নিউজ ডেস্ক: চীনের অর্থনীতির বড় দুর্বলতাগুলোর একটি হলো জ্বালানি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। তবে ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির সংকট দেখিয়েছে, এই নির্ভরতাকেই চীন কীভাবে কৌশলগত শক্তিতে পরিণত করতে পারে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে বাধা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের তেল সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয়। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহার করে সরবরাহ বাড়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ে। তবে বাজারের চাপ কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় চীন।
চীন নিজের তেল আমদানি কমিয়ে দেয়, মজুত থেকে তেল ব্যবহার করে এবং পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের চাহিদার চাপ কমে যায় এবং বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব হয়।
দীর্ঘদিন ধরে তেলের বাজারে সবচেয়ে বড় প্রভাব ছিল ওপেক ও তার মিত্রদের। উৎপাদন কমিয়ে তারা তেলের দাম বাড়িয়ে রাখার ক্ষমতা রাখত। কিন্তু চীনের মতো বড় ক্রেতা যখন নিজের বাজারক্ষমতা ব্যবহার করে, তখন তেল উৎপাদকদের পাশাপাশি বাজারের ওপর বড় প্রভাব তৈরি করতে পারে।
চীন কম দামে তেল কিনে বিপুল মজুত গড়ে তোলায় সংকটের সময় সেই মজুত বাজারকে কিছুটা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে। ফলে তেলের বাজারে ওপেকের একচ্ছত্র প্রভাব কিছুটা দুর্বল হতে পারে।
তবে দীর্ঘ মেয়াদে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। বিশ্বে তেলের উৎপাদন কমে গেলে এবং নতুন তেলক্ষেত্রে বিনিয়োগের ঘাটতি তৈরি হলে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে। তখন সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মতো বড় উৎপাদকদের গুরুত্ব আবার বাড়বে। ফলে ওপেকও নতুন করে শক্তিশালী হতে পারে।
একই সময়ে চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উচ্চগতির রেল এবং কয়লার বিকল্প ব্যবহারের কারণে দেশটির তেলের চাহিদাও ধীরে ধীরে কমতে পারে। এতে তেল আমদানিতে চীনের প্রভাব ভবিষ্যতে কিছুটা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরান যুদ্ধ দেখিয়েছে, বড় কোনো তেল আমদানিকারক দেশ চাইলে নিজের মজুত ও বাজারক্ষমতা ব্যবহার করে বৈশ্বিক তেলবাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। চীনের এই ভূমিকা অন্য আমদানিকারক দেশগুলোকে সাময়িক স্বস্তি দিয়েছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে কোনো একক দেশ বা জোটের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই অন্যান্য দেশের উচিত তেলের সরবরাহের উৎস বহুমুখী করা, বিকল্প জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং পরিবহন ও শিল্প খাতে তেলের ব্যবহার কমানো।
চীন দেখিয়ে দিয়েছে, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা শুধু দুর্বলতা নয়—সঠিক কৌশল ও মজুত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটিকে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তিতেও পরিণত করা যায়। তবে সবচেয়ে টেকসই সমাধান হলো তেলের ওপর নির্ভরতাই কমিয়ে আনা।
/টিএস





















