মাত্র ১০ টাকা চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মুমিন নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে এবং খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতা ও পরিবহন শ্রমিকেরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স রাস্তায় রেখে এই অবরোধ সৃষ্টির ফলে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মুমিন সোনারগাঁও উপজেলার দড়িকান্দি এলাকার একজন সিএনজি চালক ছিলেন। ঘটনার দিন তিনি সিএনজি নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় একটি চাঁদাবাজ চক্র তাঁর গতিবিধি রোধ করে এবং মাত্র ১০ টাকা চাঁদা দাবি করে। মুমিন এই অন্যায্য টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চাঁদাবাজরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয়।

বিক্ষুব্ধ অপরাধীরা তাকে নির্মমভাবে মারধর ও লাঞ্ছিত করে। পরে আশপাশের লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় মুমিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একজন শ্রমজীবী মানুষকে এভাবে তুচ্ছ কারণে হত্যা করার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দা এবং সহকর্মী চালকরা সোচ্চার হয়ে ওঠেন।
তারা একটি অ্যাম্বুলেন্সে নিহতের মরদেহ রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দড়িকান্দি পয়েন্টে অবস্থান নেন এবং যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। এ সময় আন্দোলনকারীরা “মুমিন হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই” এবং “চাঁদাবাজমুক্ত নিরাপদ সড়ক চাই” বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
ব্যস্ততম এই মহাসড়কটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় রাস্তার উভয় পাশে প্রায় ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে দূরপাল্লার শত শত যানবাহন রাস্তায় আটকে পড়ে এবং সাধারণ যাত্রীদের পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনার জোরালো আশ্বাস দেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, সড়কে দিন দিন চাঁদাবাজদের উপদ্রব ও দৌরাত্ম্য অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ছে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মুমিন হত্যার মূল অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হলে এবং সড়ককে সম্পূর্ণ চাঁদাবাজমুক্ত করা না হলে পরবর্তীতে আরও বড় ধরনের কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

























