ঢাকা ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিরোধীরা না থাকলেও বাস্তবায়িত হবে ‘জুলাই সনদ’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিরোধী দলগুলো সংবিধানে সংস্কার আনার আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানালেও সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা এগিয়ে নেবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিলেও সনদ বাস্তবায়ন করাকে জাতির প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৩ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সরকারি দল, বিরোধী দল ও অন্য সবাই ঐকমত্যের ভিত্তিতে সম্মিলিতভাবে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি গ্রহণ করুক। আলোচনায় যোগ দেওয়ার জন্য আমরা বিরোধী দলকে বারবার আহ্বান জানিয়েছি। তবে তারা পুরোপুরি অস্বীকৃতি জানালেও আমাদের সংবিধান সংশোধনের পথে এগোতে হবে। এটি জাতির প্রত্যাশা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আমাদের অঙ্গীকার।’

জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সপ্তম বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ এ মন্তব্য করেন।

বৈঠকে বিশেষ কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এবং সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের অধীনে আলোচনা ও সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছিল, যেখানে অধ্যাপক আলী রীয়াজ সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সরকার এখন সনদটি বাস্তবায়নে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বিরোধী দলগুলোকে বিশেষ কমিটিতে তাদের প্রতিনিধি মনোনীত করার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যেসব দল প্রতিনিধি পাঠাবে, তারা আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, সংসদীয় অধিবেশনসহ প্রতিটি বৈঠকেই অংশ নেওয়ার জন্য বিরোধী দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তারা চাইলে লিখিত মতামতও জমা দিতে পারে। কমিটি তাদের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার পর যখন সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন করা হবে, তখন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এতে গঠনমূলক অবদান রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে কমিটির বৈঠকে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জাতীয় অধ্যাপক, সাবেক উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেন।

আলোচনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তথ্যবহুল হিসেবে বর্ণনা করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, উপস্থিত বেশ কয়েকজন সদস্য লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন এবং অন্যরা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের মতামত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বৈঠকে সংবিধানের বিভিন্ন অংশে জুলাই জাতীয় সনদ অন্তর্ভুক্ত করার উপায়, সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং জনগণের সার্বভৌমত্বকে স্পষ্ট ও শক্তিশালী করার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া নির্ধারণকারী ১৪২ অনুচ্ছেদ নিয়ে বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোটের বিধান বাতিল করা হয়েছিল। এ বিষয়ে আদালতের রায়ের ফলে সৃষ্ট পরিবর্তনগুলো আইনসভার মাধ্যমে কীভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে।

ভবিষ্যতে সংবিধানের কোনো সংশোধনী যাতে মাত্রাতিরিক্ত অনমনীয় বা অতিরিক্ত নমনীয় না হয়, তা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন ও এর সম্ভাব্য বিকল্প নিয়েও আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা। জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় এমন একটি বিধান বাতিলের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল, যাতে রাষ্ট্রপতিকে বাছাই প্রক্রিয়ার সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে রাখার সুযোগ ছিল।

পূর্ববর্তী বিকল্পগুলোর বিষয়ে একমত হওয়া না গেলে বিচার বিভাগ সর্বশেষ বিকল্প হতে পারে কি না, তা নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা আলোচনা করেন। তবে এ বিষয়ে কমিটি এখনো কোনো বিস্তারিত লিখিত প্রস্তাব পায়নি বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ।

সংবিধানে ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের কর্তৃত্ব এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর ক্ষেত্রে এর এখতিয়ার নিয়েও বিশেষ কমিটি পর্যালোচনা করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের এক অঙ্গ যেন অন্য অঙ্গের ওপর অন্যায্য কর্তৃত্ব বজায় রাখতে না পারে এবং একই সঙ্গে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা যাতে সুরক্ষিত থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আলোচনা পরিচালিত হয়েছে। এসব বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা আরও লিখিত মতামত জমা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলো কার্যকর করতে এর কিছু অংশ সংবিধানের মৌলিক অধিকারের অংশে অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি না, তা-ও বিবেচনা করেছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা। এছাড়া প্রজাতন্ত্র অংশে জনগণের সার্বভৌমত্বের ধারণাকে আরও স্পষ্ট ও সুসংগত করার বিষয়ে পরামর্শ দেন শিক্ষাবিদরা।

বৈঠকে উচ্চকক্ষসহ দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। উচ্চকক্ষে কোন কোন গোষ্ঠী বা ভৌগোলিক এলাকার প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত, কীভাবে তাদের সদস্যরা নির্বাচিত হবেন, প্রতিনিধিত্ব জেলাভিত্তিক হবে কি না এবং সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে কি না, সে বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতামত বিনিময় করেন।

