ঢাকা ০১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটের কৃষি উন্নয়নে জোর দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদির

সিলেটের কৃষি উন্নয়নে জোর দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদির

সিলেট অঞ্চলের কৃষিতে যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র-পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, অনাবাদি ও একফসলি জমিকে চাষের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা দূর করা ও সেচ সুবিধা বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে।

গতকাল সিলেট নগরীর হোটেল মেট্রোয় এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই কর্মশালার আয়োজন করে। এতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জেলাভিত্তিক বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়। একইসঙ্গে গত বছরের কর্মসূচি বাস্তবায়নের মূল্যায়নও করা হয়।

মন্ত্রী জানান, সিলেটের ভৌগোলিক গঠনের কারণে হাওর ও নিচু এলাকায় বছরের একটি সময় পানি জমে থাকে। তবে এসব এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে অনেক জমি চাষযোগ্য হয়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, সেচ সুবিধা বাড়ালে একফসলি জমি দুই ফসলিতে রূপান্তর করা সম্ভব। এমনকি দুই ফসলি জমিকেও তিন ফসলিতে পরিণত করা যায়। এক্ষেত্রে খাল খনন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি নিশ্চিত করতেও এই খাল খনন কাজে আসবে।

নতুন কৃষিপণ্যে সম্ভাবনার হাতছানি

মুক্তাদির সিলেটে আগাম তরমুজ চাষের সাফল্যের উদাহরণ টেনে বলেন, নতুন ও অপ্রচলিত কৃষিপণ্য উৎপাদনে নতুন দরজা খুলছে। এছাড়া মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের মতো শীতপ্রধান এলাকায় বিট চাষের সম্ভাবনাও যাচাই করা দরকার বলে তিনি মনে করেন। এজন্য পাইলট প্রকল্প গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কৃষি সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষ কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। এতে কৃষক প্রশিক্ষণ, কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও এলাকাভিত্তিক প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা হবে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের একটি বড় অংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং কৃষকের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

উৎপাদনশীলতা বাড়ানো গেলে দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনও বহুগুণ বাড়বে। ফলে ভবিষ্যতে চাল উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঝুঁকি নেওয়া কৃষকদের প্রশংসা

মন্ত্রী নতুন ফসল চাষে ঝুঁকি নেওয়া কৃষকদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এসব কৃষকই কৃষির নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছেন। তাই তরমুজ ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নতুন ফসলের চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের আরও উৎসাহিত করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে এই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন যারা

সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। এছাড়া প্রকল্প পরিচালক মো. রাকিব উদ্দিনসহ কৃষি কর্মকর্তা, কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটের কৃষি উন্নয়নে জোর দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদির

আপডেট সময় : ১০:৪৮:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

সিলেট অঞ্চলের কৃষিতে যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র-পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, অনাবাদি ও একফসলি জমিকে চাষের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা দূর করা ও সেচ সুবিধা বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে।

গতকাল সিলেট নগরীর হোটেল মেট্রোয় এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই কর্মশালার আয়োজন করে। এতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জেলাভিত্তিক বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়। একইসঙ্গে গত বছরের কর্মসূচি বাস্তবায়নের মূল্যায়নও করা হয়।

মন্ত্রী জানান, সিলেটের ভৌগোলিক গঠনের কারণে হাওর ও নিচু এলাকায় বছরের একটি সময় পানি জমে থাকে। তবে এসব এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে অনেক জমি চাষযোগ্য হয়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, সেচ সুবিধা বাড়ালে একফসলি জমি দুই ফসলিতে রূপান্তর করা সম্ভব। এমনকি দুই ফসলি জমিকেও তিন ফসলিতে পরিণত করা যায়। এক্ষেত্রে খাল খনন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি নিশ্চিত করতেও এই খাল খনন কাজে আসবে।

নতুন কৃষিপণ্যে সম্ভাবনার হাতছানি

মুক্তাদির সিলেটে আগাম তরমুজ চাষের সাফল্যের উদাহরণ টেনে বলেন, নতুন ও অপ্রচলিত কৃষিপণ্য উৎপাদনে নতুন দরজা খুলছে। এছাড়া মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের মতো শীতপ্রধান এলাকায় বিট চাষের সম্ভাবনাও যাচাই করা দরকার বলে তিনি মনে করেন। এজন্য পাইলট প্রকল্প গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কৃষি সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষ কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। এতে কৃষক প্রশিক্ষণ, কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও এলাকাভিত্তিক প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা হবে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের একটি বড় অংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং কৃষকের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

উৎপাদনশীলতা বাড়ানো গেলে দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনও বহুগুণ বাড়বে। ফলে ভবিষ্যতে চাল উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঝুঁকি নেওয়া কৃষকদের প্রশংসা

মন্ত্রী নতুন ফসল চাষে ঝুঁকি নেওয়া কৃষকদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এসব কৃষকই কৃষির নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছেন। তাই তরমুজ ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নতুন ফসলের চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের আরও উৎসাহিত করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে এই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন যারা

সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। এছাড়া প্রকল্প পরিচালক মো. রাকিব উদ্দিনসহ কৃষি কর্মকর্তা, কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।