ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে ওআইসি ও ন্যামের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের কাছে সরাসরি নিন্দা ও প্রতিবাদ প্রত্যাশা করছে তেহরান। বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকায় অবস্থিত ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী এই প্রত্যাশার কথা জানান।
রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী বলেন, “বাংলাদেশ একটি প্রভাবশালী মুসলিম রাষ্ট্র এবং ওআইসি ও জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (ন্যাম)-এর সক্রিয় সদস্য। একজন সদস্য হিসেবে অন্য কোনো রাষ্ট্রের ওপর আগ্রাসন চালানো শক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরাসরি নিন্দা জানাবে—এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোনো মুসলিম দেশ আক্রান্ত হলে অন্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সহানুভূতি ও নৈতিক সমর্থন প্রকাশ করা একান্ত প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, ইরান দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ড্রোন ও মিসাইলসহ প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি মজুদ রয়েছে। আমরা কোনো দেশের কাছে লজিস্টিক সাপোর্ট চাই না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তা মোকাবিলায় প্রতিপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে।
আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুকে ‘কাপুরুষচিত’ হামলা হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি ইরানের গোয়েন্দা ব্যর্থতা নয় বরং শত্রুশক্তির একটি নিকৃষ্ট পরিকল্পনা ছিল। ইরানের পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমানে তিন সদস্যের একটি কমিটি (প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য) কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দ্রুতই এক্সপার্ট কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতা নির্বাচন করা হবে।
ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত আশ্বস্ত করে জানান, তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তেহরানের বাংলাদেশ দূতাবাস ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইরান সরকার দেশি ও বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখে না এবং সবার নিরাপত্তার জন্য সমান পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান কখনো আগ বাড়িয়ে ইসরায়েলের ওপর আগ্রাসী হবে না, তবে যেকোনো আক্রমণের মুখে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তিনি আহ্বান জানান, মুসলিম দেশগুলো যেন তাদের ভূখণ্ড বা কোনো সুযোগ-সুবিধা অন্য দেশে হামলার কাজে ব্যবহার করতে না দেয়, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য জরুরি।



