কমিটি পরবর্তী আলোচনায় যাওয়ার আগে এসব লিখিত প্রস্তাব বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি দিনব্যাপী আলোচনার প্রাথমিক পরিকল্পনা করছে কমিটি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিরোধীরা না থাকলেও বাস্তবায়িত হবে ‘জুলাই সনদ’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিরোধীরা না থাকলেও বাস্তবায়িত হবে ‘জুলাই সনদ’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:৩৮:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিরোধী দলগুলো সংবিধানে সংস্কার আনার আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানালেও সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা এগিয়ে নেবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিলেও সনদ বাস্তবায়ন করাকে জাতির প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৩ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সরকারি দল, বিরোধী দল ও অন্য সবাই ঐকমত্যের ভিত্তিতে সম্মিলিতভাবে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি গ্রহণ করুক। আলোচনায় যোগ দেওয়ার জন্য আমরা বিরোধী দলকে বারবার আহ্বান জানিয়েছি। তবে তারা পুরোপুরি অস্বীকৃতি জানালেও আমাদের সংবিধান সংশোধনের পথে এগোতে হবে। এটি জাতির প্রত্যাশা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আমাদের অঙ্গীকার।’

জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সপ্তম বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ এ মন্তব্য করেন।

বৈঠকে বিশেষ কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এবং সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের অধীনে আলোচনা ও সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছিল, যেখানে অধ্যাপক আলী রীয়াজ সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সরকার এখন সনদটি বাস্তবায়নে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বিরোধী দলগুলোকে বিশেষ কমিটিতে তাদের প্রতিনিধি মনোনীত করার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যেসব দল প্রতিনিধি পাঠাবে, তারা আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, সংসদীয় অধিবেশনসহ প্রতিটি বৈঠকেই অংশ নেওয়ার জন্য বিরোধী দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তারা চাইলে লিখিত মতামতও জমা দিতে পারে। কমিটি তাদের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার পর যখন সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন করা হবে, তখন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এতে গঠনমূলক অবদান রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে কমিটির বৈঠকে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জাতীয় অধ্যাপক, সাবেক উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেন।

আলোচনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তথ্যবহুল হিসেবে বর্ণনা করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, উপস্থিত বেশ কয়েকজন সদস্য লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন এবং অন্যরা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের মতামত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বৈঠকে সংবিধানের বিভিন্ন অংশে জুলাই জাতীয় সনদ অন্তর্ভুক্ত করার উপায়, সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং জনগণের সার্বভৌমত্বকে স্পষ্ট ও শক্তিশালী করার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া নির্ধারণকারী ১৪২ অনুচ্ছেদ নিয়ে বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোটের বিধান বাতিল করা হয়েছিল। এ বিষয়ে আদালতের রায়ের ফলে সৃষ্ট পরিবর্তনগুলো আইনসভার মাধ্যমে কীভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে।

ভবিষ্যতে সংবিধানের কোনো সংশোধনী যাতে মাত্রাতিরিক্ত অনমনীয় বা অতিরিক্ত নমনীয় না হয়, তা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন ও এর সম্ভাব্য বিকল্প নিয়েও আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা। জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় এমন একটি বিধান বাতিলের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল, যাতে রাষ্ট্রপতিকে বাছাই প্রক্রিয়ার সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে রাখার সুযোগ ছিল।

পূর্ববর্তী বিকল্পগুলোর বিষয়ে একমত হওয়া না গেলে বিচার বিভাগ সর্বশেষ বিকল্প হতে পারে কি না, তা নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা আলোচনা করেন। তবে এ বিষয়ে কমিটি এখনো কোনো বিস্তারিত লিখিত প্রস্তাব পায়নি বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ।

সংবিধানে ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের কর্তৃত্ব এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর ক্ষেত্রে এর এখতিয়ার নিয়েও বিশেষ কমিটি পর্যালোচনা করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের এক অঙ্গ যেন অন্য অঙ্গের ওপর অন্যায্য কর্তৃত্ব বজায় রাখতে না পারে এবং একই সঙ্গে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা যাতে সুরক্ষিত থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আলোচনা পরিচালিত হয়েছে। এসব বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা আরও লিখিত মতামত জমা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলো কার্যকর করতে এর কিছু অংশ সংবিধানের মৌলিক অধিকারের অংশে অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি না, তা-ও বিবেচনা করেছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা। এছাড়া প্রজাতন্ত্র অংশে জনগণের সার্বভৌমত্বের ধারণাকে আরও স্পষ্ট ও সুসংগত করার বিষয়ে পরামর্শ দেন শিক্ষাবিদরা।

বৈঠকে উচ্চকক্ষসহ দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। উচ্চকক্ষে কোন কোন গোষ্ঠী বা ভৌগোলিক এলাকার প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত, কীভাবে তাদের সদস্যরা নির্বাচিত হবেন, প্রতিনিধিত্ব জেলাভিত্তিক হবে কি না এবং সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে কি না, সে বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতামত বিনিময় করেন।

কমিটি পরবর্তী আলোচনায় যাওয়ার আগে এসব লিখিত প্রস্তাব বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি দিনব্যাপী আলোচনার প্রাথমিক পরিকল্পনা করছে কমিটি।