ঢাকা ০৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেল নদীভাঙনে নিঃস্ব রামপালের শতাধিক পরিবার

মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেল নদীভাঙনে নিঃস্ব রামপালের শতাধিক পরিবার

বাগেরহাটের রামপালে তীব্র নদীভাঙনে শতাধিক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের অপরিকল্পিত খননের কারণে এই বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে স্থানীয় কয়েকটি জনপদ।

ভিটেমাটি ও অবকাঠামো নদীগর্ভে বিলীন

চ্যানেলটির প্রভাবে নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক বছরে বহু পরিবারের বসতভিটা নদীগ্রাস করেছে। বিশেষ করে রোমজাইপুর, সিংগড়বুনিয়া, ওড়াবুনিয়া ও গোলারডাঙ্গি এলাকায় ভাঙন সবচেয়ে তীব্র। প্রায় সাত কিলোমিটার পাকা সড়ক ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

นอกจากนี้, বহু ফসলি জমি, গাছপালা ও সরকারি স্থাপনা নদীগর্ভে চলে গেছে। এর মধ্যে উপজেলা কৃষি অফিস ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি বক্স কালভার্টও ভাঙনে বিলীন হয়। ফলে হাজারো মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি অচল। জোয়ারের পানিতে সড়ক বিচ্ছিন্ন হওয়ায় নৌকাই এখন চলাচলের একমাত্র ভরসা।

মানবেতর জীবন ও টেকসই সমাধানের দাবি

ভাঙনের ফলে স্থানীয় শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষি অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। রোমজাইপুর ও ওড়াবুনিয়া এলাকার প্রায় ৮০টি পরিবার বর্তমানে গৃহহীন। তারা সরকারি রাস্তার পাশে বা অন্যের আশ্রয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়া আরও দেড় শতাধিক পরিবার ভাঙনের আতঙ্কে দিন পার করছে।

প্রশাসন থেকে মাঝে মাঝে কিছু ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়। তবে এটি পুনর্বাসনের জন্য একদমই পর্যাপ্ত নয়। ভুক্তভোগীদের মতে, অপরিকল্পিত খননের ফলেই স্রোতধারা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই জিও ব্যাগ ফেলে বা সাময়িক পাইলিং করে এই ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়। তারা নদীর বাঁক সোজা করা এবং পরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা

নৌযানের ঢেউ এবং নদীর স্বাভাবিক স্রোতকে ভাঙনের মূল কারণ বলছে কর্তৃপক্ষ। তবে স্থানীয় সংগ্রাম কমিটির দাবি, মূল নকশা অনুযায়ী সব খাল ও নদী খনন করা হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বর্তমানে তিনটি পয়েন্টে ভাঙন রোধের কাজ চলছে। পাশাপাশি বড় ভাঙন রোধে নতুন টেকসই প্রকল্প পরিকল্পিত হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি দ্রুত পাইলিং বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেন। তবে টেকসই বেড়িবাঁধ না দিলে ভাঙন থামবে না বলে মনে করেন স্থানীয়রা। দ্রুত ওয়াপদা বেড়িবাঁধ বাস্তবায়ন না করলে রামপালের বহু গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিএসই লেনদেনের শীর্ষে এনভয় টেক্সটাইল

মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেল নদীভাঙনে নিঃস্ব রামপালের শতাধিক পরিবার

আপডেট সময় : ০৭:০৭:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাগেরহাটের রামপালে তীব্র নদীভাঙনে শতাধিক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের অপরিকল্পিত খননের কারণে এই বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে স্থানীয় কয়েকটি জনপদ।

ভিটেমাটি ও অবকাঠামো নদীগর্ভে বিলীন

চ্যানেলটির প্রভাবে নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক বছরে বহু পরিবারের বসতভিটা নদীগ্রাস করেছে। বিশেষ করে রোমজাইপুর, সিংগড়বুনিয়া, ওড়াবুনিয়া ও গোলারডাঙ্গি এলাকায় ভাঙন সবচেয়ে তীব্র। প্রায় সাত কিলোমিটার পাকা সড়ক ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

นอกจากนี้, বহু ফসলি জমি, গাছপালা ও সরকারি স্থাপনা নদীগর্ভে চলে গেছে। এর মধ্যে উপজেলা কৃষি অফিস ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি বক্স কালভার্টও ভাঙনে বিলীন হয়। ফলে হাজারো মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি অচল। জোয়ারের পানিতে সড়ক বিচ্ছিন্ন হওয়ায় নৌকাই এখন চলাচলের একমাত্র ভরসা।

মানবেতর জীবন ও টেকসই সমাধানের দাবি

ভাঙনের ফলে স্থানীয় শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষি অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। রোমজাইপুর ও ওড়াবুনিয়া এলাকার প্রায় ৮০টি পরিবার বর্তমানে গৃহহীন। তারা সরকারি রাস্তার পাশে বা অন্যের আশ্রয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়া আরও দেড় শতাধিক পরিবার ভাঙনের আতঙ্কে দিন পার করছে।

প্রশাসন থেকে মাঝে মাঝে কিছু ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়। তবে এটি পুনর্বাসনের জন্য একদমই পর্যাপ্ত নয়। ভুক্তভোগীদের মতে, অপরিকল্পিত খননের ফলেই স্রোতধারা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই জিও ব্যাগ ফেলে বা সাময়িক পাইলিং করে এই ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়। তারা নদীর বাঁক সোজা করা এবং পরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা

নৌযানের ঢেউ এবং নদীর স্বাভাবিক স্রোতকে ভাঙনের মূল কারণ বলছে কর্তৃপক্ষ। তবে স্থানীয় সংগ্রাম কমিটির দাবি, মূল নকশা অনুযায়ী সব খাল ও নদী খনন করা হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বর্তমানে তিনটি পয়েন্টে ভাঙন রোধের কাজ চলছে। পাশাপাশি বড় ভাঙন রোধে নতুন টেকসই প্রকল্প পরিকল্পিত হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি দ্রুত পাইলিং বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেন। তবে টেকসই বেড়িবাঁধ না দিলে ভাঙন থামবে না বলে মনে করেন স্থানীয়রা। দ্রুত ওয়াপদা বেড়িবাঁধ বাস্তবায়ন না করলে রামপালের বহু গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।