ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-নাইজেরিয়ার যৌথ অভিযানে ১৭৫ আইএস জঙ্গি নিহত

যুক্তরাষ্ট্র-নাইজেরিয়ার যৌথ অভিযানে ১৭৫ আইএস জঙ্গি নিহত

পশ্চিম আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশ নাইজেরিয়ায় বড় ধরনের সন্ত্রাসবিরোধী সাফল্য পেয়েছে যৌথ বাহিনী। মার্কিন ও নাইজেরীয় বাহিনীর টানা ৩ দিনের যৌথ বিমান ও স্থল অভিযানে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কমপক্ষে ১৭৫ জন সদস্য নিহত হয়েছে। নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা যেকোনো দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসার অন্যতম প্রধান শর্ত। নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল সামাইলা উবা গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানান, গত ১৬ মে থেকে ১৯ মে পর্যন্ত ৩ দিনের এই যৌথ অভিযানে ১৭৫ জন আইএস জঙ্গিকে নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে।

অভিযানে শুধু জঙ্গি সদস্যই নিহত হয়নি, বরং তাদের অর্থনৈতিক ও সামরিক অবকাঠামোও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আইএস সদস্যদের হত্যার পাশাপাশি নাইজেরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গোষ্ঠীটির বেশ কয়েকটি চেকপয়েন্ট, অস্ত্রাগার এবং লজিস্টিক কেন্দ্র সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৮-’১৯ সালের দিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর আফ্রিকাকে নতুন ঘাঁটি হিসেবে বেছে নেয় আইএস। এই মহাদেশে তারা ‘ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স’ (আইএসডব্লিউএপি) নামে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ৩ মাসে আইএসের বৈশ্বিক তৎপরতার ৮৬ শতাংশই ঘটেছে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে।

যৌথ বাহিনীর এই অভিযানে আইএসের শীর্ষ নেতৃত্ব বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। গত ১৬ মে অভিযানে নিহত হন আবু বিলাল আল-মিনুকি, যিনি আইএসের বৈশ্বিক পর্যায়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা (সেকেন্ড ইন কমান্ড) ছিলেন।

এরপর ১৭ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত অভিযানে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন:

  • আবদ-আল ওয়াহাব: আইএসের পশ্চিম আফ্রিকা শাখা (আইএসডব্লিউএপি)-এর অন্যতম শীর্ষ নেতা।

  • আবু মুসা আল-মাঙ্গাউই: অন্যতম শীর্ষ জঙ্গি নেতা।

  • আবু আল মুথান্না আল মুহাজির: নিহত শীর্ষ নেতা আল-মিনুকির ঘনিষ্ঠ সহকারী।

পশ্চিম আফ্রিকার বৃহত্তম এই দেশটিতে গত কয়েক বছর ধরে আইএস ছাড়াও অপর আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়দা এবং স্থানীয় ‘বোকো হারাম’ পন্থি সন্ত্রাসীরা সক্রিয় রয়েছে। এই তিন গোষ্ঠীর সদস্যরা নাইজেরিয়াজুড়ে হত্যা, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, লুটপাট ও ডাকাতির মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত, যা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক পরিবেশকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে।

দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধীদের নির্মূল করতে নাইজেরিয়া সরকার ব্যর্থ হওয়ার পর, চলতি বছরে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য প্রার্থনা করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অনুরোধে সাড়া দিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে নাইজেরিয়ায় প্রায় ১০০ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা পাঠান। মূলত নাইজেরীয় সেনাবাহিনীকে সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা এদের প্রধান কাজ হলেও, বড় বড় অভিযানে তারা সরাসরি অংশ নিচ্ছেন।

নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল সামালিয়া উবা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সম্পূর্ণ নির্মূল না করা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র-নাইজেরিয়ার যৌথ অভিযানে ১৭৫ আইএস জঙ্গি নিহত

আপডেট সময় : ১২:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

পশ্চিম আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশ নাইজেরিয়ায় বড় ধরনের সন্ত্রাসবিরোধী সাফল্য পেয়েছে যৌথ বাহিনী। মার্কিন ও নাইজেরীয় বাহিনীর টানা ৩ দিনের যৌথ বিমান ও স্থল অভিযানে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কমপক্ষে ১৭৫ জন সদস্য নিহত হয়েছে। নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা যেকোনো দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসার অন্যতম প্রধান শর্ত। নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল সামাইলা উবা গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানান, গত ১৬ মে থেকে ১৯ মে পর্যন্ত ৩ দিনের এই যৌথ অভিযানে ১৭৫ জন আইএস জঙ্গিকে নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে।

অভিযানে শুধু জঙ্গি সদস্যই নিহত হয়নি, বরং তাদের অর্থনৈতিক ও সামরিক অবকাঠামোও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আইএস সদস্যদের হত্যার পাশাপাশি নাইজেরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গোষ্ঠীটির বেশ কয়েকটি চেকপয়েন্ট, অস্ত্রাগার এবং লজিস্টিক কেন্দ্র সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৮-’১৯ সালের দিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর আফ্রিকাকে নতুন ঘাঁটি হিসেবে বেছে নেয় আইএস। এই মহাদেশে তারা ‘ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স’ (আইএসডব্লিউএপি) নামে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ৩ মাসে আইএসের বৈশ্বিক তৎপরতার ৮৬ শতাংশই ঘটেছে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে।

যৌথ বাহিনীর এই অভিযানে আইএসের শীর্ষ নেতৃত্ব বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। গত ১৬ মে অভিযানে নিহত হন আবু বিলাল আল-মিনুকি, যিনি আইএসের বৈশ্বিক পর্যায়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা (সেকেন্ড ইন কমান্ড) ছিলেন।

এরপর ১৭ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত অভিযানে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন:

  • আবদ-আল ওয়াহাব: আইএসের পশ্চিম আফ্রিকা শাখা (আইএসডব্লিউএপি)-এর অন্যতম শীর্ষ নেতা।

  • আবু মুসা আল-মাঙ্গাউই: অন্যতম শীর্ষ জঙ্গি নেতা।

  • আবু আল মুথান্না আল মুহাজির: নিহত শীর্ষ নেতা আল-মিনুকির ঘনিষ্ঠ সহকারী।

পশ্চিম আফ্রিকার বৃহত্তম এই দেশটিতে গত কয়েক বছর ধরে আইএস ছাড়াও অপর আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়দা এবং স্থানীয় ‘বোকো হারাম’ পন্থি সন্ত্রাসীরা সক্রিয় রয়েছে। এই তিন গোষ্ঠীর সদস্যরা নাইজেরিয়াজুড়ে হত্যা, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, লুটপাট ও ডাকাতির মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত, যা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক পরিবেশকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে।

দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধীদের নির্মূল করতে নাইজেরিয়া সরকার ব্যর্থ হওয়ার পর, চলতি বছরে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য প্রার্থনা করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অনুরোধে সাড়া দিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে নাইজেরিয়ায় প্রায় ১০০ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা পাঠান। মূলত নাইজেরীয় সেনাবাহিনীকে সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা এদের প্রধান কাজ হলেও, বড় বড় অভিযানে তারা সরাসরি অংশ নিচ্ছেন।

নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল সামালিয়া উবা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সম্পূর্ণ নির্মূল না করা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।