এআই প্রযুক্তি ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। র্যাব ও সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে এই অপরাধ সংগঠিত হয়। পুলিশ এই ঘটনায় পারভেজ ব্যাপারী নামের এক যুবককে মোংলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
যৌথ অভিযানে প্রতারক পারভেজ গ্রেপ্তার
সোমবার দুপুরে বাগেরহাটের মোংলা পৌর শহরের বনফুল মিষ্টির দোকানের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিরোজপুর ও মোংলা থানা পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। পিরোজপুরের কাউখালী থানার উপপরিদর্শক মহিউদ্দিন ও সহকারী উপপরিদর্শক খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। সে সময় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।
প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়
অভিযুক্ত পারভেজ খুলনার কয়রা এলাকার সাখাওয়াত ব্যাপারীর ছেলে। সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেকে র্যাব ও সেনাবাহিনীর মেজর বা কর্নেল হিসেবে উপস্থাপন করত। এই ভুয়া পরিচয়ের মাধ্যমে সে পিরোজপুরের এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরবর্তীতে ভুয়া বিয়ের নাটক সাজিয়ে মেয়েকে নিয়মিত ধর্ষণ করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতারণা ও ধর্ষণের বিস্তারিত
অভিযুক্ত পারভেজ সুপরিকল্পিতভাবে নিজেকে প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে জাহির করত। এর ফলে সে সহজেই কিশোরীর বিশ্বাস অর্জন করে। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাত্রিযাপন করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত পারভেজ খুলনা থেকে পালিয়ে মোংলায় আত্মগোপন করে। ভুক্তভোগীর মা নিলুফা বেগম এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশের তদন্ত ও অন্যান্য ভুক্তভোগী
কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে পিরোজপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, পারভেজ একই কৌশলে আরও অনেক নারীকে প্রতারিত করেছে। ফলে এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো শক্তিশালী নেটওয়ার্ক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আসামি পারভেজের বিরুদ্ধে ধর্ষণের পাশাপাশি প্রতারণার সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।
সামাজিক সচেতনতা ও আইনি পদক্ষেপ
এই ঘটনাটি ডিজিটাল যুগে সাইবার নিরাপত্তা ও সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রযুক্তির ভুল ব্যবহারের কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে উঠতি বয়সী তরুণীরা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তাই এই ধরনের অপরাধ রোধে কঠোর আইনি প্রয়োগের পাশাপাশি ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।

























