ঢাকা ০৭:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাতে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ অবৈধ অটোরিকশা চার্জিং: প্রতিমন্ত্রী

রাতে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ অবৈধ অটোরিকশা চার্জিং: প্রতিমন্ত্রী

দেশে রাতের বেলা বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইবাইক চার্জ দেওয়াকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি বলেন, দেশ বর্তমানে এক ধরনের বিদ্যুতের ঘাটতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট সরকার স্বীকার করছে বলেও জানান তিনি। ফলে রাতের বেলায় বিদ্যুতের ওপর চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: জরুরি অগ্রাধিকারসমূহ এবং একটি টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’।

সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা

মন্ত্রী জানান, জ্বালানি খাতে সরকার দ্রুতগতিতে কাজ করছে। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০২৯ সালের মধ্যে তিনটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পায়রা, মংলা এবং হিরণ পয়েন্টে এসব টার্মিনাল নির্মিত হবে।

শিল্প খাতের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে তিনবার শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি এই কঠিন সময়ে সবার নৈতিক সমর্থন কামনা করেন মন্ত্রী।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। সরকার সম্ভাব্য সব উৎসকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। ইন্ডাস্ট্রি সচল না থাকলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প খাতের দুরবস্থা তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কারখানার উৎপাদন ইতোমধ্যে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে বলে জানান তিনি। উপরন্তু, বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক না থাকলেও বিল ও কর্মীদের বেতন নিয়মিত পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু তার খেসারত জনগণ বা শিল্প খাত কেন দেবে? তাই দ্রুত উদ্যোক্তাদের সমস্যার সমাধান ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাতে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ অবৈধ অটোরিকশা চার্জিং: প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

দেশে রাতের বেলা বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইবাইক চার্জ দেওয়াকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি বলেন, দেশ বর্তমানে এক ধরনের বিদ্যুতের ঘাটতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট সরকার স্বীকার করছে বলেও জানান তিনি। ফলে রাতের বেলায় বিদ্যুতের ওপর চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: জরুরি অগ্রাধিকারসমূহ এবং একটি টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’।

সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা

মন্ত্রী জানান, জ্বালানি খাতে সরকার দ্রুতগতিতে কাজ করছে। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০২৯ সালের মধ্যে তিনটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পায়রা, মংলা এবং হিরণ পয়েন্টে এসব টার্মিনাল নির্মিত হবে।

শিল্প খাতের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে তিনবার শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি এই কঠিন সময়ে সবার নৈতিক সমর্থন কামনা করেন মন্ত্রী।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। সরকার সম্ভাব্য সব উৎসকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। ইন্ডাস্ট্রি সচল না থাকলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প খাতের দুরবস্থা তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কারখানার উৎপাদন ইতোমধ্যে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে বলে জানান তিনি। উপরন্তু, বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক না থাকলেও বিল ও কর্মীদের বেতন নিয়মিত পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু তার খেসারত জনগণ বা শিল্প খাত কেন দেবে? তাই দ্রুত উদ্যোক্তাদের সমস্যার সমাধান ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি।