ভূমিসেবার মান বাড়ানো, নাগরিক হয়রানি কমানো এবং দালালমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক ভূমি প্রশাসন নিশ্চিত করতে উপজেলা ভূমি অফিস, রাজস্ব সার্কেল এবং ইউনিয়ন ও পৌর ভূমি অফিস নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এ জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) ১৪টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরমেন্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগ থেকে সম্প্রতি দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
১২ আগস্ট পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, জেলার ভূমি প্রশাসনের প্রধান হিসেবে জেলা প্রশাসক মাঠপর্যায়ের সব ভূমি অফিসের কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ভূমিসেবার গুণগত মান বৃদ্ধি, নাগরিক হয়রানি কমানো, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।
ডিসিদের দেওয়া ১৪ নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে-
- ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে হবে।
- ভূমি-সংক্রান্ত আবেদন, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, খতিয়ান, নকশা, রেকর্ড সংশোধনসহ অন্যান্য সেবা নির্ধারিত সময়ে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
- ভূমিসেবা নিতে আসা নাগরিকদের সঙ্গে ভালো আচরণ এবং হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেবার মান বজায় রাখতে হবে।
- অনলাইন ভূমিসেবা, ই-নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর ও ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থাপনাসহ তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবাগুলোর কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে।
- দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
- সেবার নির্ধারিত ফি, প্রক্রিয়া ও সময়সীমা অফিসে দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
- অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। ‘ভূমিসেবায় অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি সহায়তা সিস্টেম’ যথাযথভাবে ব্যবহার এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে।
- ভূমি অফিসের পরিচ্ছন্নতা, নথি সংরক্ষণ, রেকর্ড ব্যবস্থাপনা, তথ্য বোর্ড, নাগরিক সনদ, সেবার মানদণ্ড ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা হালনাগাদ আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।
- সরকারি সম্পদ, কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক, সার্ভার সংযোগসহ অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
- ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে নেওয়া কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করতে হবে।
- ভূমি আইন, বিধি, পরিপত্র এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।
- ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি এসব কেন্দ্রের কার্যক্রম নিয়মিত তদারক করতে হবে।
- আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে ভূমি অফিসগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে হবে। পরিদর্শনে কোনো সমস্যা, অনিয়ম বা সীমাবদ্ধতা পাওয়া গেলে এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। গুরুতর অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত করে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
- মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ, উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ এবং গৃহীত পদক্ষেপ উল্লেখ করে প্রতি মাসের প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সরাসরি তদারকি, কার্যকর নেতৃত্ব এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ভূমিসেবার মান আরও উন্নত করা, সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমানো এবং স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী ভূমি প্রশাসন প্রতিষ্ঠাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
























