ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠন, আন্দোলন না করার আহ্বান মন্ত্রীর

গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠন, আন্দোলন না করার আহ্বান মন্ত্রীর



ফটোকার্ড ডাউনলোড

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে আগামীকাল রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, মজুরি বোর্ড গঠন ও বকেয়া বেতন পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই শ্রমিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই।

শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, গতকাল শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে পাঁচ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারাও মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি মেনে নিয়েছেন। বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধিও রাখা হয়েছে। ফলে এ বিষয়ে আর কোনো বিরোধ থাকার কথা নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়েও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া বেতন পরিশোধের উদ্যোগ নেবেন।

মন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ড গঠন ও বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় ভাঙচুর কিংবা কারখানা বন্ধ রাখার প্রয়োজন নেই। এসব কর্মকাণ্ডে তৈরি পোশাকশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ করলেও বাইরে থেকে কিছু লোক এসে তাদের উত্তেজিত করার চেষ্টা করছেন। প্রকৃত শ্রমিক কারা এবং কারা আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন, তা ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, আগামী ৭ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হবে। ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে মালিকপক্ষ অর্থ পাবে না। এতে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।

শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাদের দাবি পূরণে সরকার ও মালিকপক্ষ উদ্যোগ নিয়েছে। তাই তৈরি পোশাকশিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার। এ সময় বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান এবং বিজিএমইএর সহসভাপতি মিজানুর রহমান ও রেজওয়ান সেলিমসহ অন্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

১৬ বছরের পাওনা আদায়ের দাবিতে সংসদ ভবনের সামনে গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের ‘ফ্যামিলি ডে’

গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠন, আন্দোলন না করার আহ্বান মন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৪:২১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


ফটোকার্ড ডাউনলোড

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে আগামীকাল রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, মজুরি বোর্ড গঠন ও বকেয়া বেতন পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই শ্রমিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই।

শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, গতকাল শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে পাঁচ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারাও মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি মেনে নিয়েছেন। বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধিও রাখা হয়েছে। ফলে এ বিষয়ে আর কোনো বিরোধ থাকার কথা নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়েও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া বেতন পরিশোধের উদ্যোগ নেবেন।

মন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ড গঠন ও বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় ভাঙচুর কিংবা কারখানা বন্ধ রাখার প্রয়োজন নেই। এসব কর্মকাণ্ডে তৈরি পোশাকশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ করলেও বাইরে থেকে কিছু লোক এসে তাদের উত্তেজিত করার চেষ্টা করছেন। প্রকৃত শ্রমিক কারা এবং কারা আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন, তা ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, আগামী ৭ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হবে। ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে মালিকপক্ষ অর্থ পাবে না। এতে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।

শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাদের দাবি পূরণে সরকার ও মালিকপক্ষ উদ্যোগ নিয়েছে। তাই তৈরি পোশাকশিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার। এ সময় বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান এবং বিজিএমইএর সহসভাপতি মিজানুর রহমান ও রেজওয়ান সেলিমসহ অন্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।