতে হতে পারে। জমা দেওয়া কাগজপত্রের মূল কপিও যাচাইয়ের জন্য সঙ্গে রাখা ভালো। যৌথ হিসাবের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব হিসাবধারীর পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়।
একক মালিকানাধীন ব্যবসার হিসাব
একক মালিকানাধীন ব্যবসার নামে ব্যাংক হিসাব খুলতে ব্যক্তিগত পরিচয়পত্রের পাশাপাশি ব্যবসার বৈধতার প্রমাণ দিতে হয়। সাধারণত প্রয়োজন হয়-
১। ব্যাংকের নির্ধারিত আবেদনপত্র ও নমুনা স্বাক্ষর।
২। ব্যবসার মালিকের ছবি ও পরিচয়পত্র।
৩। হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স।
৪। ই-টিআইএন সনদ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।
৫। ব্যবসার ঠিকানা ও মালিকানার প্রমাণপত্র।
৬। সম্ভাব্য লেনদেন ও ব্যবসার কার্যক্রমের বিবরণ।
৭। আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুমতিপত্র ও নিবন্ধন।
ব্যবসার ধরন ও ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী অতিরিক্ত নথিও চাওয়া হতে পারে।
লিমিটেড কোম্পানির ব্যাংক হিসাব
কোম্পানির নামে ব্যাংক হিসাব খুলতে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন, মালিকানা ও পরিচালনা-সংক্রান্ত নথি জমা দিতে হয়। সাধারণত প্রয়োজন হয়-
১। ব্যাংকের নির্ধারিত আবেদনপত্র।
২। মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশনের কপি।
৩। সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশন।
৪। হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স।
৫। পরিচালনা পর্ষদের হিসাব খোলার অনুমোদন বা রেজল্যুশন।
৬। পরিচালক ও অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীদের নাম-ঠিকানা, ছবি ও পরিচয়পত্র।
৭। অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীদের নমুনা স্বাক্ষর।
৮। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণসংক্রান্ত নথি ও ব্যবসার আর্থিক তথ্য।
কোম্পানির ধরন ও কার্যক্রম অনুযায়ী ব্যাংক অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে। বিশেষ কিছু ব্যবসার ক্ষেত্রে পৃথক অনুমোদনপত্রও প্রয়োজন হতে পারে।
অংশীদারি ব্যবসার ব্যাংক হিসাব
অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব খুলতে সাধারণত যেসব নথি প্রয়োজন হয়-
১। ব্যাংকের নির্ধারিত আবেদনপত্র।
২। অংশীদারি চুক্তিপত্র।
৩। হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স।
৪। অংশীদারদের নাম, ঠিকানা, ছবি ও পরিচয়পত্র।
৫। হিসাব খোলার বিষয়ে অংশীদারদের সম্মতিপত্র বা রেজল্যুশন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।
৬। হিসাব পরিচালনার জন্য অনুমোদিত ব্যক্তিদের নমুনা স্বাক্ষর।
৭। ব্যবসার ঠিকানা ও কার্যক্রমের প্রমাণপত্র।
৮। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ই-টিআইএন সনদ ও আর্থিক তথ্য।
অংশীদারি চুক্তিতে হিসাব পরিচালনার ক্ষমতা ও দায়িত্ব কার ওপর থাকবে, তা স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। ব্যাংক চুক্তিপত্র ও অন্যান্য নথি যাচাই করে হিসাব খোলার অনুমোদন দেয়।
বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব খুলতে যা লাগবে
প্রবাসী বাংলাদেশি, বিদেশি নাগরিক ও যোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট শর্তে বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব খুলতে পারেন। এ ধরনের হিসাবের নিয়ম গ্রাহকের পরিচয়, বসবাসের অবস্থা এবং হিসাবের ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে।
সাধারণত প্রয়োজন হতে পারে-
১। ব্যাংকের নির্ধারিত আবেদনপত্র।
২। আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের তথ্য।
৩। পাসপোর্টের ইস্যুর তারিখ ও ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের তথ্য, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।
৪। যে বৈদেশিক মুদ্রায় হিসাব পরিচালনা করতে চান, তার বিবরণ।
৫। বাংলাদেশ ও বিদেশের বর্তমান ঠিকানা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।
৬। যোগাযোগের নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা।
৭। নমিনির নাম, ঠিকানা ও পরিচয়পত্রের তথ্য।
৮। বিদেশে বসবাস, আয় বা অর্থের উৎসের প্রমাণসহ ব্যাংক-চাওয়া অতিরিক্ত নথি।
হিসাব খোলার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিভাগ থেকে যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত।
ব্যাংকভেদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, প্রাথমিক জমার পরিমাণ, ন্যূনতম স্থিতি এবং হিসাব পরিচালনার শর্ত আলাদা হতে পারে। একই ব্যাংকেও হিসাবের ধরন অনুযায়ী শর্তের পার্থক্য থাকতে পারে।
তাই হিসাব খোলার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা বা ওয়েবসাইট থেকে হালনাগাদ তথ্য জেনে নিন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মূল কপি ও ফটোকপি প্রস্তুত রাখুন। এতে আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং হিসাব খোলার কাজে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব এড়ানো সম্ভব হবে।

























